রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ১২ই ফাল্গুন ১৪২৫
সর্বশেষ
 
 
বেড়েছে রেমিটেন্স প্রবাহ
প্রকাশ: ০৯:৪৪ am ০২-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:৪৪ am ০২-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বেড়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ। সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ৯৪ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্নমুখী উদ্যোগের কারণে গত অক্টোবর মাস থেকে এই রেমিটেন্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। অক্টোবর মাসে ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে দেশে। যা গত সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি। আর ২০১৬ সালের অক্টোবরের চেয়ে এই পরিমাণ ১৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের (২০১৬-১৭) একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স বেড়েছে ১২.৪৬ শতাংশ।

তবে চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির তুলনায় প্রবাসীরা ২৩ কোটি ডলার কম পাঠিয়েছেন। জানুয়ারিতে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন ১৩৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। আর বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১১৬ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৬৯৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের এই ছয় মাসের চেয়ে ১২.৪৬ শতাংশ বেশি। প্রবাসীরা গত বছরের নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এর আগে, অক্টোবরে পাঠিয়েছিলেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই হিসাবে নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০১৮ সালে রেমিটেন্সের খরা পুরোপুরি কেটে যাবে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক এই রেমিটেন্স বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী জুন (২০১৮) নাগাদ অর্থাৎ এই অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স প্রবাহ একহাজার ৫০০ কোটি বা ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হুন্ডি প্রতিরোধে অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাবেও রেমিটেন্স বাড়ছে। ডলারের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক তার নিজের স্বার্থেই ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের রেমিটেন্স আনার চেষ্টা করছে। সে কারণেও রেমিটেন্স বাড়বে। এছাড়া শ্রমশক্তি রফতানিও বেড়েছে। এরও একটা প্রভাব পড়বে পুরো ২০১৮ সাল জুড়ে।’

গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আগের বছরের (২০১৫-১৬) চেয়ে প্রায় ১৪.৪৮ শতাংশ কম রেমিটেন্স আসে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। রেমিটেন্স প্রবাহের মাস হিসেবে গত ছয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন। শুধু সেপ্টেম্বরই নয়, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই রেমিটেন্স কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে, রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেওয়াসহ বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রবাসীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। সর্বশেষ হুন্ডিরোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিটেন্স বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭ জন এজেন্টের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার পাঠান প্রবাসীরা। সেপ্টেম্বরে পাঠিয়েছেন ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে পাঠিয়েছেন ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ও নভেম্বর মাসে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

বিএম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71