বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে লা’রস কমিউনিটি
প্রকাশ: ১১:৪২ am ৩১-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:৪২ am ৩১-০৫-২০১৮
 
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
 
 
 
 


সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। মানুষের মাঝেই আছে ভালোবাসা ও মায়া মমতা। ভালোবাসা আর মানবিকতা দিয়েই হিংস্রতা আর অবহেলাকে জয় করা যায়। আবার মানুষই যখন আশাহত হয়ে পড়ে তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলে মানুষ সেই আশা ফিরে পায়। আর আশা ফিরে পাওয়ায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে মানুষ। কিন্তু আমাদের সমাজে বিধাতার অনন্য সৃষ্টির এমন কিছু সৃষ্টি আছে যারা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়তো করতে পারে না, আবার মুখ থুবড়েও পড়ে থাকেনা। যাদেরকে সমাজ বোঝা মনে করে, যাদের অক্ষমতাকে মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে, অপমান করে কানা ল্যাংড়া, লোলা, বোবা বলে।  সেই প্রতিবন্ধী মানুষদের সেবা দেয়ার জন্য পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সৃষ্টিকর্তার অনন্য এই সৃষ্টিদের মমতা দিয়ে স্ব-উদ্যেগে সেবা করে থাকেন। তাদের সেবার মাধ্যমেই এই মানুষগুলো আত্মতৃপ্তি পান। ভাবেন সমাজ তাদের(প্রতিবন্ধী) বোঝা মনে করলেও তারা আসলে সৃষ্টিকর্তার অনন্য সৃষ্টির মাঝে অন্যতম। তাদের সেবার মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য পাওয়া যায়, নৈকট্য লাভ করা যায়, আত্মতৃপ্তি আসে, পূর্ণতা পায় জীবন। 

ঠিক তেমনি একজন মানুষ ‘জন ভ্যালিয়ে’। তিনি ইউরোপ মহাদেশের একটি দেশ ফ্রান্স। সেখানে বসবাস করতেন। তিনি একদিন উপলব্ধি করলেন, মানুষের সেবা করতে হবে। কেননা মানুষের সেবার মাধ্যমেই আমি ঈশ্বরের আর্শিবাদপুষ্ট হবো। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের নিয়ে ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে লা’রস প্রতিষ্ঠা করেন। লা’রস শব্দটির বাংলা আভিধানিক অর্থ হলো নৌকা। সেই নৌকায় তিনি প্রতিবন্ধীদের অসহায়ত্ব  নিজ কাঁধে তুলে নেন এবং সবাই মিলে একটি পরিবার হয়ে জীবন কাটান। তিনি কানাডার গভর্ণরের ছেলে ছিলেন। তিনি সেবার উদ্দেশ্যে ট্রলি নামক গ্রামে ২ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে নিয়ে লা’রসের যাত্রা শুরু করেন। তাঁর সেই স্বপ্ন, সেই মহৎ উদ্দেশ্য আজ বিশ্বের ৩৫টি দেশে ১৫০টি লা’রস কম্যুনিটি সৃষ্টির মাঝে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এশিয়া মহাদেশের ছোট্র একটি দেশ বাংলাদেশ। এখানেও তাঁর সৃষ্টি লা’রসে প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদে পরোক্ষভাবে ছায়ার মতো সেবা করে যাচ্ছেন। দুটি মূলমন্ত্রের উপর লা’রস বিশ্বাসী। গরীবদের সঙ্গে সহভাগিতা ও সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস। জন ভ্যালিয়ে তাঁর ‘বিকামিং হিউম্যান’ গ্রন্থে বলেন, দা বিলিফ  ইন দা ইনার বিউটি অফ ইচ এন্ড এভরি হিউম্যান বিয়িং ইজ এট দি হার্ট অফ লা’রস,এট দি হার্ট অফ অল ট্রু এডুকেশন এন্ড এট দি হার্ট অফ এভরি হিউম্যান বিয়িং। হোয়েন উই রিভেল টু পিপল আওয়ার বিলিভ ইন দেম, দেয়ার হিডেন বিউটি রাইসেস টু দি সারফেস হোয়ার ইট মে বি মোর ক্লিয়ারলি সিন বাই অল। বাংলাদেশে প্রথম কে এবং কিভাবে এই মহৎ উদ্দেশ্যের যাত্রা শুরু করলেন তা জানার কৌতুহলে এই প্রতিবেদক ছুটে গেলেন সেই প্রতিবন্ধী ভাইবোন ও যাদের সহযোগিতায় লা’রস পরিচালিত হচ্ছে তাঁদের কাছে। ময়মনসিংহ জেলা শহরের কাঁিচঝুলীতে লা’রস এর কার্যক্রম খুব নীরবেই পরিচালিত হচ্ছে। নীরব ছিমছাম মনোরোম একটি পরিবেশ। চারদিকে গাছের ছায়ায় রৌদ্র খেলা করে। পাখির ডাকে মাঝে মাঝেই নীরবতা ভেঙ্গে যায়। গেইটে ঢুকতেই দেখা গেল,একজন ছেলে দৌঁড়াচ্ছে এর খুশিতে হাসছে। সাথে একজন তাঁর পিছন পিছন দৌঁড়াচ্ছে। বুঝতে পারলাম ,এ আমাদেরই একজন প্রতিবন্ধী ভাই। যে সাথে সাথে দৌঁড়াচ্ছে সে নিশ্চয়ই সহকারী। হাতের বা দিকে উপরে ত্রিভুজাকৃতির ছাউনি দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বড় হলরুমে ঢোকার সাথে সাথেই একজন প্রতিবন্ধী ভাই পরম মমতা আর শ্রদ্ধায় হাত ধরে টেনে স্বাগতম জানালো। মনে হলো সত্যিই এক স্বর্গীয় আভা দেখতে পেলাম। প্রতিবন্ধী ভাইদের কেউ কেউ খুশিতে দৌঁড়াচ্ছে, কেউ কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে কিছু বলছে। কেউবা রুমের এক কোণে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর মুচকি হাসছে। কথা হলো এই প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের সহকারীদের সাথে। তাঁরা প্রতিবন্ধী ভাই বোনদের সাথেই থাকেন আর তাদের সেবা করেন। 

