বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ চায়
প্রকাশ: ১২:১০ am ১৭-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:১০ am ১৭-০২-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা ভাসমান। ভেসে বেড়ায় নদী-বন্দরে, গ্রামগঞ্জে, শহর-নগরে। বেদে বহরের চারপাশে দুরন্তপনা, সাপ খেলা, বানর খেলা, কানামাছি, কুতকুত ও এক্কাদোক্কায় মেতে থাকে সারাবেলা। 

বাবা-মার সাথে বেরিয়ে পড়ে গাঁ ঘুরতে। হাটে-বাজারে সাপ, বাদর খেলায় বাবা-মাকে করে সহযোগীতা।

মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সাপ, বাদর খেলার মতো ভয়ংকর পেশায় জড়িয়ে পড়ছে এসব শিশুরা। বেড়ে উঠছে অশিক্ষা কুশিক্ষায়। শিক্ষা বলতে জানে সাপ ও বাদর খেলা শেখা। দেশ উন্নত হলেও বেদে বহরে আজো পৌঁছায়নি শিক্ষার আলো। পরিচয় হয়নি অক্ষর-জ্ঞানের সাথেও। ফলে এরা নিরক্ষরই থেকে যাচ্ছে বংশ পরম্পরায়। যাযাবর জীবনে একেক স্থানে একেক সময় অবস্থান করায় সুযোগ নেই শিক্ষা গ্রহণের। অক্ষর কি, স্কুল দেখতে কেমন, সেখানে কি হয় তাও জানেনা এসব শিশুরা। শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওরা।

জামালপুর শহরের ফেরিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেদের বহর এসেছে সপ্তাহ খানেক আগে। বহরে ৪২ জন নারী-পুরুষ রয়েছে। তাদের সাথে অবস্থান করছে ২২ জন শিশু। এই শিশুরা শিক্ষার সুযোগের আবেদন জানিয়ে এ প্রতিবেদককের সাথে তাদের দুর্বিসহ জীবন কাহিনী তুলে ধরে।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার ও জাতীয় শিশু সনদ নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক শিশুই রাষ্ট্র কর্তৃক লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। দুর্ভাগ্য, এটি কার্যকর না থাকায় বেদে শিশুদের মতো দেশের অসংখ্য শিশু শিক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এদের শিক্ষার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

বেদে বহরের সর্দার মোহাম্মদ মন্টু সর্দার জানান, আমরা পেটের তাগিদে জায়গায় জায়গায় ঘুরে বেড়াই। সাপ বানর খেলা, শিঙ্গা লাগিয়ে, তাবিজ-কবচ বেঁচে যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে। আধুনিক যুগের এই সময়ে মানুষ আর আমাদের খেলা, শিঙ্গা লাগানো, তাবিজ-কবচ নিতে চায় না। বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। বাড়িতে রেখে এসে বাল-বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখানো তাদের দেখাশোনা করা আর লেখাপড়ার খরচ যোগানোর মতো অবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করি। সরকার যদি বিশেষ ব্যবস্থা নেয় তাহলে শিক্ষা আমাদের কপালে জুটবে। আমাদের এসব আক্ষেপ মাখা কথাগুলো তুলে ধরেন।

সমাজ সচেতনরা বলেছেন, শিক্ষক, উদ্যেমী যুবক ও নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক টিম গঠন করে যদি বেদে শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে বেদে শিশুরা মুক্তি পাবে নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে। যাযাবর মানুষগুলোও এ দেশের নাগরিক। শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক অধিকার তাদেরও রয়েছে। তারাও খন্ডকালীন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়ে এক পর্যায়ে চলে আসতে পারে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায়। স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভূমিকা রাখতে পারে দেশ গঠনে। প্রয়োজন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আপনার একটু শ্রম নিরক্ষর বেদে শিশুদের দিতে পারে অক্ষর জ্ঞান এমন আবেদন জানালেন মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি এনজিও ও সোস্যাল ওর্য়াকারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কর্মযজ্ঞটি জামালপুরে শুরু করে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে নিরক্ষর বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন অন্ধকার থেকে উঠে আসবে আলোর মুখে।

এ ব্যাপারে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। তাদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য জামালপুরের জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71