শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
মন্দিরে হামলাকারীদের জন্য ক্ষমা নয়
প্রকাশ: ১১:০৫ am ২৯-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:০৫ am ২৯-০৮-২০১৭
 
তাসমিমা হোসেন।
 
 
 
 


দিনাজপুরে শুক্রবার রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুইটি মন্দিরে হামলার মাধ্যমে প্রতিমা ভাঙচুর করিয়াছে দুষ্কৃতকারীরা। তাহারা শহরের ফুলতলা শ্মশানে একটি কালী মন্দিরের চারটি তালা ভাঙিয়া কালীর প্রতিমাসহ তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং প্রতিমাগুলির মস্তক ছিন্ন করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর দুষ্কৃতকারীরা দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাসিমপুর রায়পাড়া দুর্গামণ্ডপে গিয়া হামলা চালায়। সেইখানে তাহারা দুর্গা প্রতিমাসহ বিভিন্ন প্রতিমা ভাঙচুর করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানাইয়াছেন, উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীই এই ঘটনা ঘটাইয়াছে। অন্যদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে বাপ্পী শাহরিয়ার নামে একজনকে আটক করা হইয়াছে। বাপ্পী সেনাবাহিনীর একজন বরখাস্তকৃত সদস্য। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে তাহাকে বরখাস্ত করা হইয়াছে বলিয়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়াছে। এই ঘটনার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করিতেছে উদ্বেগ আর আতঙ্ক।

প্রতি বত্সরই দুর্গাপূজার প্রাক্কালে মন্দিরে হামলা করিয়া ও প্রতিমা ভাঙচুর করিয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হইতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বাহির হইতে পারিতেছে না। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হইয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হইলেও সাম্প্রদায়িকতা এই দেশ হইতে দূর হয় নাই। সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাইয়াছে না হ্রাস পাইয়াছে তাহা গবেষণার বিষয়, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা যে নির্মূল হয় নাই তাহা অনস্বীকার্যই বলা যায়। সাম্প্রদায়িকতা হয় দুই প্রকারের: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাম্প্রদায়িকতা। প্রত্যক্ষ সাম্প্রদায়িকতার উদাহরণ হইল দিনাজপুরের ঘটনাটি। অর্থাত্ ধর্মীয় প্রতীকে সরাসরি হামলা করা ও ত্রাস সৃষ্টি। আর পরোক্ষ সাম্প্রদায়িকতা হইল গোপনে বা অন্তরে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইসকল সাম্প্রদায়িক চর্চার শিকার হয় সংখ্যালঘু মানুষেরা। আক্রমণকারীরা সংখ্যায় নগণ্য হইলেও ইহার দায় বহন করিতে হয় সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে।

তবে সাম্প্রদায়িকতা ব্যতীত সংখ্যালঘু নির্যাতনের আরেকটি দিক রহিয়াছে। তাহা হইল দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। অথবা বলপ্রয়োগ করিয়া দুর্বলের সম্পদ ছিনতাই। এইসকল নির্যাতনের মাধ্যমে যদি সংখ্যালঘু মানুষগুলি ভিটেমাটি ত্যাগ করিয়া অন্যত্র পলায়ন করে, তবে তাহার সম্পত্তি গ্রাস করিতে সুবিধা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমেই এইসকল অপকর্ম ঘটিয়া থাকে। নানা কারণে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় তাহাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এইরূপ ঘটনা প্রমাণ করে সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত নাই। এই ধরনের ঘটনা সমাজে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করিয়া থাকে। দেশের বাহিরেও একটি  নেতিবাচক বার্তা যায় যাহা আমাদের ভাবমূর্তি শুধু নয়, উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হইতে হইবে। হামলাকারী যেই হউক না কেন, তাহার বা তাহাদের ব্যাপারে গ্রহণ করিতে হইবে ক্ষমাহীন মনোভাব। বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের যেই ঐতিহ্য, সহনশীল পরিবেশে সকলের নিরাপদ জীবনযাপনের যেই অঙ্গীকার, তাহা যেকোনো প্রকারে রক্ষা করিতে হইবে।


প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71