রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
মৌলভীবাজারে আবারও বন্যা : অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত
প্রকাশ: ০৭:০৩ pm ২৮-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:০৩ pm ২৮-০৮-২০১৭
 
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
 
 
 
 


চার-পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে এবং উজান থেকে ছোট ছোট ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। 

কয়েকদফা বন্যাক্রান্ত হাওর কাওয়াদীঘী বেষ্টিত এই দুটি উপজেলা, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছিলো। কিন্তু চার-পাঁচ দিনের টানা  বৃষ্টিতে  এবং উজান থেকে ছোট ছোট ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে  আবারও এই দুটি উপজেলার মানুষ বন্যাক্রান্ত। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশত গ্রাম।বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে কাচাপাকা রাস্থাঘাট, ফসলী জমি ও রুপা আমনের বীজতলা। 

সরজমিন আখাইলকুড়া ও একাটুনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও মৌসুমী ফসলাধি। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্ঠিপাতে বন্যার পানি আখাইলকুড়া ইউনিয়নের আখাইলকুড়া, নোয়ারাই, পাগুড়িয়া, মিরপুর এবং একাটুনা ইউনিয়নের উলুয়াইল, রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া স্থবির হয়ে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

কয়েকমাস ধরেই বন্যার পানির কবলে রয়েছে আখাইলকুড়া ও একাটুনা ইউনিয়নের অনেক এলাকা। জগতপুর, কান্দিগাও, জুমাপুর, একাটুনা, কানিয়া, রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবেই বন্ধ রয়েছে এসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এসব এলাকার মানুষ। কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে পরেছে।

লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন মৌসুমী ফসল চাষীরা। তারা বলছেন বন্যার পানি এভাবে আরো কিছুদিন থাকলে ফসল পচেঁ নষ্ট হয়ে যাবে। 

আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ইয়াওর মিয়া, আছিদ মিয়া, কামাল মিয়াসহ অনেকেই জানান, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম গ্রাম এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। ফলে ফসলাদি নষ্ট হওয়াসহ নানা ক্ষতি পোহাতে হবে তাদের।

একাটুনা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান জানান, বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। নতুন করে কচুয়া, মল্লিকসরাইসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে উলুয়াইল আলিম মাদরাসা বন্ধ রয়েছে বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট সব পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, এভাবে বৃষ্টি চললে ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে চলমান বন্যা। তবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ১৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাওরের পানি না কমায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জনান, একাটুনা ও আখাইলকুড়া ইউনিয়নে ৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বন্যা কবলিত একাটুনা ইউনিয়নে ১৪ মেট্রিক টন ও আখাইলকুড়া ইউনিয়নে ১৬ মেট্রিকটন চাল এবং ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কে/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71