বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
মাগুরায় ৪ বছরের এক শিশুর ৮০ বছরের চেহারা !
প্রকাশ: ০৬:৪৩ pm ২৩-০৫-২০১৬ হালনাগাদ: ০৬:৪৩ pm ২৩-০৫-২০১৬
 
 
 


মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের বায়েজিদ এর বয়স মাত্র ৪ বছর। কিন্তু অজ্ঞাত রোগে ভূগে তার চেহারায় আশিতিপর বৃদ্ধের ছাপ দেখা দিয়েছে।বয়সের ভারে নুহ্য মানুষের মতই নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে অজ্ঞাত রোগে ভূগে বড় হচ্ছে শিশুটি। পরিবারের একমাত্র সন্তানের এমন অদ্ভত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার চিকিৎসা করাতে অসহনীয় দিন কাটাচ্ছেন ওই শিশুটির দরিদ্র বাবামা। বায়েজিদ ওই গ্রামের লাভলু শিকদার ও তৃপ্তি খাতুনের একমাত্র ছেলে।শিশুটির চিকিৎসা করাতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন তারা। নিস্পাপ এই শিশুটিকে বাঁচাতে সমাজের সকলের সহায়তা আশা করেছেন পরিবারটি।

সরেজমিন আজ সোমবার দুপুরে খালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে- ৪ বছরের বায়েজিদের চেহারায় শিশুর সারল্যে। মায়া জড়ানো মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকে। কিন্তু সে হাসি দেখলে যে কেউ চমকে উঠবেন।  তার চেহারায় বৃদ্ধ মানুষের ছাপ।

 আশিতিপর বৃদ্ধের মতোই মুখ, বুক পেটসহ শরীরের চামড়া কুচকে ঝুলে আছে।  দেখলে মনে হবে অবিকল একজন বৃদ্ধ মানুষ বসে আছে।

বায়েজিদের দাদা হাসেম আলী শিকদার বলেন, শিশুটি কিছুটা অন্য রকমের চেহারা নিয়েই জন্ম নেয়। এ নিয়ে এলাকার লোকে নানা কথা রটাতো । অনেকে ভয়ে তার কাছে আসতো না। আস্তে আস্তে সে বড় হতে থাকলে তার চেহারায় বৃদ্ধ মানুষের ভাব চলে আসে। দিন যাচ্ছে তার এ সমস্যা বাড়ছে।

বায়েজিদের মা তৃপ্তি খাতুন বলেন, স্বাভাবিকভাবে শিশুরা ১০ মাসে হাটা শিখলেও বায়েজিদ সাড়ে তিন বছরে হাটতে শিখেছে। আবার তিনমাস বয়সে তার সবগুলো দাঁত উঠে গেছে। এছাড়া সে মোটামুটি স্বাভাবিক চলাফেরা ও খাওয়া দাওয়া করতে  পারে। শৈশবে ভয়ে সন্তানের বিকৃত চেহারা দেখে কেউ কাছে আসত না। আমি তাকে পরম যত্নে বড় করছি।

বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার বলেন, অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি ৩-৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। কোন ডাক্তারই অসুখ ধরতে পারেননি। অনেক কষ্টে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে কয়েক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোন ফল পাইনি। চিকিৎসকেরা বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।নিরুপায় হয়েই সব কাজ ফেলে তার আদরের ধন বয়ে বেড়ান তিনি। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই শিশুর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, নিজের সামান্য জমিতে কৃষি  কাজ আর মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসা করে চলে তাদের সংসার। ঘর আলো করে প্রথম সন্তান বায়েজিদের জন্ম হয়।জন্মের সময় সে অন্য দশটি শিশুর মতো স্বাভাবিক ছিল না । আট মাস বয়স থেকেই সে আর উঠতে পারত না। এমনকি হামাগুড়ি দিতেও পারত না।চিকিৎসকদের মতে তার এই জটিল রোগের চিকিৎসার  জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে পারলে ভাল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে তার পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের বিত্তবানরা সহায়তা করলে তিনি ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করাতে চান।

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার  ডা. মোকসেদুল মোমিন জানান, একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি অনেকটাই যেমন জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তেমনি নির্ভর করে তার সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার ওপর।

এছাড়া শৈশবে কোন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যেমন কিডনি বা ফুসফুসের রোগ, অপুষ্টি ইত্যাদি কারণে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি যে হরমোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে থাইরয়েড ও গ্রোথ হরমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই হরমোনগুলোর অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে বা ধীরে হতে পারে। নানা ধরনের জেনেটিক সমস্যায় এমন হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে টার্নার বা ডাউনস সিনড্রোম। এ রোগের চিকিৎসা থকলেও জটিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল’।

তিনি জানান, এ ধরনের চিকিৎসা এখনো দেশে শুরু হয়নি। তবে বিদেশে নিয়ে যেতে পারলে শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবন দেয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।

মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর  ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হামিদ মিয়া জানান,‘কোন পিতার কাছেই সন্তানের এই অবস্থা কারও জন্য সুখকর নয়।দরিদ্র এই পিতার সন্তানের চিকিৎসার জন্য বিত্তবান লোকজন এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।’

এইবেলা ডটকম/রুপক/এসবিএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71