মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মহাভারতের প্রথম দিনের যুদ্ধে কি ঘটেছিল
প্রকাশ: ০৮:০১ pm ০৩-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:০১ pm ০৩-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


কুরু সৈন্যের সংখ্যাধিক্য দেখে যুধিষ্ঠির প্রাথমিক ভাবে মুষড়ে পড়েছিলেন। পান্ডবপক্ষে তাই রচনা হল অচল বা বজ্রব্যুহ। মনু সংহিতাতে নির্দেশ আছে সেনাসংখ্যা অল্প হলে সূচীব্যুহ বা বজ্রব্যুহ গড়তে হবে। বজ্র্য ব্যুহ তে তিন প্রকার শ্রেণীতে বল সাজাতে হয়। কুরুপক্ষের ব্যুহের কোনো উল্লেখ নেই।

দুর্যোধন আগেই সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ভীষ্মের হাতে শিখন্ডী অবধ্য। তাই কৌরব পক্ষের সেনাপতিরা যেনও সদাই সচেষ্ট থাকেন ভীষ্মকে রক্ষা করতে। আর যদি তারা শিখন্ডীকে আগেই নিহত করতে পরেন তাহলে তো কথাই নেই।

যেন এক স্টেজ রিহারস্যাল, এই ভাবে দ্বৈরথ শুরু হল। সাত্যকি বনাম কৃতবর্মা, যুধিষ্ঠির বনাম শল্য,অভিমন্যু বনাম বৃহদ্বল,ধৃষ্টদ্যুম্ন বনাম দ্রোণ। আজ নয় কিন্তু ভবিষ্যতে, এই সকল যুগ্মই আবার লড়াই করবেন এবং প্রতিটি ডুয়েলেই এদের একজন প্রাণ হারাবেন।

তবে বীরত্ব দেখালেন যারা তারা কিন্তু পরের প্রজন্ম। অভিমন্যু, বিরাট পুত্র শ্বেত ও শংখ, ইরাবান। পদাতিক ও অশ্বারোহী সেনারা বোধহয় কেউই তীর ধনুক ব্যবহার করতেন না। তাদের জন্য বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্র ছিলো প্রাস ও ঢাল তরোয়াল।কুঠার,গদা এইসবও ছিলো। ব্যাঘ্রচর্মের কোষ থেকে তরোয়াল বার করে সেনানীরা লড়াই করছিলেন। পরে অবশ্য অন্য একদিনের যুদ্ধ বর্ণনায় যবন সেনাদের কথায় এটাও লিখিত ছিলো এঁদের সকলেরই দাড়ি ছিলো ,এরা কাঁসার তৈরী বর্ম পরতেন ও সকলেই ছিলেন ধনুর্ধর।

শল্য, কৃপ, কৃতবর্মা আর দুর্যোধনের দুই ভাই বিবিংশতি ও দুর্মূখ- এই পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে ভীষ্ম পান্ডব ব্যুহ ভেদ করলেন। চেদি, কাশী, পাঞ্চাল ও করুষ দেশের (মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলা অঞ্চল) সেনাদের মধ্যে ভীমের রথের ধ্ব্জা দেখা যাচ্ছিলো।

পিঙ্গল মানে তামাটে বা লালচে রঙের ঘোড়ার রথে ছুটে এলেন অভিমন্যু। মনে রাখবেন বড়ো বড়ো মহারথীদের ঘোড়ারা সর্বদাই সাদা রঙের হত। এসেই অভিমন্যু ভীষ্মের অনুচর অর্থাৎ কৃপ, শল্য, দুর্মুখদের শরাঘাত করতে লাগলেন। তার হস্তলাঘবতা মানে দ্রুত বাণ ছোঁড়ার কায়দা দেখে সকলেই তাকে অর্জুনের সাথে তুলনা করছিলেন। ভীষ্মের বানে বিদ্ধ হলেও অভিমন্যু মৈনাক পাহাড়ের মতন খাড়া থাকলেন এবং নয়টি বানে ভীষ্মের ধ্ব্জটি কেটে ফেললেন।

