রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দলিত ও সংখ্যালঘুদের অবদান
প্রকাশ: ০৫:১২ pm ০৮-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:১২ pm ০৮-০৪-২০১৮
 
কল্যাণ কুমার চন্দ
 
 
 
 


ছবিতে নিজ পরিবারের সাথে উজিরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদরঞ্জন রায়

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বরিশালের দলিত ও সংখ্যালঘুদের অবদান ছিলো অন্যান্য সম্প্রদায়ের সকলের মতই। দলিত সম্প্রদায়ের লোকজনদের স্বাধীনতা যুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সক্রিয় অংশগ্রহন থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে কোন সরকারই দলিত সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করেনি। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নামেমাত্র কিছু সুযোগ সুবিধা পেলেও তারা সবসময়ই থেকে গেছে সরকারের উন্নয়নমুখি কর্মসূচির বাইরে।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মৃত হরিহর ঋষি ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার জীবদ্দশায় কোনদিন স্বীকৃতি পাননি। তার মৃত্যুর পরে তার ২ ছেলে বাসুদেব ও কালাচাঁদ বহুবার চেষ্টা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার প্রয়াত পিতার নাম অর্ন্তভুক্তির জন্য কিন্তু তাতে কোন সুফল হয়নি। বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় দলিত সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠির মুক্তিযুদ্ধে অবদান থাকলেও দলিত বা ঋষি হিসাবে তারা থেকে গেছেন সকলের দৃষ্টির বাইরে। ফলে তাদের ভাগ্যে কখনোই মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি জোটানো তো দূরের কথা সরকারি কোন সুযোগ সুবিধাও কখনো জোটেনা বলে আক্ষেপ করেছেন বাটাজোরের বেনুমাধব ঋষি (৭৩), সুরেন ঋষি (৮০), গুঠিয়া এলাকার দশরথ ঋষি (৯০) ও তার ভাই ফনি ঋষি (৮৫)।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ৯নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এম,এ,জলিলের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন তৎকালীন আমলের যুবক কুমুদ রঞ্জন রায় (৯৮), তার গ্রামের বাড়ি উজিরপুর উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের শাকরাল গ্রামে। 

তিনি বললেন তার স্ত্রী গত হয়েছেন আরো ১৫ বছর আগে, ২ ছেলে পূত্রবধু ও নাতি নাতনিদের নিয়ে মানবেতরভাবে গ্রামেই জীবন যাপন করেন পৈত্রিক ভিটেবাড়িতে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বহুচেষ্টা করেও কোন সরকারি সহযোগীতা পাননি। বতর্মানে পৈত্রিক জমিটুকুও ভুমিদস্যুরা বিভিন্ন উপায় হাতিয়ে নিয়েছে এবং অবশিষ্টটুকুও নেওয়ার অপকৌশল চালাচ্ছে। ২ ছেলে সমির ও তিমির কোনমতে ২ পয়সা রোজগার করে সংসার চালায় এবং তার চিকিৎসা ও মামলা চালিয়ে হাতে কিছু থাকেনা। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন রায় বলেন, কোনদিনও ভাবিনি যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সরকার এত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার পরেও আমরা সংখ্যালঘু মুক্তিযোদ্ধারা চিরদিন অবহেলিত থেকে যাবো।

আগৈলঝাড়া উপজেলার অশোকসেন গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মুক্তিযোদ্ধা অধির সরকার জানিয়েছেন, আমাদেরকে কেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়না? আমরা সংখ্যালঘু এটাই কি আমারে অপরাধ? তবে যুদ্ধের সময়তো আমরা কোন জাতিভেদ বিচার করে যুদ্ধ করিনি। তবে এখন সংখ্যালঘুদের কেন বিচার বিশ্লেষন করে তালিকাভুক্ত করা হবে? আমরা সংখ্যালঘুরা অকাতরে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি ঠিক সেভাবেই আমাদের ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি ও সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71