সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ভারতীয় ইতিহাসের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ভীমরাও আম্বেদকর
প্রকাশ: ০৭:৩৭ pm ১৫-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:৩৭ pm ১৫-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সব দিকেরই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর। ১৮৯১ সালে ১৪ই এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের মৌ শহরের সেনা নিবাসে বাবাসাহেব জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা রামজী শকপাল মা ভীমাবাঙ্গ। 

রামজী শকপালের পরিবার ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী মাহার সম্প্রদায়ভুক্ত তাঁরা কবীরপন্থীও ছিলেন। রামজী ছিলেন শিক্ষক ১৪ বছর মেলেটারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের কাজ করেছেন। আম্বেদকর জি ১৯০৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ১৯১২ সালে স্নাতক হন। বারোদার রাজার সহযোগিতায় ১৯১৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যান ১৯২০ সালে পুনরায় কোলপুরের মহারাজ শাহু মহারাজের সাহায্য সহযোগিতায় ইংল্যান্ড যান সেখান থেকে ১৯২১ সালে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরেই তিনি তার গবেষণাপত্র উপস্থাপিত করেন যার বিষয় হল ' The Problem of Rupee ' ।

বাবাসাহেব শুধু একজন সামাজিক আন্দোলনের নেতাই ছিলেন না, তিনি ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের একজন মহান নেতাও ছিলেন। ১৯৩৬ সালে বাবাসাহেব ILP অর্থাৎ Independent Labour Party তৈরি করেন শ্রমিকশ্রেনীর জন্য। ১৯৩৮ সালে বাবাসাহেব কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ILP কোংকণ এলাকা থেকে মুম্বাই পর্যন্ত সংগঠিত করেন ২০০০০ শ্রমিক কৃষক তাতে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলে শ্রমিক কৃষককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেয়। বাবাসাহেব উপলদ্ধি করেছিলেন বা মনে করেছিলেন কংগ্রেস ও গান্ধীজি শ্রমিক উন্নয়ন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতেননা এবং গান্ধীজীর আগ্রহ ছিল খুবই কম।

বাবাসাহেব কখনোই সরাসরি ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে সমর্থন করেননি তিনি কমিউনিস্টদের আদর্শগত ভাবে শত্রু ভাবতেন। তাঁর মতে কমিউনিস্টরা কোনদিনই শ্রমিক বা কৃষক শ্রেনীর জন্য কোন কিছু ভাবেননি, শুধুমাত্র তাদের রাজনৈতিক স্বার্থপূরনের জন্য শ্রমিক ও কৃষক শ্রেনীদের ব্যবহার করতেন। বাবাসাহেবের শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য এই লড়াই কে তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা বা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। তিনি শ্রেনী বিভক্ত ভারতীয় সমাজে সামান্য আনতে চেয়েছিলেন।

শ্রমিকদের জন্য তার সার্থক ভাবনা চিন্তার ও কর্মকান্ডের জন্য তাকে ভারতের শ্রমমন্ত্রী করা হয়। ১৯৪২-৪৬ পর্যন্ত তিনি উক্তপদে আসীন ছিলেন। ১৯৪২ সালে ২৭ নভেম্বর সপ্তম লেবার কনফারেন্স হয় তার নেতৃত্বে। আইনের মাধ্যমে শ্রমের সময়সীমা ঠিক হয়। কাজের সময়সীমা ১৪ ঘন্টা থেকে ৮ ঘন্টা করা হয়। মহিলা শ্রমিক ও শিশুদের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেন। শ্রমিকদের জন্য ESI ও National Employment Agency তাঁরই মস্তিস্ক প্রসূত।

বাবাসাহেবের লড়াই ছিল গনতন্ত্রের জন্য লড়াই। তিনি কমিউনিস্টদের জঙ্গি আন্দোলন বা সর্বহারা মতবাদ দিয়ে মালিকপক্ষকে আঘাত করার তত্ত্বকে বর্জন করেন। তার জন্য সংবিধানে ট্রেড ইউনিয়নকে বৈধতা দেওয়া হয়। 

মহার্ঘ্যভাতা প্রণয়ন, বাজারদরের বৃদ্ধির সাথে সাথে মহার্ঘ্য ভাতার বৃদ্ধি, pf, বাড়ি ভাড়া, ইত্যাদির সুপারিশ তিনিই করেন। কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র তাঁরই প্রচেষ্টা ও দূরদর্শীতার ফল। স্বজন পোষনের তীব্র বিরোধী ছিলেন। শ্রমিক সহায়ক বিমা চালু হয় যার সমস্ত কৃতিত্ব বাবাসাহেবের। অন্যায়ের সঙ্গে কোন দিন আপস করেননি। 

ভারতবর্ষকে বিশ্বের দরবারে গণতন্ত্রের পূণ্যভূমি করে তোলার পিছনে বাবাসাহেবের ভূমিকা অপরিমেয়। ভারতীয় সংবিধানের এই মহানপুরুষটি উপলব্ধি করেছিলেন সমাজের সর্বস্তরের বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা সাম্য ও সমান অধিকারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে। 

জন্মদিনে মহানপুরুষ বাবাসাহেব রামজী আম্বেদকরজিকে শতকোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাই।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71