বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বিনা কারণে হিন্দু দম্পতিকে এএসআই’র মারধর
প্রকাশ: ১২:২৫ pm ২৩-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:২৬ pm ২৩-১২-২০১৭
 
কক্সবাজার প্রতিনিধি
 
 
 
 


কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হানিমুনে এসে কাবিননামা  (রেজিস্ট্রেশন) দেখাতে না পারায় এক হিন্দু নব দম্পতিকে পিটিয়েছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের আলোচিত সেই এএসআই মাসুদ। কাবিননামা সাথে না পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য হিন্দু দম্পতির কাছে টাকা দাবি করেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় ঐ হিন্দু দম্পতিকে মারধর করা হয়।

রাজিব দাস ও রুম্পা রানী দাশ নামের ঐ নব দম্পতি তাদের মারধরের বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। হিন্দু দম্পতিকে পেটানোর অভিযোগ মিথ্যা দেখিয়ে ঐ সময় মাসুদকে থেকে অভিযোগ থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়। তখন মাসুদ ছিলেন কনস্টেবল। পরে মাসুদ এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

অভিযোগ আছে, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ মাসুদের এইসব অপকর্মের সাথে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাসরি জড়িত। কক্সবাজারের ট্যুরিস্ট পুলিশের ঐ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদকে দিয়ে এইসব অপকর্ম করিয়ে টাকা আদায় করতেন।

চট্টগ্রাম ভ্যাট অফিসের চাকরীজীবি রাজিব দাশ অভিযোগ করেছেন, বছরের ১২ ডিসেম্বর তিনি তার নববিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর তারা দুজন বিচে ছাতার নিচে বসেছিলেন। তখন ট্যুরিস্ট পুলিশের কনেস্টেবল (পরে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই) তাদের কাছে এসে পরিচয় জানতে চান। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে মাসুদ এটি মিথ্যা বলে দাবি করেন। এই সময় মাসুদ রাজিব দাশকে বিয়ের কাবিননামা (রেজিস্ট্রেশন) দেখাতে বলেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়েতে কাবিননামা হয়না জানালে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য মাসুদ তাদের অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

এরপর তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন মাসুদ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এএসআই মাসুদ রাজিব দাশকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এই সময় তার স্ত্রী রুপা রানী দাশ তাকে বাঁচাতে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। ২ ঘন্টা পর ছাড়া পেয়ে রুপা রানি দাশ বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় গিয়ে মাসুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, কক্সবাজার সদর থানার ওসি আসলাম হোসেন ঐ অভিযোগটি ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বির কাছে প্রেরণ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরে ঐ সময়ের কনেস্টেবল মাসুদকে ক্লোজ করেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি। এই নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিলো। তদন্ত কমিটি ঐ দম্পতির অভিযোগের সত্যতা পায়নি জানিয়ে মাসুদকে ঐ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে মাসুদ কনেস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হন।

অভিযোগ আছে মাসুদ ১৭ মাস ধরে প্রতিদিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা দম্পতিদের আটকে বিয়ের কাবিননামা  (রেজিস্ট্রেশন) চাইতো। কাবিনামা (রেজিস্ট্রেশন) দেখাতে না পারলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতো। টাকা আদায়ের জন্য দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে দীর্ঘক্ষণ ট্যুরিস্ট পুলিশ অফিসে আটকে রাখা হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, এএসআই মাসুদ হিন্দু দম্পতিকে মারধরের ঘটনা তার মনে নেই। মাসুদকে ক্লোজ করার ঘটনাও তিনি অবগত নন বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের এই মুখপাত্র।

বিয়ের উপযুক্ত প্রমাণ ও কাবিনামা  (রেজিস্ট্রেশন) দেখাতে না পারায়  রবিবার এক দম্পতিকে দীর্ঘক্ষণ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আটকে রাখে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল। এই সময় ঐ দম্পতিকে চরমভাবে নাজেহাল করা হয়। পরে আত্মীয়-স্বজন ডেকে এনে নিজেদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের প্রমাণ দেখিয়ে রেহাই পান ঐ দম্পতি। এনিয়ে সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি মো. কায়দে আজম।

এই ঘটনাটি নিয়ে পরিবর্তন ডটকমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে এএসআই মাসুদকে ক্লোজ করা হয়। ক্লোজ করার ৬ ঘন্টার মাথায় তাকে ট্যুরিস্ট পুলিশ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71