কথা বলে জানতে পারলাম, প্রায় ২১ জন যুবক যুবতী প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের সহযোগীতা করার জন্য প্রত্যেকের সাথে ১ জন করে মোট ২১জন সহকারী আছেন। তাদের টয়লেট করানো থেকে শুরু করে গোসল করানো, খাওয়ানো, খেলাধুলা করানো, ঘুম পাড়ানো যাবতীয় কাজ সহকর্মীরাই করে থাকেন। এতে তারা বিরক্তবোধ করেন না। বরং বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গঠনমূলক শিক্ষার মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার মহৎ উদ্দেশ্য পূরণ করছেন। ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ। সেই নদের পাশেই শান্ত, নিরিবিলি ও গাছের ছায়ায় ঢাকা পরিবেশে ‘তেইজে হাউস’। যেখানে বসবাস করেন সদাহাস্য, আধাত্মিকতা সম্পন্ন, প্রতিবন্ধীপ্রেমী বিদেশীগণ। যারা অসহায়,  অবহেলিত, নির্যাতিত গরীব মানুষদের সেবার উদ্দেশ্যে নিজ দেশ ছেড়ে এই প্রবাসে চলে আসেন। তেইজে হাউসে যারা থাকেন তাদেরকে তেইজে ব্রাদার বলে সম্বোধন করা হয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্রাদার ফ্রাঙ্ক ও ব্রাদার গিউম। তাঁরা দুজনেই হল্যান্ডের ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহে এসে দেখেন এখানে প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের অসহায়ত্ব। কেউ তাদের স্নেহ করেনা,ভালোবাসেনা। এমনকি নিজেদের পরিবারের মা-বাবাসহ অন্যান্য মানুষও প্রতিবন্ধী শিশুকে পছন্দ করে না। তিনি এখানে লা’রস প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন। ব্রাদার গিউম পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার কথা ভাবলেন। অভাবী খ্রীষ্টানধর্মের  শিক্ষিত যুবকরা কাজের বিনিময়ে সেবাকাজ করতো তেইজে হাউসে। তাঁদেরকে নিয়ে বসলেন এবং ১৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দে ১ম বারের মতো প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার(সিসিএইচ) প্রতিষ্ঠা করেন। বেশ সাড়া পেলেন এখান থেকে। প্রতিবন্ধী ভাইবোন,শিশুদের নাম লিপিবদ্ধ করা,যাদেরকে থেরাপি দিলে কিছুটা উন্নতি হয়, যাদের পরিবারে অশান্তি তাদের মানসিকভাবে সুস্থতা আনার জন্য বিভিন্ন গেইম, গানের মাধ্যমে আনন্দ দেয়া। অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীতামূলক সচেতনতা প্রতিবন্ধী পরিবারের মধ্যে তুলে ধরেন। এতে ইতিবাচক সাড়া পান। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তরের এবং জন্মগত বিশেষ ক্ষমতার কথা জানতে শুরু করলেন। ২০০৭ সালে আন্দ্রিয়ানো নামে একজন বিদেশী এখানে তা দেখে অভিভুত হয়ে যান। বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধি,ক্ষমা ও গ্রহন করার মনোভাব তাকে আকৃষ্ট করে। এছাড়া টাকার অভাবে যারা পড়াশুনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাদেরকে ব্রাদার ফ্রাঙ্ক সহায়তা করতেন। ব্রাদার ফ্রাঙ্ক স্বপ্ন পূরনে যাদের পরিবার নেই, সমাজে যারা লাঞ্ছিত, অসহায় এরূপ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কলকাতার আশা নিকেতনের আদলে ২০০২ সালে গড়ে তোলেন আশানীড়। আশানীড় উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ সিএসসি এবং ঢাকার বিশপ থিওটোনিয়ান গমেজ সিএসসি। সাভারের একটি এতিমখানা থেকে রিকো এবং সোহাগকে আশানীড়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এসময় এসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন এলিয়ানোর ও’দ্রিসকোল। যার বেশিরভাগ সময় প্রতিবন্ধেিদর নিয়ে কাটতো। ধীরে ধীরে স্বপ্ন নীড় ও মেয়েদের জন্য পুষ্প নীড় গড়ে তোলেন ব্রাদার ফ্রাঙ্ক। চালু করা হয় ডে কেয়ার প্রোগ্রাম। যেখানে ২১ জন