পান্ডবেরা ছুটে এলেন অভিমন্যুকে সাহায্য করতে। বিরাটের ছেলে উত্তর সেই সময় এক রণহস্তীর উপর চড়ে চড়াও হলেন শল্যর উপর। সেই হাতী শল্যের রথের ঘোড়াদের মেরে ফেললেও সেই অচল রথ থেকে শক্তি ছুঁড়লে উত্তরের প্রানহীন দেহ হাতীর পিঠ থেকে ছিটকে পড়লো কুরুক্ষেত্রের মাটিতে। শল্য এরপর তরোয়ালের কোপে হাতীর শুঁড় ছিন্ন করে সেটিকেও যমালয়ে পাঠালেন। বিরাট পুত্র উত্তরই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে প্রথম নিহত নায়ক।

উত্তরের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবারে ভীষ্মের মুখোমুখি হলে উত্তরের ভাই শ্বেত। তবে প্রথমেই দুইজনে মুখোমুখি হন নি। দুই জনেই অপর পক্ষের অনামা শত্রুদের নিধনেই ব্যাস্ত ছিলেন। কোথাও রথের উপরে চড়ে বসেছে আরেকটা রথ, কোথাও রথের থেকে লটকে আছে প্রানহীন বীরের দেহ, রথীহীন ঘোড়ার লাফিয়ে লাফিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে যাচ্ছে কোথাও, রণভুমে কাত হয়ে পড়ে অনেক রথ। অবশেষে দুজনেই মুখোমুখি হলেন। শ্বেতের বাণে ভীষ্মের ধনুক ছিন্ন হল, ধ্ব্জাও। ক্রুদ্ধ ভীষ্ম এইবারে ভল্লের আঘাতে শ্বেতের চার ঘোড়া আর সারথীকে নিহত করলে শ্বেত এক শক্তি নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন ভীষ্মকে আর ভীষ্মকে বললেন এইবার দেখি কেমন পুরুষ তুমি। ভীষ্মের বাণে সেই শক্তি ছিন্ন হলে এক গদা হাতে শ্বেত ধেয়ে এলেন। ভীষ্ম তখন নিজের রথ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়লেন কিন্তু গদার আঘাতে শ্বেত সেই রথ চুর্ণ করে দিলো। রথহীন হয়ে ভীষ্ম এইবারে "দুঃখিতচিত্তে" শল্যের রথে উঠে বসলেন। ভীম আর অভিমন্যু একটানা আঘাত করে চলেছিলেন ভীষ্মকে কিন্তু ভীষ্ম এক কালান্তক বাণ গ্রহন করে নিক্ষেপ করলে সেটি শ্বেতের বর্ম ভেদ করে মাটিতে প্রবেশ করল। বিরাট তাঁর দ্বিতীয় সন্তানটিকেও হারালেন।

বিরাটের দুই পুত্র, উত্তর আর শ্বেত নিহত হলে তৃতীয় পুত্র শংখ ভীষ্মের প্রতি ধেয়ে এলেন। মহাভারতকার বলেছেন সময় তখন ছিলো মধ্যাহ্ন। শল্যকে দেখে শংখ একেবারে জ্বলে উঠলেন। কিন্তু শল্যের সাথে এঁটে উঠতে পারছিলেন না। শল্য রথ থেকে নেমে গদার আঘাতে শংখের রথ চুর্ণ করলে শংখ ঢাল তরোয়াল হাতে এক ছুটে অর্জুনের রথে উঠে বসে "সুস্থচিত্ত" হলেন। ভীষ্ম তখন মন্ডালাকারে ধনুক ঘুরিয়ে পান্ডবদের রথীদের সংহার করতে লাগলেন। পান্ডব সেনাদের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেলো কিন্তু তাদের বাঁচাবার জন্য কেউই হাজির ছিলেন না। অবশেষে সন্ধ্যা হলে প্রথম দিনের যুদ্ধ শেষ হল।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71