মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯
মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
মোদীর বার্তা ফুটে উঠল অক্ষয় অভিনীত- টয়লেট:এক প্রেম কথায়
প্রকাশ: ০৭:২৬ pm ২৭-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:৪১ pm ২৭-০৮-২০১৭
 
 
 


বার্তাটা স্পষ্ট। কার বার্তা, সেটাও পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। অক্ষয় কুমারের ছবির মাধ্যমে যে সচেতনতা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাওয়া হয়েছে, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে ছবির চিত্রনাট্য সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হলে চোখে লাগে বইকী ! ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ও সেই দোষেই দোষী। নয়তো ভরপুর বিনোদন জোগানোর পাশাপাশি একটা প্রয়োজনীয় ইস্যুকে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়েছে ‘টয়লেট’-এর নির্মাতাদের।

উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামের পণ্ডিতের বোকাসোকা ছেলে কেশব (অক্ষয় কুমার)। কুষ্ঠির দোষ কাটানোর জন্য তার বাবা গরুর সঙ্গে ধরেবেঁধে বিয়ে দিয়ে দেয় কেশবকে। বাবার মুখের উপর কিছু বলার সাহস নেই তার। এরই মাঝে আচমকাই কেশবের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় জয়ার (ভূমি পেড়নেকর)। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল জয়া স্মার্ট, বুদ্ধিমতী, স্পষ্টবক্তা। রাধা সাইকেল’এর দোকানদার কেশবকে সে পাত্তা দেয় না মোটেই। একদিন কেশবও পাত্তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফরমুলা মেনে প্রেমে পড়ে নায়িকা! ওদিকে পণ্ডিতের নিদান, বাঁ হাতে ছ’টা আঙুল আছে এমন বৌমাই চাই! না হলে মাঙ্গলিক কেশবের কপালের দোষ খণ্ডাবে না। বয়স বেড়ে যাওয়া বিয়েপাগলা কেশবকে মরিয়া হয়ে অন্য উপায় ঠাওরাতেই হল। বাবার চোখে ধুলো দিয়েই ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের রাত না ফুরোতেই জয়া আবিষ্কার করল, শ্বশুরবাড়িতে শৌচালয় নেই।

‘লোটা পার্টি’র সঙ্গে হাতে হ্যারিকেন ধরে ভোররাতে মাঠে যেতে হবে তাকেও! প্রতিবাদ জানায় জয়া। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগে জানলে এ বাড়িতে বিয়েই করত না সে। প্রথম প্রথম মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষমেশ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে জয়া। এরপর লড়াইটা আর শুধু তার থাকে না। কেশবও স্ত্রীয়ের হয়ে লড়তে নেমে পড়ে । বাবার বাধ্য ছেলে প্রথমে কৌশলে কার্যোদ্ধার করে, পরে  বিদ্রোহ ঘোষণা করে গ্রামে।

কিছু দিন আগে মুক্তি পাওয়া এক ছবির সুপারস্টারকে কেন বার বার মেরে বেরিয়ে যান অক্ষয় কুমার, সেটা এই ছবি দেখলে বোঝা সম্ভব। একটা খুব জরুরি বার্তা আমজনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটা এ ছবিতে দারুণভাবে করেছেন খান-বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। আর তাঁর চরিত্রটাও বড্ড মাটির মতই। আসলে ঠিক সময়ে ঠিক প্রজেক্টটা বেছে নিছেন অক্ষয়। যাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ছবি দাঁড়াত না, তাঁদের গুড বুকে জায়গাটা পাকা করে ফেলেছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি অভিনেতা।

ছবির শুরুতেই বলে দেওয়া হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে মাথায় রেখেই ‘টয়লেট...’ বানানো হয়েছে। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও। আর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তো ইতিমধ্যেই ছবিটাকে কর ছাড় দিয়ে দিয়েছেন সে রাজ্যে। ছবির সংলাপের বিভিন্ন জায়গায় গুঁজে দেওয়া হয়েছে সমাজ সংস্কারের বার্তা। কোনও সাবপ্লট না থাকায় সেগুলো শেষের দিকে দীর্ঘ লেকচারের মতো শোনায়।