প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের সাথে বাইরের প্রতিবন্ধী ভাইবোন অংশগ্রহণ করে থাকে। ডে কেয়ারে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজ শেখানো হয়। ড্রয়িং, মিউজিক, গেইম, ব্যায়াম, স্পিস থেরাপি, কাটিং এন্ড পেষ্টিংসহ নানাবিধ খেলা। সাধারণত প্রতি সপ্তাহের বুধবার তাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই তাঁদের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখান। প্রশ্ন তুলেন, মুসলিম হয়েও খ্রীষ্টানদের সাথে বসবাস করে ধর্মান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না!  উত্তরে তাঁরা বলেন, না। লা’রস কম্যুনিটিতে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনার ব্যবস্থা আছে। যে যেই ধর্মের সে ঠিক সেই ধর্মের রীতি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে থাকে। খাবারের শুরুতে ও শেষে কৃতজ্ঞচিত্তে সৃষ্টিকর্তার অমূল্য দানের কথা ষ্মরণ করার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশের ব্যত্যয় ঘটে না। এছাড়া সব নীড় একত্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় দিবস এবং প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের জন্মদিবস, মা দিবস, বাবা দিবস, প্রতিবন্ধী দিবস,১লা  বৈশাখ,কালী পূজা, ইফতার পার্টি, ঈদ উৎযাপন, যীশু খ্রীষ্টের পুনরুথ্থান দিবস, বড়দিন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে উদযাপন করা হয়। লা’রস ওয়ার্কশপে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের বিভিন্ন ধরনের মোমবাতি, কার্ড, বুকমার্ক, চটের উপর কাজ, টাই এন্ড ডাই,পুতির মালা তৈরি করার মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া যে সমস্ত প্রতিবন্ধীরা লা’রসে আসতে পারেনা তাদের বাড়ি ভিজিট করে তাদের খোঁজখবর নেয়া হয়। বর্তমানে ২১ জন প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের থাকা খাওয়া আর্থিক খরচ কিভাবে আসে তা জানতে সহযোগিতা করেন একাউন্টস ও অফিস এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর রাশেদ মিনহাজ। তিনি জানান, ফ্রান্স ও জাপান দুটি দেশ ফান্ডিং করে থাকেন। মাসে সব মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৬.৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ব্রাদার ফ্রাঙ্ক এর জীবদ্দশায় ফান্ডিং নিয়ে ভাবতে হয়নি। ব্রাদার ফ্রাঙ্ক ২০১৪ সালের ১৬ই জানুয়ারিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সত্যিই লা’রসসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পূর্বের মতো বিদেশী অনুদান না পাওয়ায় স্থানীয় আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে শুরু করে অনেক বিত্তবান মানুষও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এই কম্যুনিটিতে ৭ জনকে নিয়ে একটি ট্রাষ্ট বোর্ড গঠন করা হয়েছে। যেখানে বর্তমান সভাপতি মি:সমরেন্দ্র সা্মংা, সহসভাপতি ডা:কে.আর.ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ  মি:গাব্রিয়েল রোজারিও, সাধারন সম্পাদক এস.কে এম.জহিরুল হক, সহসাধারন সম্পাদক মনীন্দ্র মোহন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসেস লীলা রায়, ক্রীড়া,প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আছেন মিসেস ফেরদৌস আরা মাহমুদা। