বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
বগুড়ার মহাস্থানগড় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামো
প্রকাশ: ০১:২৬ am ০৭-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:২১ am ০৭-০২-২০১৭
 
 
 


বগুড়া প্রতিনিধি : ইতিহাস-ঐতিহ্যের খোঁজে জেলার মহাস্থানগড়ের বৈরাগী ভিটায় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন পোড়া মাটির ফলক, বল বেশ কিছু প্রতত্ত্ব সম্পদ।

এ খনন কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে।  আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত খনন কাজটি চালিয়ে যাবে। খননে পাওয়া বিভিন্ন পোড়া মাটির ফলক ও প্রতত্ত্ব সম্পদ দিয়ে প্রত্ব গবেষকরা খনন এলাকাটির ইতিহাস বের করার চেষ্টা করবেন।

বগুড়ায় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামো-২ জানা যায়, প্রাচীন প্রসিদ্ধ খ্যাত নগরী বগুড়ার মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড়টি আড়াই হাজার বছর আগের ইতিহাস ও ঐহিত্য হিসেবে সমৃদ্ধ। মহাস্থানগড়ের ভিতরের একটি অংশের নাম বৈরাগীর ভিটা।

এই স্থানটি একটি পুরাতন রাজবাড়ি ছিল বলে ধারণা করা হয়। অনুমান করা যায় রাজা কর্তৃক মুনি, ঋষি বা বৈরাগীর সেবা করা হতো বলে স্থানটির নাম বৈরাগীর ভিটা নামে পরিচিত।

মহাস্থানগড়ে দুর্গ নগরীর প্রাচীরের দক্ষিণে অবস্থিত বৈরাগীর ভিটায় ১৯২৮ সালের দিকে প্রথম প্রতাত্ত্বিক খনন চালিয়ে পাল আমলের প্রাথমিক ও শেষ যুগের দু’টি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। মন্দির দু’টির উত্তরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আরো কিছু স্থাপত্যকর্ম পাওয়া যায়।

প্রাথমিক পাল যুগের মন্দিরটির ভিত্তি প্রাচীর উত্তর দিকে ২৯.৮৭ মিটার ও পূর্ব দিকে ১২.৮ মিটার। প্রাচীরটি মোল্ডেড ব্যান্ড দ্বারা অলঙ্কৃত। এর দক্ষিণ দিকে অপর মন্দিরটি অবস্থিত।

মন্দিরটিকে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহমান একটি নালা বিভক্ত করেছে। নালাটির একটি অংশ ইট দিয়ে নির্মিত ও আরেকটি অংশ প্রাথমিক গুপ্ত আমলের কালো কষ্টি পাথর দিয়ে নির্মিত।

গুহায় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামো ২ এরপর দীর্ঘদিন খনন কাজ বন্ধ থাকলেও তা আবার শুরু হয়েছে। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিপুন হাতে খনন কাজ করছেন তারা।খননে বেরিয়ে আসছে হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রত্নতত্ত্ব ভান্ডার।

এ পর্যন্ত সন্ধান মিলেছে গুপ্ত ও মৌর্য আমলের বিভিন্ন অবকাঠামোর।বৈরাগী ভিটায় প্রত্নতও্ব খনন কাজ শুরু করেছে প্রত্নতও্ব অধিদফতর। প্রতিদিন প্রায় ২৫-২৬ জন শ্রমিক এ খনন কাজে অংশ নিচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলছে এ খনন কাজ। সকাল হতেই নিয়োজিত শ্রমিকরা ছুটছেন বৈরাগীর ভিটায়।

খনন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। কেউ খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত।কেউবা নির্ধারিত পাত্রে মাটি ভরে মাথায় উঠিয়ে ফেলতে নিয়ে যাচ্ছেন অন্যত্র।

ছোট ছোট যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইটের ভাঁজে ভাঁজে থাকা মাটি ও ময়লা পরিষ্কার করছেন অনেকেই। প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত চলছে শ্রমিকদের এসব কর্মযজ্ঞ।

বগুড়ায় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামো-২ এ খনন কাজের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন আমলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে খনন কাজ শুরু হয়।আগামী মার্চ পর্যন্ত খনন কাজ চলবে।

প্রয়োজন হলে এ খনন কাজের সময় বাড়াতে বা কমাতে পারে।খনন কাজের ফিল্ড ডিরেক্টর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, খনন কাজ পরিচালনায় ছয় সদস্য বিশিষ্ট দল গঠন করা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অর্থায়নে এ খনন কাজ চলছে।এ দলে মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান দল নেতা হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন, ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ ও অফিস সহকারী আব্দুস ছালাম।

দলনেতা মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান জানান, নিয়মিত খনন কাজের অংশ হিসেবে এ খনন কাজ চলছে। তবে বৈরাগীর ভিটায় প্রথম খনন কাজ করা হয়েছিল জানামতে ১৯২৮ সালের দিকে। এরপর এখানে আর খনন কাজ চালানো হয়নি।

বগুড়ায় খননে মিললো গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামো-২ তিনি আরো জানান, আড়াই হাজার বছরের প্রসিদ্ধ নগরী মহাস্থানগড় প্রত্নতও্ব সম্পদের বিশাল ভান্ডার। এ নগরীর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু পুরণো আমলের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ। যা এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভীষণভাবে আকর্ষিত করে।

কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান আরো জানান, খনন কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা সম্ভব। তবে এ পর্যন্ত গুপ্ত ও মৌর্য আমলের অবকাঠামোর পাশাপাশি বেশ কিছু প্রত্নতও্ব সম্পদ পাওয়া গেছে।খননে যে অবকাঠামো পাওয়া গেছে তা গুপ্ত ও মৌর্য আমলের সময়কার।

এইবেলাডটকম/দীপক/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71