মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
মহাদেবপুরে আগুনে দগ্ধ হয়ে গৌরি রানীর মৃত্যু
প্রকাশ: ০৮:৫৪ pm ০৪-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৫৪ pm ০৪-০৪-২০১৮
 
নওগাঁ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


বয়লারের ছাইয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে হেরে গেল গৌরি রানী মহন্ত। মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে গৌরি রানী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গৌরি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কুঞ্জবন এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক গৌতম কুমার মহন্তের মেয়ে। 

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কুঞ্জবনের বাসিন্দা দৈনিক ভোরের কাগজ ও চাঁদনি বাজার পত্রিকার মহাদেবপুর প্রতিনিধি গৌতম কুমার মহন্তের মেয়ে গৌরী রানী মহন্ত ২০ মার্চ সকালের দিকে স্থানীয় মহাদেবপুর সদর থেকে বাবার বাড়ি কুঞ্জবন আসছিলো। বাড়ির কাছে  আলহাজ্জ্ব জিল্লুর রহমানের তানজিনা রাইস মিলের রাস্তার পাশে অবৈধ ভাবে স্তুপ করে রাখা বয়লারের ছাইয়ের ভেতর পা পিছলে পড়ে যান গৌরি রানী। এতে তার শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে যায়। আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৪ দিন পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক সন্তানের জননী গৌরি রানী। এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার দুপুরে আত্রাই নদীর ঘাট শ্মশানে তার মৃতদেহের সৎকার করা হয়েছে।
 
গৌরির বাবা গৌতম কুমার মহন্ত জানান, মহাদেবপুরে প্রায় সাড়ে ৪’শ চাতাল (বয়লার) রয়েছে। তারা কেউই নিয়ম না মেনে যত্রযত্র বয়লারের ছাই ফেলে রাখে। ফলে ছাইয়ে এই জনপদের হাজার মানুষের চোখের সমস্যা হচ্ছে। সবশেষ বয়লারের জলন্ত ছাইয়ে পড়ে যাওয়ায় তাকে প্রাণ দিতে হলো। 

গৌতম আরো বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক মিটিংএ বলা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে আজ আমার মেয়ের প্রাণ গেল। ভবিষ্যতে আর যেন কোন বাবা সন্তান হারা না হয় তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেন গৌতম। স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ হায়দার আইন না মেনে রাস্তার পাশে যত্রতত্র আগুনসহ বয়লারের ছাই রাখার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেছেন।

মহাদেবপুর চালকল মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ্ব আব্দুল জব্বার বলেন, এ ঘটনায় আমরা শোকাহত ও মর্মাহত। ভবিষ্যতে এ সব ঘটনা যেন না সেজন্য সকল রাইস মিল মালিকদের নিয়ে জরুরী সভা আহবান করা হয়েছে। এ ছাড়া মৃত গৌরির চিকিৎসা খরচ ও তার সন্তানের জন্য মিল মালিকরা কিছু অনুদান দেবে বলে জানান এই রাইস মিল মালিক।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোবারক হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে আর যেন এ ধরনের প্রাণহানী না ঘটে এবং জনসাধারনের ক্ষতি না হয়,  এমন কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এমসি/ আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71