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশু ও ছেলেমেয়েদের সাথে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবত কম্যুনিটি লিডার হিসেবে কাজ করছেন একজন জাপানিজ। যার নাম মিস নাওমী ইয়োমোতো। যিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের মায়ের স্নেহ ,মমতা দিয়ে আগলে রাখেন। হাসি-খুশি প্রাণবন্ত এই মানুষটি চোখে চশমা পড়েন, উচ্চতা বেশি নয়। গায়ের রং ফর্সা। বাংলা বুঝতে অসুবিধা হলেও চালিয়ে নেন। বাংলা বলার অভ্যাসটা আয়ত্ব করতে গিয়ে খুব বেগ পেতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর কথা শুনেই অনুমেয় হয়। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় কথা বললেন তিনি, ‘আমরা হচ্ছি এখানে সেবাদাসী। ঈশ্বরকে আমরা এই প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে দেখতে পাই। প্রতিবন্ধীদের সেবা মানে ঈশ্বরের সেবা আর এখানে আছি ঈশ্বরের সেবাদাসী হয়ে  কেননা এদের সেবা করলে ঈশ্বরকে পাওয়া যায়।’ সব ধর্মই মানুষের সেবার কথা বলে। ইসলাম ধর্মে আছে, রোজ হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রশ্ন করবেন,আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আমাকে খেতে দাওনি,আমি পিপাসার্ত ছিলাম আমাকে পানি পান করাওনি? আমি অসুস্থ ছিলাম আমার সেবা-শুশ্রুষা করনি। মানুষ বলবে, হে আল্লাহ আমরা আপনাকে দেখতে পাইনি। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি ক্ষুধিত,পিপাসার্ত, অসুস্থ মানুষরুপে তোমাদের এখানে গিয়েছিলাম! সত্যিই জাপানিজ মহিলা নাওমী অসুস্থদের সেবার মাঝেই ঈশ্বরকে দেখতে পান। আর আমরা? যাই হোক, লা’রস ময়মনসিংহ কম্যুনিটিতে ২ ধরনের কর্মসূচী পরিচালিত হচ্ছে। একটি হচ্ছে আবাসিক কর্মসূচী। যে কর্মসূচীর অধীনে ৩টি নীড় যথাক্রমে আশানীড়,স্বপ্ন নীড় ও পুষ্প নীড় সহকারী বা এ্যাসিস্ট্যান্টদের দ্বারা স্বার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অন্যটি হচ্ছে অনাবাসিক কর্মসূচী যেখানে আছে সাধারন ডে কেয়ার কর্মসূচী। পরিচালিত হয় সকাল ৯.৩০-১২.৩০ টা পর্যন্ত। রেইনবো ডে কেয়ার কর্মসূচী সকাল ৯.৩০-১২.৩০ আবার ২.৩০-৫.০০ ও ওয়ার্কশপ কর্মসূচী একই সময়ে পরিচালিত হয়। সেন্ট্রাল এ্যাডমিন থেকে উপরোক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নের সমস্ত বিল ভাউচার কম্যুনিটি লিডার মিস নাওমী ইয়োমাতো স্বাক্ষর করে অনুমোদন করে থাকেন। অনুদানের টাকাগুলো ময়মনসিংহ ন্যাশনাল ব্যাংক,দূর্গাবাড়ী শাখার একাউন্টে সরাসরি আসে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমেও টাকা আসে। এছাড়া যারা ভিজিট করতে আসেন এবং স্থানীয় দানশীলগণ তাঁরা নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। আপনিও প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের ভবিষ্যতে চলার জন্য আপনার দানের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। চলতি হিসাব নম্বর -০০০২৬৩৩০২৫৬৭৪ লা’রস ময়মনসিংহ। ন্যাশনাল ব্যাংক,দূর্গাবাড়ী শাখা,ময়মনসিংহ। গত ২০১৪-২০১৫ সনে খাগডহর তালতলায় হোটেল সিলভার ক্যাসেলের পাশেই ক্রয় করা হয়েছে ২২ শতাংশ জমি। যেখানে ময়মনসিংহ লা’রস কম্যুনিটি স্থানান্তরিত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সুদূর বিদেশ থেকে আমাদের এখানে এসে আমাদেরই প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের নীরবে সেবা-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমাদের জানান দিচ্ছেন,অন্যকে সেবা ও পরোপকারে সত্যিকারের সুখানুভুতি পাওয়ার সাথে সাথে বিধাতার নৈকট্য লাভ করা যায়। তাঁর জন্য ঢাকঢোল পিটাতে হয়না। প্রতিনিয়ত প্রার্থনা আর সেবাই তাঁদের ব্রত। আর এভাবেই মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার মধ্য দিয়ে পরষ্পরের প্রতি বিশ্বস্ততা রেখে এগিয়ে চলছে মানবতার নৌকা তথা লা’রস,ময়মনসিংহ।    

নি এম/রবীন্দ্রনাথ পাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71