সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
হিন্দুরা বাংলা নাম রাখলেই হিন্দু নাম হয়ে যায় না : গাফ্ফার চৌধুরী
প্রকাশ: ০২:২৫ am ০৯-০৭-২০১৫ হালনাগাদ: ০২:২৫ am ০৯-০৭-২০১৫
 
 
 


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুধী সমাবেশে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর আল্লাহ’র ৯৯ নাম নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশজুড়ে বিতর্ক হলেও সেদিন তিনি আরও কিছু কথা বলেছিলেন। যা গণমাধ্যমে সঠিকভাবে আসেনি।

গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বাংলাদেশ মিশন-এর বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সুধী-সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে এ কথা বলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত এই আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশঃ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত’। আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন-পাকিস্তানী শাসকরাই শুধু নয়, অনেক আগে ভারত বর্ষের ব্রাক্ষ্মণরা বাংলা ভাষাকে দমন করার চেষ্টা করেছিল।

গাফফার তার বক্তব্যে আরব শাসকদের যেমন সমালোচনা-ভৎসর্ণা করেছেন, তেমনি এক সময়ের ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হিংস্রতার কথাও বলেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন-বাংলা ভাষার নাম-এর কোন ধর্মীয় পরিচয় নেই। হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মের বাঙালীরা এই নাম রাখতে পারে। হিন্দুরা বাংলা নাম বেশি রাখে বলে তা হিন্দু নাম হয়ে গেল না।

গাফফার চৌধুরী বলেছেন, বাংলা ভাষাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল ভারত বর্ষের ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়। হাজার বছর আগে এবং পরে বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষার প্রতি তারা আঘাত করেছেন। তবে সফল হয়নি। বাংলা ভাষাকে নিচু লোকদের ভাষা বলে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় এ ভাষাকে পরিহারের সবচেষ্টাই করেছিল। তারা বাংলা ভাষাকে নরকের ভাষা বলে অভিহিত করতো। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখে। ওই সময়ের শাসকরা চর্যাপদ ধ্বংস করেছিল। চর্যাপদ-এর একটি গ্রন্থ নিয়ে বৌদ্ধরা নেপালে পালিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে চর্যাপদ ফিরে আসে।

গাফফার আরো বলেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি করেছিল ব্রাহ্মণরাই। তিনি বলেছেন, সেন বংশও বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। তবে পাঠানদের আমলে বাংলা ভাষা সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। আবার বৃটিশ শাসনামলে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় বাংলা ভাষার সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়।

তিনি বলেন, প্রমথ নাথ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও আন্দোলন করেছেন। চলতি বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি সাধু বাংলা ভাষার পক্ষে ছিলেন।

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী আরো বলেন, মেহনতি, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষদের ভাষা ছিল এই বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষায় বেদ-বেদান্ত পাঠ করার তীব্র বিরোধী ছিল ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়।

তিনি আরো বলেছেন- বাংলা ভাষায় অনেক ভাষার শব্দ এসে মিশে, তা সমৃদ্ধ করেছে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অনেক কবিতায় আরবী ও ফার্সী শব্দ ব্যবহার করেছেন। এতে তাঁকে সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। এমনকী, রবীন্দ্রনাথও নজরুলের সমালোচনা করেছেন।

গাফফার চৌধুরী বলেছেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু জাতীয়তা পরিবর্তন করা যায় না। বাঙালীরা বরাবরই লড়াকু এবং বাংলা ভাষা অসম্প্রদায়িক। তিনি আরো বলেন,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রক্ষা প্রচীর হচ্ছে বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলা ভাষা।

আল্লাহ’র ৯৯টি নাম কাফেররা ব্যবহার করতো উল্লেখ করে গাফফার চৌধুরী বলেছেন, আবু হুরারা নামের অর্থ-বিড়ালের বাবা, আবু বকর নাম হচ্ছে ছাগলের বাবা। এই নাম রাখা হচ্ছে এর অর্থ না জেনে। মক্কা শরীফের গেটগুলোর নাম বাদশা’র পরিবারের সদস্যদের নামে। কেন? নারীদের মক্কায় কাবা শরীফে প্রবেশ করতে দেয়া হয়, মদীনায় রওজা শরীফে দেয়া হয় না। কেন? তিনি বলেছেন, আল্লাহ’র যে ৯৯টা নাম, তাতো কাফেররা ব্যবহার করতো। এটি আরবী নাম। এর তো পরিবর্তন হয়নি। তবে কেন বাংলা নামকে হিন্দু বলে দূরে ঠেলে দেয়ার প্রবণতা? ভাষা একটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি। এখানে ধর্ম টেনে আনা কেন? সৌদি আরব নামটিও বাদশাদের নামে। আল্লাহ বা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নামে কেন এই রাষ্ট্রের নামকরণ হয়নি-এই প্রশ্ন করেন তিনি। এক ভাষাভাষী হওয়া সত্বেও আরবদের মধ্যে বিভেদ বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন-আল্লাহ’র ৯৯ নাম কাফেররা ব্যবহার করতো, তাদের দেব-দেবতার নামে। তারাও এই নাম রাখতো তাদের সন্তানদের। হযরত মুহাম্মদ ইসলাম কায়েম করার পর এই সব নাম পরিবর্তন বা বাদ দেননি। কারণ-নামগুলো আরবী ভাষার। তিনিও আরবী ভাষায় (ঐ নামগুলো) রেখেছেন।

তিনি আরো বলেছেন-রসুল্লাহ মানে আল্লাহ’র রসুল। হযরত মোহাম্মদ ছিলেন। আর রসুল অর্থ দূত। দূত হিসাবে রসুল (আরবী শব্দ) অর্থ ব্যবহার করা যায়।

তিনি বাঙালি মুসলিম নারীর হিজাব পরাকে বলেছেন-আরবীয় কালচার এটি। বাঙালী কালচার হচ্ছে-শাড়ি-টিপ। কট্টর মোল্লারা আরবীয় কালচারা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে-বলেছেন। কী ভুল বলেছেন? তিনি এও বলেছেন-কোরআনে নারীকে পর্দা করার কথা বলা হয়েছে।


এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71