মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৭ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ময়মনসিংহের বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালা দেবী
প্রকাশ: ০৮:৫৪ am ১৮-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫৪ am ১৮-০৬-২০১৭
 
 
 


ময়মনসিংহ:: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় জয়ন্তী বালা দেবী (৬০) ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে। সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন তাঁর স্বামী।

স্বয়ং বঙ্গবন্ধু চিঠি দিয়ে সহানুভূতি-সহমর্মিতা জানিয়েছেন এ বীরাঙ্গনার প্রতি। বছর দুয়েক আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বীরাঙ্গনা হিসেবে তাঁকে সম্মাননাও জানায়। সেই জয়ন্তী বালা এবারের যাচাই-বাছাইয়ে বীরাঙ্গনার তালিকাভুক্ত হতে পারেননি।

 

বীরাঙ্গনা জয়ন্তী বালার অভিযোগ, ‘টাকা দিতে পারি নাই। তাই (তালিকায়) নাম উঠে নাই। ’ তালিকায় জয়ন্তী বালার নাম না ওঠার বিষয়টি এত দিন চাপা থাকলেও এখন জানাজানি হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে মহেশপুর গ্রামে বসবাস করা জয়ন্তী বালা জানান, ১৯৭১ সালে তাঁর স্বামী নিতাই চন্দ্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ভালুকা সেতুর নিচে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন নিতাই চন্দ্র। তাঁর লাশটিও পাওয়া যায়নি। স্বামীকে হারানোর পর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন জয়ন্তী বালা। প্রায় দুই মাস তিনি আটক ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে। যুদ্ধ শেষে আবার গ্রামে ফিরে আসেন জয়ন্তী। জয়ন্তী বালার কাছে আসে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে সহানুভূতি-সহমর্মিতা জানানো একটি চিঠি।  

আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী ইমদাদুল হক সেলিম ২০১৫ সালে জয়ন্তী বালা, সখিনা খাতুনসহ তিনজন বীরঙ্গনাকে খুঁজে বের করেন। স্বাধীনতা দিবসে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বীরাঙ্গনা হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সাত-আট মাস আগে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে আবেদন করেন জয়ন্তী বালা। কিন্তু তাঁর নাম আর তালিকাভুক্ত হয়নি।

জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এবার প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ এপ্রিল ১৫৬ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত মে মাসে এসব নাম ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু তালিকায় স্থান হয়নি বীরাঙ্গনা জয়ন্তী ও তাঁর স্বামীর। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যরা।

জয়ন্তী বালা বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তিনি শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু কেন তিনি বাদ পড়লেন বুঝতে পারছেন না। জয়ন্তী বালা বলেন, স্থানীয় কেউ কেউ তাঁর কাছে টাকা চেয়েছিল। কিন্তু তিনি গরিব। টাকা দেবেন কোথা থেকে। ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, জয়ন্তী বালাকে তাঁরা বীরাঙ্গনা হিসেবে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন এবার তাঁর নাম বাদ পড়ল তিনিও বুঝতে পারছেন না।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জয়ন্তী বালা একজন বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজে তাঁদের (জয়ন্তী) বাড়িতে খাবার খেয়েছেন। জয়ন্তী বালার স্বামী যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আবু বক্কর সিদ্দিক আরো বলেন, তিনি বিশেষ কারণে যাচাই-বাছাই কমিটিতে ছিলেন না। কাজেই কেন জয়ন্তী বালা বাদ পড়লেন তিনি জানেন না।

সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) আ ন ম নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম বলেন, জয়ন্তী বালার বিষয়টি তিনি এখন সাংবাদিকদের কাছে শুনছেন। অনেক লোক আবেদন করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আবার আরো লোক এসেছিল। কাজেই জয়ন্তী বালার কথা এখন তাঁর মনে আসছে না। তিনি আরো বলেন, জয়ন্তী বালা কোথাও হয়তো প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তবে আপিলের সুযোগ আছে। জয়ন্তী বালার বিষয়টি সত্য হলে আপিলে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71