বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মাকে বেধে রেখে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
প্রকাশ: ০৮:৪৩ pm ২১-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৪৩ pm ২১-০৮-২০১৭
 
নীলফামারী প্রতিনিধি :
 
 
 
 


নীলফামারীর ডিমলায় মাকে বেধে রেখে বাড়ি থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছে ভিকটিমের বাবা কলিম উদ্দিন।

রবিবার (২০ আগষ্ট) রাতে নয় জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৩। আসামীরা হলেন, একই ইউনিয়নের ছাতুনামা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম (৩০), দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মিস্টার আলী (৩৪), মৃত আজিজুল হকের পালিত ছেলে ফিরিজুল ইসলাম (৩৫), চাটি মামুদের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪৫), মোখলেছার রহমানের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩০), অভয় চরন রায়ের ছেলে নির্মল চন্দ্র  রায় (৪০), পেনকাটু রায়ের ছেলে মঙ্গলু রায় (৪০)।

শনিবার (১৯ আগষ্ট) রাত তিনটার দিকে ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের চাতুনামা চর গ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় রবিবার সকালে ধর্ষিতা ফেন্সি আক্তার (২৮) ও তার মা ফাতেমা বেগমকে (৬০) পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। ওই দিন বিকেলে তাদের উন্নত চিকিৎসা ও ধর্ষিতার ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধর্ষিতার মা রবিবার সন্ধ্যায় অভিযোগ করে বলেন,‘আমার জামাতা রশিদুল ইসলাম (৪৫) এলাকার বাইরে কাজে গেছে ১০ দিন আগে। একারণে মেয়ে ও তার তিন সন্তানকে নিয়ে জামাতার বাড়িতে আমি রাত্রী যাপন করি। 

শনিবার (১৯ আগষ্ট) রাতে হঠাৎ করে ৯ থেকে ১০ জন লোক এসে আমার হাত, পা, মুখ বেধে একটি বাঁশের খুঁটিতে বেধে রেখে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। আমার চিৎকারে এলাকাবাসী ও একই গ্রামের আমার ভাই (খাজা ময়নুদ্দিন) এবং স্বামী এগিয়ে এসে মেয়েকে খুঁজতে থাকে। রাতে তাকে (মেয়ে) না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে হাত, পা, মুখ বাধা অবস্থায় একটি মাঠে মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।

ধর্ষিতার বাবা (কলিমদ্দীন) বলেন,‘মানুষের কাছে খবর শুনে সেখানে দেখতে যাই। গিয়ে দেখতে পাই হাত, মুখ, পা বাধা অবস্থায় ধান ক্ষেতের একটি ফাঁকা জমিতে আমার মেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। তার পরনের কাপড় ছেড়া ছিল। তাৎক্ষণিক থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখান থেকে বিকেলে উন্নত চিকিৎসা ও মেয়ের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়।

তিনি জানান, এঘটনায় রবিবার (২০ আগষ্ট) রাতে থানায় নয় জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। 

ধর্ষিতার মামা খাজা ময়নুদ্দীন (৬৫) বলেন, ‘আমার বোন ও ভাগনির কাছে ঘটনা শুনেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিনতে পারার কথা আমাকে জানিয়েছে বোন ও ভাগিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ধর্ষিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাড়ে পাঁচটার দিকে তার ডাক্তারী পরিক্ষা সম্পন্ন করেন হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুলতানা রাজিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,‘ রবিবার রাতে ধর্ষিতার বাবা কলিম উদ্দীন বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে, ঘটনাটিকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেন ওই মামলার আসামীর স্বজনরা। মামলার আসামী মিস্টার আলীর স্ত্রী আর্জিনা বেগম (৩০) বলেন, ‘গ্রামের নির্মল এবং ফরিদুল ইসলামের সাথে ফেন্সি এবং তার বাবা কলিম উদ্দীনের জমিজমা সংক্রান্ত মামলা চলছে। 

আমাদেরকে ফাঁসাতে ওই নাটক সাজানো হয়েছে। নির্মল ও ফরিদুল আমাদের প্রতিবেশী, তাদের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক আছে। একারণে ওই মামলায় আমাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম (৩২) বলেন, ‘এর আগেও ফেন্সি আমাদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় হেরে গিয়ে আবারো ধর্ষণ মামলা সাজিয়েছে।

 

এম/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71