শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বেলকুচিতে জলের জমিনে সবুজের সমারোহ ও তরমুজের বাম্পার ফলন
প্রকাশ: ০৩:৪৭ pm ২০-০৩-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:৪৭ pm ২০-০৩-২০১৬
 
 
 


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘ক্ষেতে-ক্ষেতে লাঙলের ধার, মুছে গেছে কতবার, কতবার ফসল কাটার সময় আসিয়া  চলে গেছে কবে! শস্য ফলিয়া গেছে, তুমি কেন তবে রয়েছ দাঁড়ায়ে, একা একা! ডাইনে আর বাঁয়ে, পোড়ো জমি খড় নাড়া মাঠের ফাটল,শিশিরের জল!’

 

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘মেঠো চাঁদ’ কবিতা এখন সত্যি হয়ে ধরা পড়ছে  সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনার কোল ঘেষা চরাঞ্চল এলাকায়।

 

যে জমিনে বছরের একটা সময় পর্যন্ত দিগন্তে যতোদূর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি, সেই জমিনেই এখন যতোদূর চোখ যায় শুধু ধুধু বালুর চর। ফলে চরাঞ্চলের প্রতিটি এলাকা হয়ে উঠেছে ফলের আবাদ আর সবুজের এক অপূর্ব সম্মিলন। একই জমিতে তলিয়ে দেয়, ভাসিয়ে নেয়। আবার সেই জমিতেই ফলানো সোনা হয়ে ওঠে এখানকার বাসিন্দাদের জীবনের পাথেয়। এমনকি, পানির রাজ্যে এখন ফসলের জন্য হয়ে উঠেছে ফলনের রাজ্য। চরাঞ্চলে পরিবেশ-জীবন সংগ্রামের এ বৈপরীত্য, প্রকৃতির এই বদল নিয়ে চরাঞ্চল হয়ে উঠেছে মন্ত্রমুগ্ধ এক মর্ত্য। স¤প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা যমুনার চর এখন আর বর্ষার সেই টই-টম্বুর রূপ নেই। নেই পানিতে-পানিতে ভাসমান দ্বীপ সদৃশ জনপদ। সেখানে এখন আদিগন্ত সবুজের গালিচা ও নানা জাতের ফল, যেমন-তরমুজ, বেলে ভাঙ্গী। অগ্রহায়নের শুরুতে এই যুমনার চরে ধান, বাদাম, তরমুজ, মিষ্টি কুমড়োর আবাদের রূপ ধুধু বালুর চরকে করে তুলেছে অনিন্দ্যসুন্দর।

 

 উপজেলার চরাঞ্চল আফজালপুর, নছিমপুর, গোয়ালিয়া হোসেন, বার পাখিয়া, কাকুয়া, বেলকুচির চর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার কৃষকরা এখন ব্যতিব্যস্ত।  গরমের অতিষ্ঠতা তপ্তরোদের পীঠ পুরে গেলেও ফসল আর ফলের পরিচর্যায় সূর্য উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন তারা। এখন চলছে ফসল ও নানা জাতের ফলের পরিচর্যা।

 

ভোরে শিশিরভেজা পথ মাড়িয়ে কৃষকদের ছুটছেন মাঠে। সারাদিন কাজের ফাঁকে তাদের মনে কেবলই বার বার দুশ্চিন্তায় উঁকি দিয়ে যাচ্ছে আসছে বৈশাখের শেষে নতুন জোয়ার, ভেসে যাবে সব কিছু। তার পূর্বেই সোনালী ফসল ও তরমুজ তুলে  বিক্রি করতে হবে তাড়াতাড়ি।

 

আফজালপুর চরের বাসিন্দা রঘু মিয়া (৪০), নছিমপুর  চরের মেরাজ মিয়া (৩০), কাকুয়া চরের বাদল মিয়া (২৫), গোয়ালিয়া হোসেন চরের নছিম উদ্দিন (৪০) জানান, তারা এতো পরিশ্রম করে ধানের আবাদ ও নানা জাতের ফলের আবাদ করেও তরমুজ, বাঙী আবাদ করলেও খুব বেশি মুনাফা হয় না। তবে এবার আমাদের নতুন মাত্রা যোগ করেছি তরমুজের আবাদ। দুর দুরান্ত থেকে পাইকার না আসলেও বেলকুচি, সিরাজগঞ্জের পাইকার আসছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমরা অধিক মুনাফার আসায় তরুমুজের আবাদ করেছে। ফলন হয়েছে ভাল, বিক্রিও হচ্ছে। তারা আরও জানান, বেলের মাটির তরুমুজ গুলো দেখতে  কালো। আকারে ছোট এবং মাঝারি ধরনের। যদি আমরা ধানের চাইতে তরমুজে বেশি লাভ হতে পারি, তাহলে তরমুজ চাষে আগ্রহ হয়ে উঠব। বেলে মাটির তরমুজ গুলোর খোসা মোটা থাকায় অনেক গ্রাহকই বেশি পছন্দ করে না। কিন্তু ফরমালিন মুক্ত একমাত্র তরমুজ যমুনার চরের তরমুজ। চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তরমুজ পেকে জায় এবং পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। বৈশাখের যমুনা নদীর জোয়ার আসার পূর্বেই আমাদের তরমুজ গুলো বিক্রি করে দিত পারবো এবং ঘরে তুলে নিতে পারবো ধান এই আশা ভরষা নিয়েই আছি।

 

নছিমপুর চরের মেরাজ মিয়া জানান, প্রথম প্রথম তরমুজ আবাদ করে বেশ লাভ হচ্ছি। গড় হিসাবে একটি তরুমুজ পাইকারদের কাছে ৫০-৬০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। বেলকুচির প্রধান বাজার মুকুন্দগাঁতীর ওয়াপদ রোডে তরমুজের আমদানীও করেছে পাইকাররা। বিক্রিও হচ্ছেও ভাল।

 

এইবেলাডটকম/চন্দন/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71