শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
মণিপুরি-ভরতনাট্যম-কত্থকে জমজমাট চতুর্থ দিন
প্রকাশ: ০৩:২৬ pm ৩০-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:৪০ pm ৩০-১২-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে নূপুর নিক্কণে ঝংকার উঠল মঞ্চে; ছন্দোবদ্ধ দেহভঙ্গিতে ফুটে উঠল উপমহাদেশীয় নৃত্যের বিভিন্ন ধারা। হিমসন্ধ্যায় বাংলাদেশের ছয় জন শাস্ত্রীয় নৃত্য-সাধকের পরিবেশনায় শুরু হয় শাস্ত্রীয় সংগীতের উৎসবের চতুর্থ দিনের আসর।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ উৎসবের চতুর্থ দিনের আসরে ছিল সরোদ পরিবেশনা; উপমহাদেশীয় বাদ্যযন্ত্র বেহালা ও সেতারের পরিবেশনাতেও দর্শকের মন্ত্রমুগ্ধ করেন উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীরা। ছিল শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম ধারা খেয়াল পরিবেশনা।

চতুর্থ দিনের আসরে শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী সুইটি দাস, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা, মেহরাজ হক এবং জুয়াইরিয়াহ মৌলি।

নৃত্য প্রযোজনা ‘নৃত্য চিরন্তন: মনিপুরি, ভারতনাট্যম, কত্থক নৃত্যার্ঘ ’ শীর্ষক দুই পর্বে ভাগ করা এ পরিবেশনাটির নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন গুরু বিপিন সিংহ, পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, শিবলী মোহাম্মদ এবং ভাবনা। সার্বিক নৃত্য পরিচালনা ও সম্বনয়কারী হিসেবে ছিলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা ও সুইটি দাশ, ভরতনাট্যম পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী, জুয়াইরিয়াহ মৌলি; কত্থক পরিবেশন করেন স্নাতা শাহরিন, মেহনাজ হক তুষার।

মণিপুরি নৃত্যে তাল-তানচেপ-৪ মাত্রায় রাধা রূপ বর্ণন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ম্প্রভা; নৃত্য ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন গুরু বিপিন সিংহ, কণ্ঠে গুরু কলাবতী দেবী। গানের কথা নেওয়া হয় বৈষ্ণব কবি গোবিন্দ দাসের একটি ভক্তিমূলক কবিতা থেকে। এরপর তাল-সপ্ততাল ২০ মাত্রায় কালীয় দমন পরিবেশন করেন সুইটি দাস; নৃত্য ও সংগীত পরিচালনা করেন বিপিন সিংহ, কণ্ঠে ছিলেন দ্রৌপদি দেবী।

মনিপুরি নৃত্যের সর্বশেষ অংশে তাল-তানচেপ-৪ মাত্রা, চালি তাল-৮ মাত্রা, এবং মেনকুপ-৬ মাত্রায় পরিবেশিত হয় শিব স্তুতি। এ অংশের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন বিম্বাবতী দেবী, সংগীত পরিচালনায় গুরু লাকপতি সিং এবং কণ্ঠে দ্রৌপদি দেবী।

ভারতনাট্যম অংশে কীর্তি রামগোপালের নৃত্য পরিচালনায় ও ডি এন শ্রীভাৎসার সংগীত পরিচালনায়, বৃন্দাবনী রাগ ও আদি তালে সূরিয়া কথুরাম পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী। এরপর শিব স্তুতি পরিবেশন করেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি। এতে নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন কীর্তি রামগোপাল, সঙ্গীত পরিচালনায় রামা সুব্রামানিয়াম শর্মা। শিব স্তুতিটি পরিবেশিত হয় আভোগী রাগে মিশ্র চাপু তালমে।

শিব স্তুতির পর কীর্তি রামেগাপালের নৃত্য পরিচালনায় ও শ্রী পদ্মচরণের সংগীত পরিচালনায় এবং পূর্বী কল্যাণী রাগে ও আদি তালমে শিব কৃতি পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী।

