বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
পুরাকীর্তি
মঙ্গলাবাস সমাচার
প্রকাশ: ১০:৩০ pm ০৬-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৩০ pm ০৬-০৪-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : নামটি হারিয়ে গেছে বলা চলে। নতুন নাম পেয়ে হারিয়ে গেছে প্রকৃত নাম।‘মঙ্গলাবাস’।

কারও কারও মতে ‘মঙ্গল নিবাস’। শতবর্ষী জরাজীর্ণ ভবনটি এখন কেবলই পুরান ঢাকার একটি কলেজের ছাত্রাবাস। ভবনটির পুরোনো ইটের তলায় চাপা পড়ে আছে কতই না আনন্দ-বেদনার কাব্য।

২১ মার্চ মঙ্গলবার পুরান ঢাকার একসময়ের উজ্জ্বল জনপদ ফরাশগঞ্জে ঢুকতেই কিঞ্চিৎ ঝাঁজিয়ে দিল গুঁড়া হলুদ-শুকনো মরিচের গন্ধ। মসলাপাতির পাইকারি বাজারের রোজকার চিত্র।

দোকানের সামনে, রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুনের বস্তা। মালামাল উঠছে, নামছে। এই ফরাশগঞ্জের মোহিনী মোহন দাস লেনে নান্দনিক কারুকার্যখচিত ব্রিটিশ যুগের প্রাসাদ মঙ্গলাবাস।

এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই ভবনটির ইতিহাস জানেন না। একজন বললেন ‘জমিদারের বাড়ি’। একজন নাম বলতে পারলেন। কিন্তু ইতিহাস জানা নেই!

ঢাকা বিষয়ে একাধিক গবেষক জানালেন, এই বাড়ির মালিক যতীন্দ্র কুমার সাহা। জমিদার ছিলেন। তাঁর জমিদারি ছিল 
ঢাকার বাইরে। তবে বাড়ি করেন তিনি ঢাকায়। বেশ আমুদে লোক ছিলেন বটে।

প্রাসাদটি নির্মাণের সঠিক তারিখ জানা যায় না। তবে উনিশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের সময় অনেকেই সম্পত্তি বদল করতে পেরেছিলেন।

কিন্তু জমিদার যতীন্দ্র কুমার সাহা পারেননি।তিনি এই প্রাসাদ ফেলে রেখে কলকাতা চলে যান।এরপর প্রাসাদটি হয়ে যায় ‘শত্রু-সম্পত্তি’, ১৯৭১-এর পর যার নাম হয় ‘অর্পিত সম্পত্তি’।

কাগজপত্র ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ক্লাব ভবনটি ব্যবহার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের কিছু আগে থেকেই কবি নজরুল কলেজের ছাত্রাবাস হিসেবে ভবনটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পরে ভবনটির নামকরণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এই কলেজের ছাত্র শামসুল আলমের নামে।ভবনটিতে এখন শ দেড়েক শিক্ষার্থীর আবাস। প্রাসাদটিতে মোট ঘর ৩৫টি।

আর এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এক ঘর দিয়ে ঢুকে সব কক্ষে যাওয়া যায়।ভবনটির সামনের দিকে যতটা জরাজীর্ণ মনে হয়, ভেতরে ততটা নয়। তিনটি সুদৃশ্য মুক্ত উঠান। একটি বেশ বড়।

এখানে জমিদার যতীন্দ্র কুমার তাঁর পারিষদ নিয়ে বসতেন। আরেকটিতে বাড়ির নারীরা বিকেলবেলা সময় কাটাতেন। অন্যটির ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানা যায় না।

বাড়িটির পেছনে সেই আমলের গোসলের ব্যবস্থা। কুয়া থেকে পানি তুলে গোসল চলছে এ আমলেও।ভবনটির দেয়ালের কিছু অংশ ও কিছু ঘরে আগের আমলের টাইলস ব্যবহৃত হয়েছে।

সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠেই এক বিরাট আকাশ। জানা গেল, এই ছাদ ও নিচতলার উঠানে ধারণ করা হয়েছে চোরাবালি, মুসাফিরসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রের দৃশ্য। নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রও।

মঙ্গলাবাস ভবনটি তিনতলা। কিন্তু বর্তমান নির্মাণশৈলীর পাঁচতলার সমান।সামান্য কিছু সংস্কার ছাড়া প্রাসাদটির আদিরূপ এখনো বর্তমান। পুরান ঢাকার প্রাচীন ভবনগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আরবান স্টাডি গ্রুপ।

এই কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, নব্য ধ্রুপদি স্থাপত্য নকশায় তৈরি এই বাড়ি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। খোদাইয়ের কাজসহ ভবনটির স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য এখনো সমুন্নত আছে।

এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সামনে বক্রাকৃতির অবয়ব। উনিশ শতকের শেষের দিকে ঢাকায় যে নগরজীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এই ভবন তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন বললেন, একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আগে ভবনটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।তারপর তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

সুত্র : প্রথম আলোকে

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71