মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
মহানায়কের ৩৮ তম প্রয়াণ দিবস আজ
প্রকাশ: ০৫:২৫ pm ২৪-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:২৫ pm ২৪-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের ৩৮ তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই ওগো বধূ সুন্দরী ছবির শুটিং চলাকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চলে যান পরপারে।

তার ভুবনভোলানো হাসি, অকৃত্রিম রোমান্টিক চোখের দৃষ্টি আর অতুলনীয় অভিনয়ের গুণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়েও বাঙালি দর্শকদের হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি মহানায়ক।

১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ দিয়ে শুরু আর ১৯৮০ সালে এসে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করার সময় জীবনাবসান। মাত্র ৫৪ বছরের ক্ষণজন্মা কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার চলচ্চিত্র শিল্পকে দিয়েছেন ৩২ বছর। তবুও যেন পরিপূর্ণ হয়নি। আজও তাঁর জায়গা নিতে পারেনি কেউ। তবে তার চলে যাওয়া ছিলো বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের আলোকবর্তিকার মৃত্যু। তিনি তিনবার ভারতের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।

উত্তম কুমার ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ৫১ নং আহিরী টোলা লেনে জন্মগ্রহণ করেন। দাদু আদর করে তাকে ডাকতেন উত্তম। তবে আসল নাম ছিলো অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায়। তার বাবার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায়, মা চপলা দেবী। অভাব-অনটনের মধ্যে দিয়ে কাটে উত্তমের ছেলেবেলা। কিন্তু যার জন্মই হয়েছে আকাশ ছোঁয়ার জন্য দারিদ্র্য পারেনি তাকে দমিয়ে রাখতে।

সংসারে অভাব থাকায় ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি দিনে পোর্ট কমিশনার্স অফিসের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি নেন আর রাতে ভর্তি হন ডাল হৌসির গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে। নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ১৯৪৫ সালে বি. কম. পাস করেন।

অভিনয় জগতে আসার পেছনে তার পরিবারের প্রভাব ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতিমনা উত্তম কুমারের পরিবার পাড়া-প্রতিবেশীর সহায়তায় গড়ে তুলেছিলেন ‘সুহৃদ সমাজ’। বিভিন্ন উৎসবে সুহৃদ সমাজ থেকে যাত্রাপালার আয়োজন করা হত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মুকুট’ নাটিকায় অভিনয় দিয়ে শুরু হয় মহানায়কের অভিনয় জীবন।

উত্তম কুমারের নাম আসলে তার সঙ্গে আসে তার অনবদ্য জুটি, সুচিত্রা সেনের নাম। তখনকার অখ্যাত সুচিত্রা বা রমার সঙ্গে ১৯৫২ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বক্স অফিস কাপিয়ে দেন। সারাদেশে ছড়িয়ে যায় এই জুটির নাম।  আর এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই মহানায়িকা সুচিত্রা সেন উত্তমের হাত ধরেই উঠে এলেন পর্দায়। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে বহু ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন তারা। হারানো সুর, পথে হল দেরি, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা এবং সাগরিকা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আজও সৃতিতে অম্লান হয়ে আছেন এই মহানায়ক উত্তম কুমার। ১৯৫৭ সালে অজয় কর নির্মিত ‘হারানো সুর’ ছবিটি পুরো ভারতের দর্শককে মাতিয়ে তোলে, অর্জন করে রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অব মেরিট পুরস্কার। মজার তথ্য হচ্ছে, ছবির প্রযোজক ছিলেন উত্তম কুমার নিজেই।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ এবং ‘চিড়িয়াখানা’ অভিনয় করে তাঁর তারকা জীবন আরও সমৃদ্ধ হয়। ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ভারতের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ‘নায়ক’ ছবিটিও ব্যাপক সমাদৃত হয়।

ব্যক্তি জীবনে এই মহানায়ক বেশ রোমাঞ্চ প্রিয় ছিলেন। সুচিত্রা সেন এবং সাবিত্রির সঙ্গে প্রেমের টানাপোড়েনে স্ত্রী অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ তার জীবনের আলোচিত ঘটনা। সুচিত্রা আর উত্তমের প্রেম নিয়ে আজও কম কথা হয়না। সুচিত্রার মোট ৬৩ টি ছবির মধ্যে ৩২ টির নায়ক ছিল উত্তম কুমার। হিন্দি চলচ্চিত্রও করেছেন বেশকিছু।

এই উপমহাদেশে তাঁর সৃষ্টি, তাঁর সেই চাহনি আর অমলিন হাসি আজও আমাদের মনে গেঁথে আছে। আজকের দিনে তার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71