কত্থক নৃত্যের শুরুতে তিনতালে গুরু বন্দনা করেন মেহরাজ হক তুষার। এরপর শুদ্ধ্য নৃত্য পরিবেশন করেন স্নাতা শাহরিন। তিনতালের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশিত এ কত্থক নৃত্যের সংগীত ও নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শিবলী মহম্মদ।

শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিচালনা ও রাহুল চ্যাটার্জির সংগীত পরিচালনায় (রবীন্দ্র সংগিত) এরপর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে মনিপুরি, ভরতনাট্যম ও কত্থক সম্মিলনে নটরাজের প্রতি নৃত্যের মালিকা নিবেদন করা হয়। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মহুয়া মঞ্জুরী সুনন্দা, সুকান্ত চক্রবর্তী ও অভিজিৎ মজুমদার।

পুরো নৃত্য পরিবেশনাটির ভাবনা, সার্বিক পরিচালনা ও সমন্বয়কারী ছিলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবেশনা শেষে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

নৃত্যের পর সরোদ পরিবেশন করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। দলগত পরিবেশনায় তারা রাগ ভূপালি পরিবেশন করেন।

এরপর মঞ্চ আলোকিত করেন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ওস্তাদ রাশিদ খান। রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পী পুরিয়া রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ সহযোগী ছিলেন নাগনাথ আদগাঁওকার, তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত শুভঙ্কর ব্যানার্জি, হারমোনিয়ামে ছিলেন অজয় যোগলেকর এবং সারেঙ্গিতে ছিলেন ওস্তাদ সাবির খান।

খেয়াল শেষে ছিল সরোদ এবং বেহালার যুগলবন্দী। পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার এবং ড. মাইশুর মঞ্জুনাথ একসঙ্গে পরিবেশন করেন রাগ সিমেন্দ্রমধ্যম। এসময় তাদের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত যোগেশ শামসি এবং মৃদঙ্গমে ছিলেন অর্জুন কুমার।
পরিবেশন শেষে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ।

এরপর খেয়াল পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন পণ্ডিত যশরাজ। তিনি প্রথমে রাগ যোগ- এ খেয়াল পরিবেশন করেন এবং পরে দুর্গা রাগে ভজন পরিবেশন করেন। তাকে তবলায় সঙ্গত করেন রামকুমার মিশ্র, হারমোনিয়ামে পণ্ডিতা তৃপ্তি মুখার্জি, কণ্ঠে রত্তন মোহন শর্মা এবং মৃদঙ্গমে শ্রীধার পার্থসারথী।

খেয়াল শেষে প্রথমবারের মতো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে চেলো’র পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন সাসকিয়া রাও দ্য-হাস। তিনি রাগ নন্দকোষ পরিবেশন করেন। এরপর তিনি ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’ ও ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’- এ দুটি রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন। তাকে তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত যোগেশ শামসি, তানপুরায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ কুণ্ডু ও টিংকু কুমার শীল।

উৎসবের চতুর্থ দিনের শেষ পরিবেশনা ছিল ইমদাদখানি ঘরানার শিল্পী পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখার্জির সেতার। তিনি রাগ ললিত বিস্তার গৎ ঝালা পরিবেশন করেন। তাকে তবলায় সঙ্গত করেন সৌমেন নন্দী। পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন স্থপতি নাহাস খলিল।

শনিবার বেঙ্গল শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসবের পঞ্চম ও শেষ দিনের আসর। বিদূষী সুজাতা মহাপাত্রের ওড়িশি নৃত্যে শুরু হবে উৎসবের পঞ্চম ও শেষ দিনের আয়োজন। মোহন বীণা পরিবেশন করবেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট, খেয়াল পরিবেশন করবেন ব্রজেশ্বর মুখার্জি, যৌথভাবে সেতার বাদনে অংশ নেবেন পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস, সেতার বাজিয়ে শোনাবেন পণ্ডিত কৈবল্যকুমার। অন্যান্যবারের মত এবারও পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি বাদনে পর্দা নামবে উৎসবের।

এসকে 
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71