সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ভেঙে ফেলা হলো কালের সাক্ষী চৌধুরী হাটের জমিদার রজনী পালের বাড়িটি
প্রকাশ: ০৪:০৭ pm ২১-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:১৫ pm ২১-০৫-২০১৭
 
 
 


হাটহাজারী:  কালের সাক্ষী হাটহাজারীর চৌধুরীহাটের জমিদার রজনী পালের বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কেউ কেউ বাড়িটিকে জমিদার বাদল পালের বাড়িও বলে থাকেন।

বাদল পাল হচ্ছেন জমিদার রজনী পালের নাতি। মাদার্শা এলাকার হাজি রফিক নামে এক প্রবাসী বাড়িভিটা কিনে নেয়ার পর সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য গত এক মাসে ভবনটি ভেঙে ফেলেন।

মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ, সচেতন মহল সবাই মনে করছেন এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু সংরক্ষণের উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না।


এই জমিদারের সামাজিক অবদানের মধ্যে অন্যতম হল ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সমস্ত জায়গা তারা দিয়েছেন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের পাশে একটি দিঘি খনন করে দিয়েছেন, যার আয় দিয়ে বিদ্যালয়ের গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহন করা হয়। তবে ভবনটিতে জমিদারের বংশধররা কেউ বসবাস করেন না।

ভবনে আটটি বড় কক্ষ ছিল। কক্ষগুলি ভাড়া দেয়া হতো। ভবনের সামনে বড় আকারের দুইটি কক্ষবিশিষ্ট একটি কাচারি ছিল। যেখানে বাইরের লোকজন এসে বসতেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় বাড়িতে লুটপাট চালায়। তখন অনেক মূল্যবান দলিল হারিয়ে যায়।


যানা যায়, মন্দির বাদ দিয়ে বাকি ২২৪ শতক জমি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। হাটহাজারীর মাদার্শা এলাকার হাজী রফিক নামে এক প্রবাসী গ-া ২০ লাখ টাকা করে জায়গাটি কিনেছেন। কেনার পর সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে বলে কর্মরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন। বাড়ি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ।

অনেক চওড়া দেয়ালগুলি ভাঙার পর ভিটের উপর ইটের স্তূপ পড়ে গেছে। ট্রলিতে করে পুরানো ইটগুলি অন্যত্র জায়গা ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে ছাদের বিম হিসেবে ব্যবহার করা বার্মার সেগুন কাঠ এখনো ভাল আছে। লোহার সিন্দুক ছাড়া বাড়ির জিনিষপত্রও নেই। সিন্দুকটি মন্দিরের ভিতর রাখা হয়েছে। সেখানে একজন পুরোহিত নিয়মিত পূজা দেন।


বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক পূর্ণিমা বিশ্বাস বলেন, তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই বাড়িতে আছেন। বাড়ির মালিক বন্দনা পাল পরিবার নিয়ে ভারতে থাকেন। তার নাতি-নাতনিরা ভারতে লেখাপড়া করে। তবে নগরীর জামালখানে তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাট আছে।

আসা-যাওয়ার মধ্যেই তারা থাকেন। তিনি জানান, সঠিকভাবে সংস্কারের অভাবে বাড়িটি নাজুক অবস্থায় ছিল। বিক্রি করে দেয়ার পর গত একমাস ধরে এটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট ক্ষয়ে গিয়ে দেয়াল নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকরা সহজেই এটি ভেঙে ফেলে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জমিদার বাড়ির আশপাশে জমিদারের বহু জমিও ছিল। জমিদারের বংশধররা সেই জমি ক্রমান্বয়ে বিক্রি করে ফেলেন। সর্বশেষ বাড়িটিও বিক্রি করে দেয়া হলো।


বছরখানেক আগে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শনকালে রজনী পালের নাত-বউ বন্দনা পাল  জানান, ১৯৩৪ সালে জমিদার রজনী পালের নাতি বাদল পালের সাথে যখন তার বিয়ে হয় তখন থেকেই তিনি বাড়িটি এরকম দেখেছেন। ভবন নির্মাণের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবনটির আনুমানিক বয়স দেড়শ বছর।

জমিদার তারিনিচরণ পালের পুত্র রজনী পাল বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি কাপড়ের ওপর ভবনের নকশাটি করা হয়েছিল। সম্ভবত বার্মা (মিয়ানমার) থেকে মিস্ত্রি আনা হয়েছিল। বাড়িটি নির্মাণকালেই উঠানের উত্তরপাশে বিষ্ণু মন্দির এবং অল্প দূরে একটি শিব মন্দির নির্মাণ করা হয়। বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে লোহা এবং সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি।

চুন-সুরকি এবং মিয়ানমার থেকে আনা কাঠ দিয়েই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ভবনের ছাদে যে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে তাতে কয়েকবছর অন্তর অন্তর কালো তেল লাগানো হয়। কাঠগুলি এখনো শক্তপোক্ত।


বন্দনা পাল জানান, পিতা তারিনীচরণ পালের সাথে রজনী পালের জাহাজের ব্যবসা ছিল। তৎকালীন বার্মার (মিয়ানমার) সাথে তারা এই ব্যবসা করতেন। জাহাজের নাম ছিল লক্ষ্মী। সেখানে তাদের ডকইয়ার্ডও ছিল। বার্মা থেকে যখন বাঙালিদের খেদিয়ে দেয়া হচ্ছিল তখন তারা জাহাজটি চট্টগ্রামে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু তৎকালীন বৃটিশরা জাহাজ আনতে দেয়ার জন্য ১৪ হাজার টাকার ঘুষ দাবি করে। জমিদার বাবুও কম যান না। তিনি কিছুতেই ঘুষ দেবেন না। ব্রিটিশদের সন্তুষ্ট না করে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে তারা গুলি করে সাগরে ডুবিয়ে দেয়।

রজনী পালের বংশধর হলেন নিরদ বরণ পাল। তার পুত্র ছিলেন বাদল পাল। আর বাদল পালের দুই পুত্র হলেন অরুপ রতন পাল এবং খোকন পাল।


বন্দনা পাল জানান, এই বাড়িটি পুরোনো চেহারায় ফেরাতে প্রকৌশলীর পরামর্শও নিয়েছেন। এতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। যা তাদের সামর্থের বাইরে। তাই তারা বাড়িটি সংস্কারের চিন্তা বাদ দেন।

 

এইবেলাডটকম/পিসিএস 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71