মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বেনাপোলে হরিদাস ঠাকুরের তিথী মহোৎসব শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর
প্রকাশ: ০৩:৫০ pm ২০-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:৫০ pm ২০-০৯-২০১৮
 
বেনাপোল প্রতিনিধি:
 
 
 
 


দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল সীমান্তের ঐতিহ্য ব্রক্ষ হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম। প্রতি বছর এখানে হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যান তিথী মহৌৎসবসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যান তিথী মহৌৎসবসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের আগমনে মুখরিত হয় পাটবাড়ি আশ্রম। কালের আবর্তে হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রমটি আজ হয়ে উঠেছে একটি দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে প্রায় ছয়‘শ বছরের মাধবীলতা আর সুপ্রাচীন তমাল বৃক্ষ। আর এই তমাল বৃক্ষের ছায়া তলে হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান জাকজমকভাবে পালিত হয়। এছাড়া ব্রক্ষ হরিদাস ঠাকুরের জীবনী, ভাগবত আলোচনা, কীর্ত্তন, নির্য্যান লীলা আস্বাদন, ভক্তিগীতি ও পদাবলী কীর্ত্তন নিয়ে এখানে পালিত হয় নির্য্যান তিথী মহৌৎসব। দেশের ৬৪টি জেলা এবং বিভাগীয় শহর থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশ ঘটে এখানে। তাছাড়া এ সময়  এখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভক্তরাও যোগদেন এ সব অনুষ্ঠানে। 

জাতিভেদ অন্ধ-কুসংস্কার অনাচারের মধ্যে যখন হিন্দু জাতি ডুবে ছিল সেই সন্ধিক্ষণে জাতিকে মুক্ত করতে জন্ম নেন কলির ভগবান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। এদিকে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার কেড়াগাছি গ্রামে ভক্তরুপে জন্ম নেন হরিদাস। হরিদাস ঠাকুর যিনি কলির জীবগণের উদ্ধারের জন্য তার সুমধুর কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্ত্তন করে নামাচায্য নামে এবং ব্রক্ষত্ব অর্জন করে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বদন দেখতে দেখতে মহাপ্রভুর কোলে অস্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং মহাপ্রভু নিজ হস্তে পারিষদ বর্গ সঙ্গে করে পুরীধামে তার সমাধি স্থাপন করেন। হরিদাস ঠাকুর ছিলেন প্রকৃত বৈষ্ণবের জলন্ত নিদর্শন এবং দৈন্যের অবতার। 

হরিদাস ঠাকুরের সাধন কানন নামে খ্যাত বেনাপোল পাটবাড়ি। যেখানে হরিদাস ঠাকুর প্রতিদিন তিন লক্ষ নাম জপকীর্ত্তন এবং বন্ধ জীবগণের অন্তরে মুক্তির আলো প্রবেশ করিয়ে মানব কুলকে ধন্য করেন। যেখানে চিরপতিত সুন্দরী লক্ষ্মীহীরা হরিনাম মহামন্ত্রে হরিদাস ঠাকুরের কৃপা লাভে পরম বৈষ্ণবী হয়ে যান। হরির নাম মিশ্রিত প্রতিবিন্দু ধুলিকণা, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পদধুলি, হরিদাসের কৃপা লাভে অবনত মস্তকে দণ্ডায়মান সুপ্রাচীন তমাল বৃক্ষ, মাধবী লতা আজ বৃক্ষে পরিনত। সেই সিদ্ধপীঠ তীর্থ ভুমি হরিদাস ঠাকুরের ভজন স্থলি শ্রীধাম পাটবাড়ি।

পাটবাড়ি আশ্রমে রয়েছে হরিদাস ঠাকুরের জীবনীর উপর একটি মিউজিয়াম সেন্টার,  সুপ্রাচীন তমাল বৃক্ষ, মাধবীলতা, সিদ্ধবৃক্ষ, যা থেকে পাওয়া যায় চৈত্র মাসে পাকা কাঁঠাল। ১২/১৪ ফুট মাটির নিচে সুরঙ্গে সিড়ি বেয়ে গেলে দেখতে পাবেন গীরিগবরধন মন্দির। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং দেশ-বিদেশ থেকে শত শত দর্শনার্থী দেখতে আসেন এটি। তবে আশ্রমের সুবিশাল প্রবেশ দার দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে কোন টিকিট বা টাকা না লাগলেও মাটির নিচে গীরিগবরধন এবং মিউজিয়াম দেখতে টিকিট লাগে।

যশোর-কলকাতা রোডের বেনাপোল বাজারের পাশেই পাটবাড়ি আশ্রম। যশোর থেকে এটির দূরত্ব মাত্র ৩৮ কিলোমিটার এবং কলকাতার শেয়ালদাহ রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার। বাস বা ট্রেন যোগে আসা যায় এখানে।

এ মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা এখানে থাকতে পারেন। তবে তাকে খেতে হবে নিরামিষ খাবার। থাকা বা খাওয়ার জন্য আলাদা কোন পয়সা অতিথিদের কাছ থেকে নেয়া হয় না। তবে অতিথিরা টোকেন ম্যানি দিয়ে থাকেন।

এ আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক শ্রী আনন্দ দেবনাথ জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখানে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কোন কোন অনুষ্ঠান ২-৩ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে  বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে এখানে।

এবার নির্য্যান তিথী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুকুমার দেবনাথ জানান, সনাতন ধর্মের অন্যতম তীর্থ স্থান পাটবাড়ি আশ্রম নামে খ্যাত। ভক্ত এবং সাধু সন্যাসীদের আগমনে মুখরিত হবে পাটবাড়ি আশ্রম। প্রতি বছর অনন্ত চর্তুদশীতে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সেই প্রত্যাশা নিয়ে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। অন্য বছরের চেয়ে এবার ভক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

পাটবাড়ি আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ফনি ভূষণ পাল জানান,  ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমটি আজ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকল অনুষ্ঠান এখানে স্বাধীনভাবে পালন করা হয়।

আশ্রমের সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, এ আশ্রমে দেশ-বিদেশ থেকে যে সমস্ত ভক্ত বা দর্শনার্থীরা আসেন তাদের এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয় আশ্রমের পক্ষ থেকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ থাকে না এখানে। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানগুলো হয় মুখরিত।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71