মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
বড়দিনের তাৎপর্য : যিশুখ্রিস্টের মাহাত্ম্য
প্রকাশ: ০৪:৫৫ pm ২৩-১২-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:৫৫ pm ২৩-১২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আগামী মঙ্গলবার ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব- শুভ বড়দিন বা হ্যাপি ক্রিস্টমাস ডে। দেড় হাজার বছরেরও অধিককাল ধরে এ দিনটি খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের মাঝে পালিত হয়ে আসছে স্বমহিমায়। দেশে দেশে অনুষ্ঠানটি পালিত হয় নানা আড়ম্বরতায়। বেশিরভাগ দেশেই বড়দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকে। ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানো থেকে সান্তা ক্লজের আবির্ভাব, উপহার কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি, মজার মজার খাওয়া আর প্রিয়জনের সান্নিধ্যে দিনটি কেটে যায় পরম আনন্দে। দিনটি খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। 
 
ঐতিহাসিক সাক্ষ্য অনুযায়ী রোমান সাম্রাজ্যের সময় ৩৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বড়দিনের উৎসব পালন করা হয়। পোপ জুলিয়াস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে বড়দিনের উৎসব করার কথা ঘোষণা করেন। সেই থেকে দেশে দেশে বড়দিনের উৎসব হয়ে আসছে নানাভাবে। তবে আশ্চর্য ব্যাপার, এই ক্রুসেডের আগে বড়দিনের উৎসব তেমন গুরুত্বপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না এবং তা ইউরোপের বাইরে ছড়ানোর প্রশ্নই আসে না। খ্রিস্টানদের এই একটিই বড় ধর্মীয় উৎসব।

মূলত মধ্যযুগের পর একেবারে আধুনিক সময়ে এসে বড়দিনের উৎসব সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে অনেকটা ঔপনিবেশিকতার হাত ধরেই। আজ তা প্রায় এক সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। অনেক দেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষও বড়দিনের উৎসব পালন করে। অবশ্য তাদের উৎসবের আমেজ খাওয়া-দাওয়া আর ঘোরাফেরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ২৫ ডিসেম্বর তারিখে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। এ দিনটিই যিশুর প্রকৃত জন্মদিন কিনা তা নিয়ে নানা ভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারে এই তারিখের ঠিক নয় মাস আগে মা মেরির গর্ভে এক আলোকজ্যোতির মতো প্রবেশ করেন যিশু। এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয়। ভিন্ন তথ্যমতে এটি একটি ঐতিহাসিক রোমান উৎসব।

দিন-তারিখ ইতিহাস নিয়ে যতোই বিতর্ক থাক তাকে যিশু খ্রিস্টের মাহাত্ম্য কোনোভাবেই ম্লান হয় না। বরং নিজের জীবনের বিনিময়ে তিনি যে প্রেমের বাণী, মানবতার বাণী উচ্চারণ করেছিলেন তা-ই যুগে যুগের মানুষের মঙ্গলপথের দিশারি হয়ে কাজ করেছে। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তেও যিশু বলেছিলেন, পিতা, ওরা জানে না ওরা কী করছে, ওরা অবুঝ ও অজ্ঞান, তুমি ওদের ক্ষমা করে দিয়ো। ক্ষমাই ছিল যিশুর মূল প্রেমের বাণী। তিনি বলেছিলেন, তোমার প্রতিবেশীর জন্য তাই কামনা করো, যা তুমি নিজের জন্য চাও। আর সবাইকে ক্ষমা করো। মনে রেখো, যতক্ষণ তুমি সবাইকে ক্ষমা করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি স্বর্গে প্রবেশ করবে না। ঈশ্বর তাকেই ক্ষমা করেন যে সবাইকে ক্ষমা করে।

বড়দিনের মহিমা এখানেই যে এটি ঘণ্টায় বা সময়ে বড় নয়, বরং এ দিনটি এ দিনটি মানবতার পরিত্রাণের জন্য যিশুর জন্ম হয়েছিল বলে। প্রত্যেকেরই আলাদা জন্মদিন আছে, জন্মদিন মানেই যেন আগের ভুলগুলো শুধরে জীবনকে নতুন করে সাজানো। সেদিক থেকে যিশুর জন্মদিন যে প্রত্যেক খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদেরই জন্মদিন। এ দিন তারা মহান প্রভুর কাছে নিজের ও সমস্ত মানুষের মুক্তি কামনা করে।

