শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শনিবার, ১১ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
মাটির পাত্রের ঐতিহ্য রয়েছে: বিশ্বেশ্বর পাল
প্রকাশ: ০৫:০৫ pm ১১-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৫৫ pm ১১-০৪-২০১৭
 
 
 


বাউফল::  নতুন আত্মীয়বাড়ি যেতে মিষ্টি নেওয়া গ্রামবাংলার রীতি। আগে মাটির হাঁড়িতে নেওয়া হতো। এখন প্যাকেটে নেওয়া হয়। নতুন বঙ্গাব্দ উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মৃৎশিল্পীরা মিষ্টি নেওয়ার জন্য নতুন পাত্র তৈরি করেছেন। যেহেতু আগে শুধু মিষ্টি নেওয়ার জন্য আলাদা পাত্র ছিল না, তাই এই হাঁড়ি এ দেশের মৃৎশিল্পে নতুন সংযোজন।

বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগুজীরপুল পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ফেলনা কাদামাটি থেকে দামি পাত্র তৈরি করছেন শিল্পীরা। প্রথমে দুই কেজি কাদামাটির গোলাকে হাতের কারুকার্য দিয়ে পাঁচ মিনিটে তৈরি করা হয় একটি হাঁড়ি। চার ঘণ্টা রোদে শুকানোর পর আরেক শিল্পী নকশা করেন। শ্রমিকরা রং মাখান। এক দিন পর তা আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। এভাবে ১৪২৪ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে প্রিয়জনকে মিষ্টি উপহার দেওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তৈরি করা হয়েছে মিষ্টির হাঁড়ি।

মৃৎশিল্পের কারিগর বিশ্বেশ্বর পাল বলেন, ‘মাটির পাত্রের ঐতিহ্য রয়েছে। এবার নববর্ষে মিষ্টির হাঁড়ি নতুন সংযোজন। আশা করছি, পাত্রটির চাহিদা হবে অনেক। ’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল উপজেলায় একাধিক মৃৎপল্লী রয়েছে। তবে কাগুজীরপুল পালপাড়ার বিশ্বেশ্বর পাল, বরুণ পাল, কালাচাঁদ পাল, গোবিন্দ পাল, বিমল পালের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় তৈরি পণ্যগুলো ব্যতিক্রম এবং দৃষ্টিনন্দন। তাঁদের পণ্য আড়ং, কোড় দ্য জুট ওয়ার্কস, এসিআই, জিপিএইচসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিনে নেয়। ওই পণ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এশিয়া ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।

পালপাড়া ঘুরে জানা গেছে, প্রতিবছর নকশায় পরিবর্তন আসে। আবার নতুন নতুন পণ্যও তৈরি হয়। নতুন বছরে নতুন কারুকার্য করেন শিল্পীরা। এ বছর ডিনার সেটে থাকছে প্লেট, গ্লাস, মগ, কারিবল, জগ, লবণবাটি, সানকি, কাপপিরিচ ও তরকারির বাটি। এ ছাড়া নতুন নকশায় তৈরি করা হয়েছে আধুনিক মানের স্যুপ সেট, থাকবে মাটির ফল প্লেট। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে কয়েলদানি, মোমদানি, ঘটি ও ফুলদানি ক্রেতাদের আলাদাভাবে আকৃষ্ট করবে। মাটির বিভিন্ন ধরনের খেলানাসহ ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। এসব পণ্যে রং হিসেবে ব্যবহার করা হয় গাছ ও পাতার কষ।

বিশ্বেশ্বর পাল বলেন, ‘বাপ-দাদার পৈতৃক পেশাকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সময়োপযোগী বিশ্বমানের আধুনিক পণ্যে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাউফলের মাটি এতটাই উপযোগী যে উৎপাদিত পণ্যের মান খুব মজবুত হয়। ফলে নকশা বা কারুকাজ করতে সহজ। এসব কারণে এর চাহিদা বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ’

বিশ্বেশ্বর জানান, একসময় জালের কাঠি, পুতুল, কলস, বাচ্চাদের খেলনা, রসের হাঁড়িসহ গ্রামবাংলার ঘরে ব্যবহার উপযোগী নানা ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরি হতো। ক্রমান্বয়ে তৈরি হতে থাকে মোমদানি, অ্যাশট্রে, ফুলদানি ও ঝামা। ১৯৮৩ সালে বিশ্বেশ্বর পাল ঢাকায় গিয়ে আড়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পর থেকে শিল্পটি আধুনিক নকশা ও মানে উত্তীর্ণ হয়। পরে ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন মাটির পণ্য সরবরাহ শুরু করেন। তাঁদের তৈরি মাটির মালা, ব্রেসলেট, কানের দুলসহ আকর্ষণীয় শোপিসের বেশ কদর তৈরি হয়েছে।

বরুণ পাল বলেন, ‘অন্য মাসের তুলনায় বৈশাখে অতিরিক্ত অর্ডার থাকে। আড়ং এবং কোড় দ্য জুট ওয়ার্কস দ্বারা বাউফল পালপাড়ার প্রায় অর্ধশত পরিবার বেঁচে আছে। পরিবারগুলোতে আর্থিক সচ্ছলতাও এসেছে। ’

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ জামান বলেন, ‘কাগুজীরপুল পালপাড়ায় সরকারের দুই শতাংশ খাসজমি রয়েছে। ওখানে একটি শোরুম করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শোরুমের পেছনে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র করা হবে, যাতে শিল্পটাকে আরো বিকশিত করা যায়। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাউফলের এ শিল্পটি অন্য সব এলাকার চেয়ে ব্যতিক্রম এবং আধুনিক মানের।

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71