রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
রবিবার, ২রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
মৌ চাষে সফলতা নাসির নগরে
প্রকাশ: ০৪:০১ pm ০৫-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ০৪:০১ pm ০৫-০২-২০১৯
 
সরাইল প্রতিনিধি
 
 
 
 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার ফান্ডাউক ইউনিয়নের  আতুকুড়া গ্রামে মৌ চাষে এসেছে সফলতা। এখানে ক্রমেই বাড়ছে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ, শীতের মৌসুমে সরিষা আবাদ হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। নাসির নগর উপজেলা কৃষি অফিসের নির্দেশনায় বাড়ছে আধুনিক বাক্স পদ্ধতিতে মৌ চাষের প্রবণতা। 

শীত কালে সরিষা, ধনিয়া ও কালাই চাষের উপযুক্ত সময়। মৌ মাছি মৌ মাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাড়াওনা একবার ভাই, ঐ ফুল ফুটে বনে যাই মধু আহরণে, দাড়াবার সময় তো নাই। এরই ফলশ্রুতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার যুবক রিমন রহমান গড়ে তুলেছেন নাসির নগর উপজেলার ফান্ডাউক ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ। তিনি প্রবাসে থেকে এই মৌ চাষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরেন। তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে মৌ চাষের কাজে অভিজ্ঞতা আছে এমন লোকজন খুজতে থাকেন। অবশেষে পেয়ে যান শেখ আলীম উল্লাহ নামের একজনকে, তাকে  সংগী করেই গড়ে তুলেছেন মিষ্টার বি মৌ খামার।  তিন বছর যাবৎ চালিয়ে যাচ্ছেন মিষ্টার বি মৌ খামার, প্রথমে তিনি ছোট পরিসরে গড়ে তুলেন মিষ্টার বি খামার। পরে আস্তে আস্তে এখন তার খামারে এখন প্রায় তিন শত আধুনিক বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। তার সফলতা দেখে পাশে আরো একটি খামার গড়ে উঠেছে সেখানেও আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এরা এই আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষ করায় এলাকার মানুষের মধুর চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও বিক্রি করছে।

কথা হয় মিষ্টার বি খামারের তত্বাবধায়ক শেখ আলীম উল্লাহ'র সাথে সে বলেন ছোট বেলা থেকেই সে মৌ চাষের সাথে জড়িত। সে আরো জানায় কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই অন্যদের দেখে দেখে মৌ চাষে আকৃষ্ট হয়। তার গ্রামের বাড়ি টাংগাইলে, সে তার জেলায় বিসিকে মহিলাদের মৌ চাষের কার্যক্রম দেখে দেখেই শিখেছে। সে মধ্য প্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত, ওমান, দুবাই থেকে মৌ চাষের সব দিক ভালো ভাবে আয়ত্ব করেন। পরে রিমন রহমানের সাথে কথা হলে এর পর মিষ্টার বি মৌ খামারে  যোগ দেন তিনি। তিনি বলেন এখানে একটি বাক্স তৈরিতে দশ হাজার টাকা খরচ পরে যায়। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌ মাছি থাকতে হবে, তাহলে মধু সংগ্রহে সুবিধা হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সরিষা ও ধনিয়ার আবাদ হয় আর এই সময়টাতে মধু সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত সময়। প্রতিটি বাক্সে এক সপ্তাহ পর ৩-৫ কেজি মধু আহরণ করা যায় বলে যানান আলীম উল্লাহ। প্রতি সপ্তাহে ২৫০ বাক্সে ১০০০থেকে ১২০০কেজি সংগ্রহ করা যায়।  তিনি আরো বলেন সরিষার মৌসুম শেষ হলে সামনে লিচুর মৌসুম আসছে তখন লিচুর ফুল থেকে মধু আহরন করা হবে। তখন তারা এখান থেকে অন্যত্র চলে যাবেন। 

উপজেলা উপ-সহকারী  কৃষি কর্মকর্তা শাহজাদী আক্তার জানান, আতুকুড়া গ্রামে আধুনিক পদ্ধতিতে তিন বছর যাবৎ মৌ চাষ হয়ে আসছে। এখানে আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক আধুনিক বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকরা দিনে দিনে মৌ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষক যেমন সরিষা ক্ষেতের সাথে মৌ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সরাসরি খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এখন তারা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও  বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে স্থানীয়দের মধুর চাহিদাও মিটছে।

নাসির নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলছিলেন, স্থানীয় কৃষকদের মনে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল  ফসলের সাথে মৌ চাষ করলে ফলন কম হয়। কিন্তু তাদের বুঝানো যাচ্ছিলো না যে ফসলের সাথে মৌ চাষ করলে ফলনের কোন সমস্যা হয় না বরং ফলন আরো বেড়ে যায়। পরে তাদের ধারণা আস্তে আস্তে পাল্টে যায়। তাদের বুঝানো হয় যে এখানে মৌ চাষ হলে ফসলে কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়না, অন্য পোকা এখানে ফসলের ক্ষতি করতে পারেনা। 

স্থানীয় ফান্ডাউক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য  শেখ সৈয়দ উদ্দিন বলেন, প্রথম যখন এই গ্রামে মৌ চাষের জন্য বাক্স স্থাপন করতে আসেন তখন এখান কার মানুষ তাদের বাধা প্রদান করেন। স্থানীয় কৃষকরা মনে করতো ফসলের সাথে মৌ চাষ করলে তাদের ক্ষতি হবে ফসল নষ্ট হবে। পরে তাদেরকে বুঝানোর পর তাদের সেই ভুল ধারণা কেটে যায় এখন খামারি এবং কৃষক উভয়েই লাভবান। 

নি এম/দ্বীপক

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71