রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মা ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের মতো- ঈদের দিন যেন কোন মায়ের প্রান দিতে না হয়
প্রকাশ: ০৪:২৩ pm ২৪-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:২৩ pm ২৪-০৬-২০১৭
 
 
 


চন্দন; (সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি): আসছে ঈদ, আর মাত্র কয়েক দিন বাকী।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পালিত হবে “বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মুসলিম ধর্মালম্বী দেশ গুলোতে।” “অসাম্রদায়িক সোনার বাংলায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-মুসলিম সবাই যেন ভাই ভাই। আমরা সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়তে চাই।” তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ নরম পলি মাটির দেশ, চৈত্রের খড়ায় কখনও পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়, এ দেশ হোসেন সরোয়ার্দ্দীর, ফজলুল হকের, সুভাষ বসুর, মাষ্টার দা সূর্য্য সেনের।”

বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলে স্বাধীনতার জন্ম লগ্নে পাকিস্তান হায়নাদার বাহিনীকে এই শব্দটাই বলেছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধুর সেই চিরন্তর বাণী যেন, সত্য পথে পরিচালিত হয়, আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন অসাম্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ সোনায় ভরে যাবে, এটাই জনবাসীর প্রত্যাশা। কিন্তু মাঝে মাঝে সোনার বাংলায় “মোড়া” ঘুর্ণি ঝড়ের আবহাওয়ায় ঝরে পড়ে মা ঝর্ণা রানী ভৌমিকের মতো হাজার মায়ের কান্না। মায়ের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে।

কালো মেঘের বজ্রপাতে ঝরে পড়ে হাজার প্রাণ।  কি অপূর্ব? ইংরেজী সাল পড়তে না পড়তেই ২শত পরিবারে বাড়ির ঘর, খুলনায় চাকুরিচ্যুত এক পুলিশের অত্যাচারে হয়ে গেল একটি হিন্দু পরিবার লন্ডভন্ড। বাংলাদেশে বসবাসরত অসাম্প্রদায়িক বিকেববান মানুষ ও বিশ্বের সকল দেশ আজ বলে উঠলো বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের জন্য নিরাপদ নয়। এই কথা গুলো সোনার সাথে সাথে বিবেকবান মানুষের মনে এমন স্বজরে ধ্বাক্কা লেগেছে, যা সেই ত্রেতা যুগের রামভক্ত হুনুমানের মতো বুক চিরে না দেখালে, কেউ বিশ্বাস করতেই পারবে না। আজ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের প্রত্যাশা ধর্মীয় দিনেও যেন কোন মায়ের প্রান দিতে না হয়।

যেমন-গত বৎসর ঈদ-উল-ফিতরের সময় কিশোরী রাজার নামে খ্যাত কিশোরগঞ্জে ক্ষিপ্রবেগে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সভ্য বাংলাদেশের বর্বরতার চালিয়েছিল মাদ্রাসার ছাত্র এবং হিংস্র কতিপয় জানোয়াররা। জানোয়ার এই জন্য বলা হয়, যাদের কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বিবেক, সম্মান কিছুই নেই।” তারা শুধু পারে মানুষকে হত্যা, লুন্ঠন, জ্বালাও, পোড়াও নীতি অবলম্বন করতে পারে। আর যে সন্তান মা-কে ভালবাসতে জানে, সে হত্যা তো দুরের কথা মা-কে একবারের জন্যও কোন কটুক্তি করতে পারে না। তাই আজ মা ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের কথা মনে পড়ে গেল, ঈদ-উল-ফিতরের পূর্ব মুহুর্তে।

মা-কে আজ স্মরণ করতে গিয়ে মনের আবেগ আর ভালবাসায় লিখতে হলো-মা,তোমাকে স্মরণ করার মতো আমাদের আর কিছুই নেই। শুধু মাত্র তোমাকে প্রতি বৎসর স্মরণ করার মতো একটি মাত্র স্থান-তা হলো তোমার সন্তানদের ভালবাসা আর এই বেলা ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে তোমাকে স্বর্গীয় ভাবে চোখে দেখা। তুমি মরেও আজ অমর হয়ে থাকবে যতদিন বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীতে। মা তোমার মতো আমরা শুধু মাত্র একটি ট্রেনের প্লাট ফরম অর্থাৎ রেল ষ্টেশনের দাঁড়িয়ে আছি। কখন ট্রেন আসবে, ঘড়ি দেখে সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই নেই। ট্রেন আসবে, চলে যাব গন্তব্য স্থলে। এই তো বিধির খেলা, কপালের লেখা।

মা ঝর্ণা রানী ভৌমিক গত বৎসর ঈদ-উল-ফিতর এর সময় চিরতরে চলে গেলে আমাদের ছেড়ে। চলে গেলে বাংলার হিন্দু পরিবারের নিকট থেকে। না-মা, তুমি মৃত নও। তুমি আমাদের হৃদয়কে তোমার হাতের স্পর্শে  যে ভালবাসা দিয়েছো তা আজ বছরে বছরে স্মরণ করবো, যত দিন বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীতে। মায়ের মমতা, স্নেহ আর ভালবাসা যে বোঝে না, সে তোমার সন্তান নয়, সে এক নরপশু। মানুষ হয়ে মানুষকে খুন করা কোন ধর্মই এ বাক্যটি মেনে নিতে পারে না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাহাদুর এবং প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা চৌকসতা না দেখায়, তা হলে হয়তো বা ঝড়ে পরে যেতে পারে মা ঝর্ণা রানী ভৌমিক তথা বাংলার অত্যাচারীত, অনাচারীত, জোড় পূর্বক ধর্মান্তরিত, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হিন্দু নারীকে ধর্ষন।

 তাই আজ স্মরণ করছি কবিতার মাধ্যমে-
“কোন কোন সময় ভাবি আমরা সন্তানরা কতটা, নির্দয় হয়ে যাই মাঝে মাঝে, মায়ের এত আদর এত স্নেহ ভুলে যাই । আমরা একবারও ভাবি না মায়ের সেই, ১০ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা। আমরা ভুলে যাই মায়ের কোলে মাথা রেখে, সেই শান্তির ঘুমের কথা । আমরা ভুলে যাই আমাদের কান্না থেকে, মায়ের বুঝে নেয়া আমাদের আকুতির কথা ।

সত্যিই আমরা বড় হয়ে অনেক কিছু ভুলে যাই । তবে জানো মা তোমার কোলে মাথা রেখে,  আমি সারা পৃথিবী ভুলতে পারি কিন্তু তবুও মা, তোমার মত হতে পারি না । মা বল না আমি কেমন করে তোমার মত হব ? মা একবার বল আমি তোমায় কেমন করে ভালবাসবো । মা আমি যে এমন নির্দয় হতে চাই না। 

মা আমি যে তোমায় ভালবাসতে চাই সবার থেকে বেশী, অনেক বেশী।  আসলে আমরা সবাই ভালোবাসি মা কে , শুধু মুখ ফোটে বলতে পারিনা ভালোবাসি মা । সবাই মাকে শ্রদ্ধা করে সম্মান করে মায়ের চেয় আপন কেউ নেই এই পৃথিবীতে ।”

 

এইবেলাডটকম/গোপাল/এসএম/সুমন

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71