মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৯ই মাঘ ১৪২৫
 
 
মন্ত্রিসভার অনুমোদন
মানসিক অসুস্থতার মিথ্যা সনদ দিলে জেল-জরিমানা
প্রকাশ: ০৬:৩৬ pm ১৬-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:৩৬ pm ১৬-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


মানসিক অসুস্থতা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সনদ দিলে জেল ও জরিমানার বিধান রেখে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত (মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত) ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

সচিব বলেন, ১৯২১ সালের একটি আইন ছিল দ্য লোনেসি অ্যাক্ট। এটিকে বাংলায় ও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সংক্রান্ত নাগরিকদের মর্যাদা সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে ৩ জানুয়ারি এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আইনে ৩১টি ধারা রয়েছে জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সব কার্যক্রম পরিচালনা, সম্প্রসারণ, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তিনি বলেন, অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে অবহেলা বা আদালতের কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন না করলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি এ আইনের অন্য কোনো বিধান বা এর অধীনে প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহযোগিতা বা প্ররোচনা বা প্রতিপালনের বিষয়াদি বা সরকারের কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রতিপালন না করা বা প্রতিপালন না করতে সহযোগিতা করা বা বাধা দিলে তিনি সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও জানান জিয়াউল আলম।

তিনি বলেন, খসড়া আইনে মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রদান এবং এ সংক্রান্ত সংক্ষুব্ধতার ক্ষেত্রে প্রতিকারের লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাবিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিধানের উল্লেখ রয়েছে খসড়া আইনে। অভিভাবকহীন ও আত্মীয় পরিচয়হীন মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত বিষয়াদি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিচারিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধানও খসড়া আইনে রয়েছে।

মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অপরাধ আমলে নেয়া এবং বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে খসড়া আইনে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে বলেও জানান জিয়াউল আলম।

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71