রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মহারাজা নন্দ কুমারের ফাঁসি ও শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিচার
প্রকাশ: ১২:৩৫ pm ২৭-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৩৫ pm ২৭-০৫-২০১৭
 
 
 


আপনারা নিশ্চয়ই মহারাজ নন্দ কুমারের ফাঁসীর বিষয় জানেন। যে বিচারটি নিয়ে ভারত বর্ষ তো বটেই ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ১৭৬৩ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বর্ধমান নদীয়া ও হুগলী জেলার ট্যোক্স কালেক্টর।

বিভিন্ন জমিদারদের কাছ থেকে জোড় করে টাকা আদায় সহ মীরজাফরের স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনের বিষয় প্রকাশ পাওয়ায় এবং ঘুষখোর, স্বৈরাচারী, নিষ্ঠুর ও অসাধু হেস্টিংসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় তিক্ত বিরক্ত হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তাকে পদচ্যুত করে ইংল্যান্ডে ফেরৎ পাঠায়। তার স্থলাভিসিক্ত হন নন্দ কুমার।

তার সততায় মুগ্ধ হয়ে মোগল সম্রাট ২য় শাহ আলম তাকে মহারাজা উপাধিতে ভূষিত করেন। এই ঘটনায় হেস্টিংসের মনে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ১৭৭৩ সালে হেস্টিংস ২য় বার ভারতে এলেন গভর্ণর জেনারেল হয়ে।এসেই জনসমাজে প্রভাবশালী নন্দ কুমারকে বশে রাখতে তাকে ৩ লক্ষ টাকা উৎকচ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন একটি পত্রের মাধ্যমে।

সত্যনিষ্ঠ নন্দ কুমার এই ঘটনায় বিরক্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে মামলা করেন। সুপ্রীম কাউন্সিল অব বেঙ্গল এর সদস্য জাস্টিস স্যার ফিলিপ ফ্রান্সিস এই মামলার বিচার করেন।

নন্দ কুমার ওয়ারেন হেস্টংস এর হাতে লেখা চিঠি কোর্ট এক্সিবিট হিসাবে দাখিল করলেও কোর্ট তা আমলে না নিয়ে ওয়ারেন হেস্টিংসকে খালাস দেন। খালাস পেয়েই মোহন প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে মহারাজা নন্দ কুমারের বিরুদ্ধে একটি বন্ড জালিয়াতির মামলা করান সুপ্রীম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এলিজা ইম্পেই।

তিনি হেস্টিংস এর সহপাঠী ও বন্ধু ছিলেন। বিচারে ইম্পেই নন্দ কুমারকে মৃত্যুদন্ড দেন ৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে। সেই দিনই মহারাজা নন্দ কুমারের ফাঁসী কার্যকরী হয়। অনেক দিন পরে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে বৃটিশ পার্লামেন্ট হেস্টিংস ও ইম্পেইকে কমিটিং জুডিশিয়াল মার্ডার এর অভিযোগে তীব্র ভৎর্ষনা করে পদচ্যুত করেন।

আরেকটি ন্যায় বিচার হয়েছিল মধ্য যুগে।সে বিচারের কাহিনী লিখেছেন ডঃ এম এ রহিম তার বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নামক বইতে। ২য় খন্ড পৃষ্ঠ নং ৯২। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমী।কি ছিল বিচারটিতে?

বৃন্দাবন নামক একজন হিন্দু তালুকদার ও একজন মুসলিম ফকিরের ঘটনা নিয়ে বিচার। ফকিরটি সরাসরি বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করে ভিক্ষা চাওয়ায় বৃন্দাবন তাকে বাড়ির বাহির করিয়া দেয়।অপমানিত হয়ে ফকিরটি বৃন্দাবনের ঘরের সন্নিকটে রাস্তার উপর একটি প্রাচীর নির্মান করে এবং এটাকে মসজিদ রুপে ব্যবহার করতে থাকে।বৃন্দাবনকে দেখামাত্র সে উচ্চস্বরে আজান দিত।

বৃন্দাবন এতে বিরক্ত হয় এবং একদিন সে দেয়ালটি ভেঙ্গে দেয় এবং ফকিরকে তিরস্কৃত ও বিতাড়িত করে। ফকির কাজী মহম্মদ শরফ ও মুর্শিদকুলি খানের নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করেন। ফকিরকে অপমান করার জন্য কাজী ইসলামী আইন অনুসারে বৃন্দাবনের ফাঁসীর হুকুম দেন।…এবং তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেন। (তারিখ ই বাঙ্গালা, পাতা ৫৪)

এই দুটি বিচারে কি ন্যায় বিচার লঙ্ঘিত হয়েছে?

অর্থাৎ ক্ষমতাশালীরা মধ্যযুগেও বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহা্র করেছে। সভ্য ইংরেজ আমলেও তাই হয়েছে, এখনও তাই হচ্ছে।ঘুষ গ্রহণের মিথ্যা অভিযোগে যদি শ্যামল কান্তির ফাঁসী নাও হয় হয়ত একদিন দেখা যাবে “ তিনি নাই।”। সংগৃহিত।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71