রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ৫ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ভগবান বিষ্ণুর গাত্র বর্ণ নীল কেন?
প্রকাশ: ১১:৩১ am ১৫-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৩১ am ১৫-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


হিন্দু পুরাণ অনুসারে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি ও বিলয়ের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে যথাক্রমে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের উপরে। একযোগে এঁদের ডাকা হয় ‘ত্রিমূর্তি’ নামে। ভগবান বিষ্ণু সৃষ্টির রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। পৃথিবীতে ন্যায় ও নীতি যাতে রক্ষিত হয়, সেই ব্যাপারে তিনি সর্বদা তৎপর। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনিতে বিষ্ণুর যে চরিত্র বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে স্বভাবের দিক থেকে তিনি উগ্র নন, বরং স্নেহশীল এবং ক্ষমাপরায়ণ। ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি ও ছবিতে তাঁকে সর্বদাই নীল গাত্রবর্ণবিশিষ্ট রূপে দেখা যায়। প্রশ্ন হল, তাঁর এই নীল গাত্রবর্ণের পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক কারণ কী?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একাধিক ব্যাখ্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ব্যাখ্যাটিতে বলা হচ্ছে, ভগবান বিষ্ণুর নীল রং তাঁর অসীমতার প্রতীক। তিনি নীলবর্ণ আকাশের মতোই অপরিমেয় ও অসীম। তিনি অনন্ত শক্তির উৎস। তাঁর কোনও সুনির্দিষ্ট নাম কিংবা আকার নেই। তিনি অপ্রমেয়। অসীমতায় একমাত্র আকাশের সঙ্গেই তিনি তুলনীয়। সেই কারণেই যখন মূর্তরূপে তাঁকে কল্পনা করা হয়, তখন নীলগাত্রবর্ণবিশিষ্ট আকৃতিতেই তিনি কল্পিত হন। অধ্যাত্ম-বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, বৈদিক যুগের বৃষ্টি ও বজ্রের দেবতার সঙ্গে কোনও ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে বিষ্ণুর। সেই সংযোগও তাঁর নীল গাত্রবর্ণের একটি কারণ হতে পারে।

অন্য একটি ব্যাখ্যায় বিষ্ণুর নীল রং-কে তাঁর বাসস্থান বৈকুণ্ঠধামের প্রতীক বলে মনে করা হয়। ভাগবৎপুরাণে বর্ণিত একটি কাহিনিতে বলা হয়েছে, বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে জন্ম নেওয়ার পরে এক পলকের জন্য বৈকুণ্ঠধামের দর্শন পেয়েছিলেন ব্রহ্মা। তিনি দেখেছিলেন, বৈকুণ্ঠ উজ্জ্বল গাঢ় নীল বর্ণে রঞ্জিত, ঠিক যেমনটা হয়ে থাকে বজ্রগর্ভ মেঘের রং। বৈকুণ্ঠনিবাসী বিষ্ণুকেও তাই নীলবর্ণ রূপেই কল্পনা করা হয় বলে মনে করেন অনেকে।

স্কন্দপুরাণে আবার বর্ণিত হয়েছে অন্যরকম একটি কাহিনি। সেখানে বলা হচ্ছে, ব্রহ্মার সৃষ্টিকে দগ্ধ করার পরে কালকূট নামের হলাহল গ্রাস করে বৈকুণ্ঠধামকেও। সেই বিষের তেজে সমগ্র বৈকুণ্ঠ নীল হয়ে যায়, আর প্রতিটি বৈকুণ্ঠবাসীর হৃদয়পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত ভগবান শ্রীবিষ্ণু বিষের দহনে তমাল বর্ণ ধারণ করেন। তমাল হল গাঢ় নীল রং-এর গাব জাতীয় গাছ। কালকূটের প্রভাবে সেই গাছের রং ধারণ করে শ্রীবিষ্ণুর শরীর। ফলত মূর্তরূপে যখন তিনি কল্পিত হন, তখন এই কাহিনির সূত্রে ধরে তাঁকে নীলগাত্রবর্ণধারী হিসেবেই কল্পনা করা হয়ে থাকে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71