সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বোন ও ভাগ্নির ছবি না দেওয়ায় ভক্ত সরকারকে হত্যা করে শাকিল 
প্রকাশ: ০৯:৫৭ am ১৫-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৫৭ am ১৫-০৮-২০১৭
 
নবাগঞ্জ প্রতিনিধি
 
 
 
 


হত্যাকাণ্ডের ছয়মাস পরও নবাবগঞ্জের সনাতন ধর্মালম্বী ভক্ত সরকারের (২৩) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। এ কারণে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও অভিযোগপত্র দিতে পারছে না পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল সরকার এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ কয়েকজন বখাটে ভ্ক্ত সরকারের বোন ও ভাগ্নির ছবি চায়। ভক্ত সরকার এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় কীর্তন দেখার সময় তাকে পেছন দিক থেকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ১৫ মার্চ তার ভাই সুশান্ত সরকার বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে সুশান্ত উল্লেখ করেন,  ১৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তার ভাগিনা সাগর (১৩), বৌদি কানন সরকার (৩৮), ভাতিজি কোয়েল সরকার ওরফে আলো (১৮) ও তার বড়বোন মনি সরকার (৪০) সোনাবাজুর বিজয় বাড়ির পূর্বপাশে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলছিলেন। ওই ছবি তোলার পরে বিজয় সরকারের বাড়ির পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার ভাগিনা সাগর। তখন সাগরের কাছ থেকে কোয়েল সরকারের ছবি তাকে দেখাতে বলে এলাকার বখাটে শাকিল। ওই ছবি তার মোবাইলেও দিতে বলে সে। এ সময় সাগর জানায় তার কাছে কোনও ছবি নেই, মোবাইল তার মায়ের কাছে। তখন শাকিল তার বন্ধু হাসান (২২) ও আব্দুল্লাহকে ডেকে নিয়ে আসে। তারা পুনরায় সাগরের কাছ থেকে ছবি নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। সাগর ছবি দিতে অস্বীকার করলে হাসান তাকে চরথাপ্পড় দেয়। এমনকি হত্যারও হুমকি দেয়। সাগর এই ঘটনা তার মাকে জানায়। এঘটনার পর সুশান্তের ছোট ভাই ভক্ত সরকার বিষয়টি জানার জন্য হাসান, শাকিল ও আব্দুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এরপর এলাকার গণ্যমান ব্যক্তি গুরুদাস ও সদের আলীসহ স্থানীয় লোকজনকে জানালে উভয়পক্ষকে তারা মীমাংসা করে দেন।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরপর রাত ৭ টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজয় সরকারের বাড়ি পূর্বপাশে কাঁচা রাস্তায় দাড়িয়ে কীর্তন অনুষ্ঠান দেখতেছিলেন ভক্ত সরকার। এ সময় হাসান পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ভক্তের পেছন দিক থেকে রড দিয়ে হাসান মাথায় আঘাত করে। ভক্ত মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তখন তার মামা খগেন মণ্ডল, সবদের আলীসহ স্থানীয়রা ধরে ভক্তকে প্রথমে বারুয়াখালী ফয়সাল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে তার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ভাইয়ের সৎকার ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ মার্চ নবাগঞ্জ থানায় মামরা করেন সুশান্ত। মামলা নম্বর-৭। মামলাটি তদন্ত করছেন নবাগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল সরকার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধান আসামি হাসানকে মানিকগঞ্জে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর আদালতে সে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।’

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘মূল আসামি হাসান। হত্যার সময় সে একাই ছিল। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। তবে তাদের পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত ঝুলে আছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য। রিপোর্ট পেলে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া যেত। কিন্তু ঘটনার ছয়মাস পরও আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি সপ্তাহে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে খোঁজ নেই। কিন্তু রিপোর্ট এখনও হয়নি। কেন রিপোর্ট হচ্ছে না, তাও জানি না।  ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিতে এতদিন লাগার কথা নয়।’

মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, একজন নারী চিকিৎসককে ভক্তের লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রস্তুতের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি রংপুরে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য রয়েছেন। তাই রিপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি ছাড়া এই কাজ আর কেউ করবেন না।

এবিষয়ে জানার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ফরেনসিক বিভাগের প্রফেসর বেলায়েত হোসেন সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অখিল বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এখানে কিছুই করতে পারছি না। এই রিপোর্ট না পেলে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না।’

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71