মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৭ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির বন্ধু তালগাছ
প্রকাশ: ০৩:৪৯ pm ২৩-০১-২০১৯ হালনাগাদ: ০৩:৪৯ pm ২৩-০১-২০১৯
 
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
 
 
 
 


ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ। ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা। ও বগী তুই খাস কি পানতা ভাত চাস কি? পানতা আমি খাইনা পুঁটি মাস পাই না একটি যদি পাই অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই, এই কবিতার লাইনগুলো সবার জানা। তালগাছ আর গাঁয়ের এমন দূশ্য দেখে এই কবিতার কথায় বার বার মনে পড়ে যায়। দূরের গ্রামের এমন অকূত্রিম দূশ্য সত্যিই মন ভোলানো দৃশ্য। দুরের তালগাছ আর গ্রামের কুড়ে ঘরের দূশ্য আমাদের বাংলাদেশের এক অকূত্রিম অনুভূতির বহি:প্রকাশ। গ্রামবাংলার সব দূশ্যই এক অনন্য। এমন মাটি আর গাছপালার ছবি যে কারোও হৃদয়কে নাড়া দেবে। এমন একটি সুন্দর ছবির জন্য সৃষ্টিকতাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

কথায় আছে তালগাছ মানেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। আকাশ ছুঁই ছুঁই সারি সারি তালগাছ সেই আদিকাল থেকে গ্রামবাংলার শোভা বৃদ্ধিতে অকৃত্রিমভাবে ভূমিকা রেখে চলছে। সারি সারি তালগাছ দেখে মানুষের মন জুড়াতো। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় এবং শোভা সৃষ্টিতে যে তালগাছের জুড়ি মেলেনা। সেই তালগাছ প্রকৃতি থেকে হারিযে যাচেছ দিন দিন। নিকট অতীতেও যে তালগাছ শোভা ছড়াতো গ্রামবাংলায় আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতো প্রকৃতির সেই নিকট ভবিষ্যতে চোখে তেমন এখন আর পড়েনা বলে মনে করছেন। পৃর্ব বড়ভিটার (সেনের খামার) শ্রী বিপ্লব চক্রবতী প্রবীন এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন চোখে পড়ার মত হলেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক আর নানা উপকারি এই তালগাছ রক্ষায় তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় ক্রমেই এটি হারিয়ে যাচেছ। এক সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে কানাচে আর বিভিন্ন সড়ক আর মহাসড়কের পাশে সারি সারি তালগাছ শোভা পেতে দেখা গেছে কিন্তু সেই চিরচেনা দূশ্য আর চোখে পড়ে না তেমন। এখন হঠাৎ কোন কোন রুপসী গ্রামবাংলায় দু চারটি তালগাছ চোখে পড়ে কিন্তু সেসব তালগাছ আবার কারো লাগানো নয় এমনিতেই এসব তালগাছ ঝোপ ঝাড়ে বা জঙ্গলে বেড়ে উঠেছে। হয়তোবা কেউ তার খেয়ে তালের বীজ ফেলে রেখে গেছে সেই বীজ থেকেই মুলত হয়ে ওঠেছে এসব তালগাছ।অতীতে অপরিচিত মানুষের বাড়ী, জমি, পুকুর, মাঠ, মসজিদ, মন্দির মঠ, গিজা, স্কুল, কলেজ,ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থান চেনানোর জন্য সেক্ষেত্রে বলা হত উচুঁ ঐ তালগাছটির পাশে। এমধ কি সরকারি ও বেসরকারি কাজে নানান দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রেও তালগাছের সহায়তা নেওয়া হত।তালের পিঠা,তালের গুড় আর তালের রস সব মানুষের নিকট খুবই মজাদার খাবার। বিশেষ করে তালের পিঠা দিয়েই অতীতে জামাই বাড়ী, শ্বশুর বাড়ী, বেয়াই বাড়ী, মেয়ের শ্বশুর বাড়ী, ছেলের শ্বশুর বাড়ীসহ নানান আত্নীয়তার বন্ধন রচিত হত। অতীত সময়গুলোতে তালপিঠা ছাড়া গ্রামবাংলায় আত্নীয়তা কল্পনাই করা যতনা।

এছাড়াও তালগাছের পাতায় তৈরি করা হয় নানা রংঙের বা ডিজাইনের হাতপাখা কিন্তু গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই তালগাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওযায় গ্রামবাংলার পরিবারগুলোতে নেই সেই তালপিঠার আত্নীয়তা। সেই তালগাছ আজ প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচেছ।

নি এম/রতি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71