মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১লা কার্তিক ১৪২৫
 
 
বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস
প্রকাশ: ০৩:৪৯ pm ০৮-০৩-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:৫০ pm ০৮-০৩-২০১৬
 
 
 


এইবেলা ডেস্ক : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এর আদি নাম ছিলো আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। প্রতি বছরের ৮ মার্চ  সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালিত হয় ।

প্রতি বছরে নারীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্ব পায় ।বাংলাদেশে এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “অধিকার মর্যাদা, নারী পুরুষ সমানে সমান” ।

দিবসটি এমন একসময় হচ্ছে যখন নারী নির্যাতন বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। গড়ে ১৫ জন নারী পাচার হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন সূত্র এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারী  ধর্ষণের অধিকাংশই হচ্ছে ছাত্রী ও শিশু। নারী নির্যাতনের ভয়াবহতায় মানবাধিকার ও নারী নির্যাতনবিরোধী কয়েকটি বড় সংগঠন প্রায় প্রতিদিনই সভা –সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করছে।তবে বছরের অধিকাংশ দিন নারী নির্যাতনের বিষয়ে নির্বিকার থাকছে সমাজের অনান্য সংগঠন ও রাজনৈতিক দল ।

এই দিবসটির ইতিহাসের পেছনে রয়েছে একটি সূতা কোম্পানির  নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা ১২ ঘন্টার বদলে ৮ ঘন্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা।

সেই মিছিলে চলে সরকারি লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই। তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’।
১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। এভাবেই ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে থাকে।

বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে জাতিসংঘ। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয় এই দিবসে ।

এই বিশেষ দিবসটিকে পৃথিবীর বহু দেশের মত আমাদের দেশেও নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হচ্ছে ।দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব, রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রগুলো  বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। সরকারি টেলিভিশন ও বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনলাইন পত্রিকাগুলো নারী সংক্রান্ত বিশেষ সংবাদ ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে।

এইবেলা ডটকম/এএস
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71