মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৪ঠা পৌষ ১৪২৫
 
 
ময়নুলের নামে মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় শোভা রায়
প্রকাশ: ০৪:০৮ pm ১২-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:০৮ pm ১২-০৪-২০১৮
 
খুলনা প্রতিনিধি
 
 
 
 


খুলনার পাইকগাছা উপজেলা মহিলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার স্বামীকে পিটান ময়নুল ইসলাম (৪৪)। 

এ ঘটনায় শিক্ষা কর্মকর্তার স্বামী বাবলু কুমার ঘোষ বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ময়নুল ও তার এক সহযোগীসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একদিন পর ময়নুল ইসলামও বাদী হয়ে পাল্টা মামলা করেন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার পরিবারের নিরাপত্তাসহ আইনগত সহযোগীতা চেয়ে জেলা প্রশাসক, এসপি ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়রা জানায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বাবলু কুমার ঘোষের স্ত্রী শোভা রায় পাইকগাছায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এসময় উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের বাতিখালী গ্রামের সরদার হারুন অর রশিদের ছেলে স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক ও আওয়ামীলীগ নেতা ময়নুল ইসলাম শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। শোভা রায় বিষয়টিকে ঘৃণার চোখে দেখে প্রথম থেকেই তার কড়া প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালেও ময়নুল তাকে দেখে অনুররূপ অঙ্গ-ভঙ্গি করেন। কর্মকর্তা শোভা যথারীতি এর প্রতিবাদ করেন। পরের দিন ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শোভার স্বামী উপজেলা অফিসার কোয়ার্টারে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ময়নুল ও তার আরেক সহযোগী স ম আ. ওহাবের নেতৃত্বে আরো ৩/৪ জন অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তার পথরোধ করে আকস্মিক মারপিট ও গালিগালাজ করতে থাকেন। বাবলু তার প্রতিবাদ করায় তারা চাকু ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। এক পর্যায়ে বাবলুর চোখের নিচে চাকু বসে যায়। একই সময় লোহার রডে তার নাকের হাড় ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়। এক পর্যায়ে তারা তার পকেট থেকে ৮৫ হাজার ৬শ’ টাকা বের করে নেয়। এসময় বাবলুর আত্মচিৎকারে সাক্ষীসহ অন্যান্যরা এগিয়ে এসে তাদের বাধা দিলেও তারা নিবৃত হয়নি। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এসময় তারা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। 

ওই ঘটনায় ৮ এপ্রিল রবিবার শিক্ষা কর্মকর্তার স্বামী বাবলু ঘোষ বাদী হয়ে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দঃ বিঃ ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৯ ধারায় ময়নুলকে প্রধান করে একটি মামলা করেন। মামলা নং-সি আর ২১১/১৮। এদিকে ময়নুল ইসলামও শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯ এপ্রিল সোমবার পাল্টা মামলা করেন। মামলা নং সি আর ২১২/১৮। 

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শোভা রায় বলেন, ময়নুল আমার স্বামী ও আমার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে হয়রানি করে চলেছে। এর ফলে আমি সার্বক্ষনিক আতঙ্কগ্রস্থসহ নিরাপত্তহীনতায় আছি। 

 

এমএ/ বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71