শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ব্যাংকগুলোকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
প্রকাশ: ০৩:৫৬ pm ২৩-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৩:৫৬ pm ২৩-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


নিরক্ষর গ্রাহকরা যাতে সহজে ও ঝুঁকিমুক্তভাবে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারেন সেজন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ব্যাংক শাখাগুলোকে বায়োমেট্রিকের তথ্য ধারণ ও যাচাইয়ের সক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিরক্ষর গ্রাহকদের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই প্রক্রিয়া সম্পাদন করার পাশাপাশি নিরক্ষর গ্রাহকদের সহজেই শনাক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক), চোখের মণির প্রতিচ্ছবি চিহ্নিতকরণ (আইরিশ রিকগনাইজেশন) ও শরীরের বিশেষ কোনো দাগ চিহ্নিতকরণ (ফিজিক্যাল রিকগনাইজেশন) ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। যাতে এমন গ্রাহকরা সহজে ও নির্বিঘ্নে যেকোনো শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বায়োমেট্রিক, আইরিশ রিকগনাইজেশন ও ফিজিক্যাল রিকগনাইজেশন পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোকে বায়োমেট্রিক তথ্য ধারণ ও যাচাইয়ের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। সেসঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, নিরক্ষর গ্রাহককে প্রতিবার অর্থ উত্তোলনের জন্য যেকোনো শাখায় সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্রাহক তার কোনো নিকট আত্মীয় বা পরিচিতজন সঙ্গে আনতে পারেন যিনি গ্রাহকের চেক লিখতে সহায়তা দেবেন। তবে ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে গ্রাহক ব্যাংক শাখায় আসতে অক্ষম হলে তার অনুরোধে শাখা ব্যবস্থাপক মনোনীত ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে চেক লিখন, পঠন ও গ্রাহকের সম্মতি প্রদান নিশ্চিত করতে পারে এবং গ্রাহকের সম্মতিক্রমে তা পরিবারের কোনো সদস্যকে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তোলনকারীর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিরক্ষর গ্রাহক যদি তার সঙ্গে কাউকে না আনেন, সেক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তার চেক লিখে দিতে সহায়তা দেবেন। ব্যাংক কর্মকর্তা চেকে লিখিত টাকার পরিমাণ গ্রাহককে পড়ে শোনাবেন। গ্রাহক সম্মতি জানালে ব্যাংক কর্মকর্তা নগদ প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি পরিপালন করে নগদ পরিশোধের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে পাঠাবেন।

ওই নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ব্যাংক কর্মকর্তা চেক লিখে দেওয়ার সময় গ্রাহকের কাছ থেকে একটি ‘ঘোষণাপত্র’ নেওয়া যেতে পারে (যা ছক আকারে ব্যাংক শাখার কাছে সংরক্ষিত থাকবে)। ওই ঘোষণাপত্রে গ্রাহকের আঙুলের ছাপের পাশাপাশি চেক লেখক ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ নাম, পদবি, আইডি এবং ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সাক্ষীর স্বাক্ষরসহ নাম, পদবি, আইডি ইত্যাদি থাকবে। চেক লেখার প্রক্রিয়াটি শাখার এমন দৃষ্টিগোচর স্থানে সম্পাদন করতে হবে যেখানে সিসিটিভির কাভারেজ রয়েছে।

এছাড়া গ্রাহক ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে চেকের নির্ধারিত স্থানে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ দেবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রত্যয়ন করবেন এবং ব্যাংকে রক্ষিত ছবির সঙ্গে উপস্থিত গ্রাহকের চেহারা যাচাই করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের নিকট আত্মীয়/প্রতিনিধির মাধ্যমে চেকটি কাউন্টারে উপস্থাপন করা যাবে না। এছাড়া নিরক্ষর গ্রাহকদের সেবা প্রদানের কার্যক্রম হেল্প ডেস্কের আওতাভুক্ত করা যেতে পারে। নিরক্ষর গ্রাহককে এটিএম কার্ড সুবিধা আপাতত না দেওয়াই সমীচীন হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরক্ষর গ্রাহককে সচেতন করতে ব্যাংক নিজেই উদ্যোগ নিতে পারে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71