পুরো ছবিটা আরও অনেকটাই ছোট হতে পারত। ‘বেবি’ বা ‘স্পেশ্যাল ২৬’এর মতো ছবির সম্পাদক শ্রী নারায়ণ সিংহের প্রথম পরিচালনা এটা। নিজের প্রথম সন্তানের প্রতি সম্ভবত নির্দয় হতে পারেননি তিনি! তবে উত্তরপ্রদেশের গ্রাম, মানুষজন, লোকাচার, হোলি খেলা— সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে। প্রত্যেক বাড়িতে শৌচালয় তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে যে গোঁড়া মানসিকতার গোড়ায় আঘাত করা হয়েছে, সেটা দরকার ছিল। কারণ শহরের মাল্টিপ্লেক্সে বসে পপকর্ন খেতে খেতে ছবিটা দেখতে গিয়ে আমরা অনেকেই অনুভব করতে পারব না, সমস্যাটা আসলে কতটা গভীর। 

‘পড়াশুনা জানা’ ‘জিন্‌স পরা’ জয়াই এ ছবিতে প্রতিবাদের মুখ। কিন্তু বাস্তবে যে প্রিয়ঙ্কা ভারতী শৌচালয় না থাকায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছিলেন, তিনি কিন্তু তথাকথিত ‘শিক্ষিত’, ‘স্মার্ট’ ছিলেন না! ১৯ বছরের সেই অতি সাধারণ গ্রাম্য মেয়েটি এখন মিডিয়ার সৌজন্যে প্রায় সেলেব্রিটি। অথচ সত্যিই কেন এতদিনেও গোটা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় পাকা শৌচালয় তৈরি হল না, বিলম্বের কারণটা ঠিক কী, সেটা খোঁজার চেষ্টা কিন্তু চোখে পড়ে না। এ ছবিতেও সেটা অনুপস্থিত। পঞ্চায়েত ফিরিয়ে দেওয়ায় কেশব তার ভাইকে নিয়ে সরকারি অফিসের দরজায় দরজায় ঘোরে কোটি টাকার স্ক্যামের রিপোর্ট হাতে নিয়ে। জবাব মেলে, সরকার শৌচালয় বানানোর বরাদ্দ টাকা মঞ্জুর করলেও গ্রামের মানুষদের অসহযোগিতায় সেটা সম্ভব হয়নি। তাহলে সেই মঞ্জুর হওয়া কোটি কোটি টাকার হিসেব কে মেলাবে? বাস্তব ছবিটাও কি তাই? সরকারি প্রজেক্টে কারচুপি স্বাভাবিক ঘটনা, সরকারি কাজে তো দেরি হবেই, সব দোষ সরকারকে দিলে কীভাবে চলবে... এ রকম একটা অ্যাপ্রোচ রয়েছে চিত্রনাট্যে। ‘সরকার তো মানুষের জন্য নোটবন্দি করতে পেরেছে...’র মতো সংলাপে মোদী-স্তুতি বড্ড বেশি করে চোখে পড়েছে। তবে ছবিটা উতরে গিয়েছে অক্ষয় কুমারের একার কাঁধে ভর করেই। কেশবের গ্রাম্যতা, প্রেম, অসহায়তা, প্রতিবাদ সবটাই দুর্দান্ত পোর্ট্রে করেছেন অক্ষয়। তাঁর কমিক টাইমিংয়ের কথা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যোগ্য সঙ্গত ভূমি পেড়নেকরেরও। ঠিক যেন পাশের বাড়ির মেয়েটা !

দ্বিতীয় ছবি অনেকটাই মাইলেজ দিল অভিনেত্রীকে। অনুপম খেরকে স্ক্রিপ্টে আরেকটু জায়গা করে দিতেই পারতেন পরিচালক। পণ্ডিতের চরিত্রে সুধীর পাণ্ডে এবং কেশবের ভাইয়ের চরিত্রে দিব্যেন্দু শর্মার কথা আলাদা করে বলতেই হবে। ‘হাস মত পাগলি’র মতো গানে স্বমহিমায় পাওয়া গেল সোনু নিগমকে। মোটের উপর ভরপুর বিনোদন জোগানোর মতো ছবি এটা। তাই শাহরুখের ছবির দুঃখ ভুলতে একবার ‘টয়লেট..’এ ঢুঁ মারতেই পারেন!


/ডিএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71