বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষ্য মুছে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল যুদ্ধাপরাধীরা
প্রকাশ: ০৯:২২ am ৩০-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:২২ am ৩০-০৬-২০১৭
 
 
 


জাতীয়::  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এখনও অনেক লোক পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। সম্ভবত, একাত্তরের এ বর্বরতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নাত্সী বাহিনীর সহিংসতাকেও হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, স্বাধীনতার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সকল প্রকারের সাক্ষ্য এবং ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তত্কালীন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর এবং কিছু যুগান্তকারী বই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট সিলভিয়া ফার্নান্দেজ দ্যা গুরমেন্দির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, প্রসিকিউটর এবং সংশ্লিষ্টদের যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে কোনো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও তারা কেবল রোম সনদ অধ্যয়নের মাধ্যমে গভীর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছেন। এই বিচারের ক্ষেত্রে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল আইনটি ছিল ১৯৭৩ সালের প্রণীত। পরবর্তীতে ওই আইনের অধীনে আমরা বিধি প্রণয়ন করি এবং এ ক্ষেত্রে রোম সনদসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য আইনের সাহায্য নেই। বস্তুত রোম সনদের কাছে আমরা ঋণী। এটি একটি দারুণ এবং অতুলনীয় সনদ।

 

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে আইসিসির প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার উন্নতিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি এবং রোম সনদের প্রতি বাংলাদেশের আকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আগামী বছর রোম সনদ প্রণয়নের ২০ বছর পূর্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট।

 

নেদারল্যান্ডস সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন ফেতেরিস এর আমন্ত্রণে গত ১৭ জুন থেকে আট দিনের সফরে সেদেশে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সফরে প্রতিনিধি দলে ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল, সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার হোসনে আরা আকতার, হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোঃ সাব্বির ফয়েজ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার শরীফুল আলম ভূঁঞা ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বেগম ফারজানা খান।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরা অর্থের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে গতি আসে। বিচারে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন এবং আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ পান দণ্ডপ্রাপ্তরা। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দণ্ডপ্রাপ্তদের এই রিভিউ করার সুযোগ প্রদান করে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71