বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ভালুকজান সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ের ৮শতাংশ জমি বেহাত 
প্রকাশ: ১১:৩৭ am ৩১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:৩৮ am ৩১-০৫-২০১৮
 
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 
 
 
 
 


ফুলবাড়ীয়ার বাকতা ইউনিয়নের ৪৯ নং ভালুকজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধকোটি টাকা মুল্যের ৮ শতাংশ জমি স্থানীয় এমপি, স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও ম্যানেজিং কমিটির  যোগসাজসে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। ফুলবাড়ীয়া ভালুকজান মৌজার জেএল নং ৭২, খতিয়ান নং ৫, হাল দাগ নং ৪২৪৮, সাবেক দাগ নং ৮৪৮, জমির পরিমান- ৩৬ শতাংশ জমিটি ভালুকজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বিআরএস এতে উল্লেখ করা আছে। অথচ এখন এ স্কুলের বাউন্ডারী দেয়াল নির্মান করতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এমপি মোসলেম উদ্দিনের নির্দেশে ৮ শতাংশ জায়গা বাউন্ডারীর বাইরে রেখে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মান কাজ সমাপ্ত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলে ইউএনও লীরা তরফদার নামকা ওয়াস্তে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপার কাজ সম্পন্ন করলেও সার্ভেয়ার মোঃ হাফিজুল স্কুলের তিন দিক মাপলেও একদিক না মেপে চুপ করে বসে আছেন। এমনকি তিনি যে জমিটি মেপেছেন তার কোন রিপোর্ট থানা শিক্ষা কর্মকর্তা  জীবন আরা বেগম, ইউএনও লীরা তরফদার বা স্কুল প্রশাসনের কাছে কোন রিপোর্ট দেননি। শুধু মাত্র এমপি নির্দেশেই স্কুলের বাউন্ড্রাী দেয়াল নির্মান কাজ শেষ করতে চলেছে ঠিকাদার আব্দুল মালেক। সুত্র জানায়, স্কুলের জমি স্থানীয় কতিপয় লোক দখলে রাখা ছাড়াও রায়হান নামে ভূমি অফিসের জনৈক অফিস সহকারীর নিকট মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়ায় সার্ভেয়ার হাফিজুল পূর্বদিকের জমিটি না মেপে এবং ইউএনও নির্দেশে জমি মাপার নির্দেশ পেয়ে কোন প্রকার রিপোর্ট উর্দ্ধতন কোন কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে দখলকারীদের পক্ষ নিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলকে ধ্বংসের পায়তারায় মেতে উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভালুকজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হাসানুজ্জামানে সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা বিষয়টি ফয়সালা না করায় এখন এটি কি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? ৩৬ শতাংশ জায়গা দলিলে অছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,এখন ৩৪ শতাংশ জায়গার খাজনা দেয়া হয়। এখন ৩৪ শতাংশ জায়গা স্কুলের দখলে অছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি বলতে পারবো না। কারণ অনেক জমি প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে নিয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ থেকে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মানের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। এখন যদি কাজ শেষ না করা যায়,তবে টাকা  ফেরৎ যাবে।  আপনি স্কুলের সম্পূর্ণ জমি বুঝে না নিয়ে প্রায় ৮ শতাংশ জমি বাদ দিয়ে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মান করতে পারেন কিনা প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান বলেন, স্কুলের সভাপতিও এমপি সাহেবের নির্দেশে বাউন্ডারীর কাজ করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। বিষয়টি আমি স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও ম্যাডামকে জানিয়েছি। তবে সার্ভেয়ার হাফিজুল জমিটি মাপলেও আমাকে কোন রিপোর্ট দেয়নি। 

স্কুল কমিটির সভাপতি সাহেব আলী খানের সাথে ঐ দিনই মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, স্কুলের পাশ দিয়ে দুটি রাস্তা চলে যাওয়ায় এখন আর ৩৬ শতাংশ জমি নেই। নকশায় ৩০ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে, তার  মধ্যেই দেয়াল নির্মানের কাজ চলছে। স্কুলের দক্ষিণ দিকে পৌরসভার সড়কের জন্য জায়গা রেখে দেয়াল নির্মান করা হচ্ছে। পৌরসভা থেকে তাকে চিঠি দিয়ে রাস্তার জন্য জায়গা রেখে কাজ করতে কোন চিঠি দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, না পৌরসভা কোন চিঠি দেয়নি। তাহলে আপনি কেন স্বউদ্যোগে স্কুলের জমি বাইরে রেখে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মান করছেন প্রশ্ন করলে বলেন, টিও,ইউএনও ও এমপি সাহেবের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে  মৌখিক নির্দেশে দেয়াল নির্মান কাজ করছি। স্কুলের আট শতাংশ জমি দেয়াল নির্মানের জন্য বাইরের দখলদারদের কাছে চলে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে বলেন, আমি এখনো সার্ভেয়ারের মাপজোখের রিপোর্ট পাইনি। এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার হাফিজুলের সাথে ঐ দিনই মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,পশ্চিম,উত্তর ও দক্ষিনের দিক মাপা হয়েছে। পূর্ব দিকের জমি মাপা হয়নি। 

স্কুলের মোট জমির পরিমান কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু পূর্ব দিকের জমি মাপা হয়নি, সেজন্য মোট কতটুকু জমি আছে তা বলতে পারবো না। আপনি ইউএনও’র নির্দেশে স্কুলের জমি মাপ দিতে গেলেন, অথচ পুরো জমির মাপ না নিয়েই কেন মাপার কাজ বন্ধ করে দিলেন? এ প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন। পূর্ব দিকে আপনার কলিগ রায়হান সাহেব যে জায়গা ক্রয় করেছেন,তার জন্য কি পূর্ব দিকের জমি না মেপে এবং কোন রিপোর্ট প্রশাসনে না দিয়ে আপনি কি দায়িত্ব এড়াচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,এখানে যে বাউন্ডারী দেয়ালের কাজ হচ্ছে তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই হচ্ছে। উনারা যদি আন্তরিক হতেন, তাহলে স্কুলের জমি বেহাত হওয়ার কোন সুযোগ থাকতো না। 

এ ব্যাপারে থানা শিক্ষা অফিসার জীবন আরা বেগমের সাথে ঐ দিনই মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাকে সার্ভেয়ার কোন রিপোর্ট দেয়নি। রাস্তায় যে স্কুলের জমি গেছে,তা আমি কনফার্ম নই।  বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও ম্যাডামের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন,এ ব্যাপারে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে আমি এডিসি (রাজস্ব) স্যারকে দিয়ে মাপ দেয়ার ব্যবস্থা করবো। এ ব্যাপারে ইউএনও লীরা তরফদার বলেন, স্কুলের জায়গা দখল করে কেউ পার পাবে না। নকশা-বিআরএস এর সমস্যা আছে। রাস্তায় স্কুলের কিছু জায়গা চলে গেছে। তারপরও অভিযোগ দিলে আমি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করার ব্যবস্থা করবো। সার্ভেয়ারের রিপোর্ট এখনো তার হাতে আসেনি। এদিকে স্কুলের জমি বেহাত করার বিরুদ্ধে স্থানীয় কতিপয় সমাজসেবী প্রতিবাদ জানালে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকী দেয়া হচ্ছে। যার জন্য কেউ লিখিত অভিযোগও দিতে পারছেনা। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ,কোন মহলের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

নি এম/রবীন্দ্রনাথ পাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71