মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
বিনা নোটিশে নাটোরে উচ্ছেদ করা হল ১৫ হিন্দু আদিবাসী পরিবারকে
প্রকাশ: ০৭:৩৬ pm ০৪-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:১৮ pm ০৪-০৫-২০১৭
 
 
 


নাটোর::  নাটোরের নলডাঙ্গার  আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৫ পরিবার উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামে এ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ কোনোপ্রকার নোটিশ না দিয়েই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিযান বাধা দিলে পুলিশ পিটিয়ে কয়েকজন আদিবাসীকে আহত করেছেন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন আদালতের প্রতিনিধি নাজির সুনীল কুমারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। বর্তমানে ওই ১৫ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাদের তিন দিনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে বসতবাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নাটোর জেলা শাখার ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কেন্দ্রীয় আদিবাসী যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন পাহান, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিভূতিভুষণ মাহাতো, আদিবাসী পরিষদের জেলা আহ্বায়ক কমিটির সচিব প্রদীপ লাখড়া প্রমুখ।

জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের ডিগ্রি কলেজের পেছনে ৩০ শতক খাস জমির ওপর ১৯৪০ সাল থেকে আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠির ১৫ পরিবার বসবাস করে আসছিল। পরে ওই ৩০ শতক খাস জমি আদিবাসীরা সরকার থেকে পত্তন পায়। কিন্তু ১৯৬৮ সালে বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী ৩০ শতক খাস জমি-সহ মোট ৫০ শতক জমি ওই গ্রামের বজলুর রশিদের বাবা ইমাজ উদ্দিনের সাথে বিনিময় করেন। ওই জমির দখল বুঝে পেতে ইমাজ উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৯৬ সালে নাটোর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ২০ বছর মামলা চলার পরে ইমাজ উদ্দিন ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর মামলায় ডিক্রি পায়। আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আদিবাসী গোষ্ঠীরা আপিল করলে তা খারিজ হয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গত ২ মে মঙ্গলবার নাটোর সহকারী জজ আদালতের রায়ে আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর ১৫ পরিবারকে পূর্ব নোটিশ না দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করে প্রশাসন।

 

উচ্ছেদের আগে বাড়িঘর থেকে কোন মালামাল বের করতে দেওয়া হয়নি বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

আদিবাসী গ্রাম পুলিশ রাজ কুমার জানান, তারা এখানে গত ৯০ বছর ধরে বাবদাদার আমল থেকেই বসবাস করছেন। কিন্ত প্রশাসনের লোকজন ঘর থেকে কোন কিছু বের করতে না দিয়ে মেশিন দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তাদের সবকিছু। এসময় বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা করে পুলিশ। এসময় তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়।

আদিবাসী কণ্ঠশিল্পী করুন সিং জানান, তিনি গান বাজনা করে সংসার চালান, কিন্তু উচ্ছেদ করার আগে তাদের যদি কিছু সময় দিত তাহলে তিনি তার গান গাওয়ার যন্ত্রাংশ রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু সময় না দেওয়ায় কোনকিছুই রক্ষা করতে পারেনি সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা।

তপন সিং নামের আরেক আদিবাসী সদস্য বলেন, সামনে তার ডিগ্রি পরীক্ষা কিন্তু উচ্ছেদের আগে পুলিশ ঘর থেকে বই খাতা বের করার সুযোগ দেয়নি।

 

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আদালতের রায়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে কোন আদিবাসীকে মারধর করা হয়নি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা হাসান জানান, বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না। পরে তিনি বিষয়টি জেনে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে তাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। এছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে ঢেউটিন, চাল, ডাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনোভাবেই তাদেরকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। জমিটি খাস কিনা তা যাচাই করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71