বড়দিন মানেই যেন ক্রিস্টমাস ট্রি। একটি সবুজ গাছে অনেক আলোকসজ্জা আর বাহারি সব ফুল-ফল দিয়ে সাজানো হয়। ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবে যে গাছটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেটি হলো ফার গাছ। এটি মূলত দেবদারু জাতীয় গাছ। এই গাছেই বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জা আর বিভিন্ন দ্রব্যে সাজিয়ে রাখা হয়। ক্রিস্টমাস ট্রি সত্যিকারের হতে পারে আবার সেটি কৃত্রিমও হতে পারে। প্রকৃত গাছ ব্যবহার না করে অনেকে এখন প্লাস্টিকের গাছও ব্যবহার করেন। প্রথমদিকে এটি কেবল রাজদরবার ও চার্চের বিষয় ছিল। পরে সবার মধ্যেই এই ট্রি সাজানোর প্রথাটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এখন সাধারণ খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা পরম যত্নভরে ক্রিস্টমাস ট্রি সাজান। কেউ বা ক্রিস্টমাস ট্রি সাজিয়ে রেখে দেন বাড়ির বাইরে, কেউ বা ঘরের ভিতরে, বারান্দায় বা বসার ঘরে। যেখানেই সাজানো হোক, সারা ঘরে বা সারা বাড়ি আলো করে গাছটি ফুটে থাকে। যেন আলোরই এক গাছ! ক্রিস্টমাস ট্রিতে আলোর ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন অর্নামেন্ট দিয়ে সাজানো হয়। এই গাছের ওপরে একটি তারা বা স্বর্গদূত বসানো হয়। এই স্বর্গদূতটি বেথেলহেমে জন্ম নেওয়া যিশুখ্রিস্টের প্রতীক। 

জানা যায়, ষোলো শতকে জার্মানিতে ক্রিস্টমাসের এই ট্রি সাজানোর প্রচলন হয়েছিল। তবে ক্রিস্টমাস ট্রিকে সাজানোর এ বিষয়টি কোথায় থেকে কেমন করে এলো সেটি কেউই স্পষ্ট বলতে পারেন না। ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪ ডিসেম্বর ক্রিস্টমাস সন্ধ্যার আগে ট্রি সাজানো যায় না। আর এটি সরিয়ে ফেলা হয় ১২তম রাতে অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি। আর অনেকেই মনে করেন এই নিয়ম না মানা হলে অমঙ্গল হতে পারে। তবে প্রথাগতভাবে না হলেও এখন ক্রিস্টমাস ট্রি আরো আগে সাজানো হয়। দেবদারু জাতীয় গাছ ছাড়াও ক্রিস্টমাস ট্রি সাজাতে নানারকম সবুজ ঝোপ-জাতীয় ছোট গাছ সাজানো হয়। এখনো কত শিশু সান্তা ক্লজকে বিশ্বাস করে। বড়দিনের আগের রাতে সান্তা ক্লজ আসবেন হরিণটানা গাড়িতে করে, বাচ্চাদের নানারকম উপহার দেবেন, দরজার সামনে চকোলেট রেখে যাবেন— এরকম বিশ্বাস একসময় প্রায় রূপকথার গল্পের মতোই ছিল খ্রিস্টান শিশুদের মনে। কিন্তু এখনো আসলে কত ভাগ শিশু এ গল্পে বিশ্বাস করে? আধুনিক রঙিন পোশাক পরা সান্ত ক্লজকে তো তারা ভালো করেই চেনে, টিভিতে দেখে, বাচ্চাদের সাথে নেচে-গেয়ে উৎসব করে।

১৯৭৮ সালে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে দেখা গেছে ৪ বছর বয়সের ৮৫ ভাগ শিশু, ৬ বছর বয়সের ৬৫ ভাগ শিশু এবং ৮ বছর বয়সের ২৫ ভাগ শিশু বিশ্বাস করে যে সান্তা ক্লজ সত্যিই আছেন। তিনি এ পৃথিবীর কোনো মানুষ নন। তিনি যেন সত্যিই রূপকথার কোনো দেশ থেকে এসে আবির্ভূত হন। আশ্চর্য ব্যাপার, এত বছর পরও, ২০১১ সালে আরেক জরিপ চালিয়ে দেওয়া গেছে সান্তার প্রতি রহস্যময় বিশ্বাসটা এখনো অনেক শিশুর মনে একইরকম রয়ে গেছে। ২০১১ সালের এক জরিপে দেখা যায় ৫ বছর বয়সের নিচে ৮৩ শতাংশ শিশুরা এখনো বিশ্বাস করে সান্তা ক্লজরা সত্যিই আছেন। কোনো মানুষ সান্তা সাজে না। তারা সত্যিই অন্য কোনো দেশ থেকে আসেন। হয়তো স্বর্গ থেকে।
সূত্র : সিএনএন

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71