শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ময়মনসিংহে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে রাতভর ধর্ষণ
প্রকাশ: ০১:২২ pm ৩০-১০-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:২২ pm ৩০-১০-২০১৭
 
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
 
 
 
 


ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিজ ধারা গ্রামের এক কিশোরীকে (১৪) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেছে এক বখাটে। পরে সকালে কাজী ডেকে আনার কথা বলে ধর্ষক উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওই নির্যাতিত কিশোরীর। 

সোমবার সকালে উপজেলার ধারা ইউনিয়নের নিজ ধারা এলাকায় সাংবাদিকরা গেলে এমন চাঞ্চল্য একটি তথ্য বের হয়ে আসে। 

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নিজ ধারা গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে বইজ্ঞার ছেলে ধর্ষক আব্দুস ছালাম (৩৮) পাশের বাড়ির ওই কিশোরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলে আসছিলেন। সেই কথার একপর্যায়ে তাদের মাঝে সৃষ্টি হয় প্রেম ভালবাসা। পরে পরিবারের লোকজন এমন ঘটনা টের পেয়ে তার বাবাকে জানালে তখনই মেয়েটিকে বাবা নিয়ে যায় গাজীপুর তার কর্মস্থলে। পরে কিশোরীটি গাজীপুরের সালনা এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফেক্টরীতে তার বাবার সাথে শ্রমিকের কাজে যোগদেন।

পরে গত ২২ অক্টোবর শনিবার বিকালে নির্যাতিতা কিশোরীকে সালাম তার এক বন্ধুকে দিয়ে ফুসলিয়ে উপজেলার স্বদেশী গ্রামে সালামের মামার বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানেই তাকে রাতভর নির্যাতন করেন সালাম। পরদিন সকালে কাজী ডেকে আনার কথা বলে সালাম ও তার বন্ধু উধাও হয়ে যায়। 

অন্যদিকে জানা গেছে, সালাম ৪ সন্তানের জনক। সে এরআগে আরও চারটি বিয়ে করেছে। তার সংসারে বউ ও সন্তান রয়েছে বলে এলাকায়বাসী জানিয়েছেন। এদিকে সরেজমিনে নির্যাতিত ওই কিশোরীর বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন কিশোরী। 

তিনি সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, সালাম আমাকে অনেক আগে থেকেই জ্বালাতন করতো। ফোনেও অনেক কথাবার্তা বলতো। পরে গত ২২ অক্টেবর শনিবার বিকালে আমাকে ফোনে বলেছে, আমি যদি তার সাথে না আসি সে গাড়ীর তলে পরে মরে যাবে। এমন ভয় দেখানোর পর তার সাতে আমি গাজীপুর থেকে হালুয়াঘাট আসি। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তার মামার বাড়ি স্বদেশী গ্রামে নিয়ে যায়। পরে সারারাত আমাকে নির্যাতন করে। সকাল বেলা সালাম কাজী ডেকে আনার কথা বলে আর ফিরে আসেনি। 

নির্যাতিত কিশোরী আরও জানান, এরআগে একদিন ধর্ষক ছালাম আমাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন আমি চিৎকার করে ছিলাম। ওই সময় তার খালার জন্য আর কিছু করতে পারে নাই। আমি ধর্ষক সালামের কঠিন বিচার চাই ।

অন্যদিকে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে চলছে ধর্ষণের রফাদফা। এমন তথ্যও মিলেছে একাধিক সুত্রে। ভিকটিম এবং তার পরিবার যাতে আইনের আশ্রয় না নিতে পারে সে জন্যেও রাতের আধাঁরে নীলনকশা চালাচ্ছে একটি কুচক্র মহল। যার কারনে গত ২২ অক্টোবর দিবাগত রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ ঘটে এক সাপ্তাহ পরে। 

এদিকে নির্যাতিতার মা জানান, এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রামে মাতাব্বরা ধর্ষণের ফয়সালার ভার নিয়েছে। তারা নাকি এর বিচার করে দিবেন এমনটিই জানালেন সাংবাদিকদের কাছে। তিনি আরও জানান, অভাবের তাড়নায় মাস খানেক পুর্বে বাবার সাথে গার্মেন্টস এর কাজ শিখার জন্যে গাজীপুর সালনায় গিয়েছিলেন মেয়ে। ছালাম তার প্রতিবেশী বিধায় পূর্ব থেকেই তারসাথে পরিচয় ছিলো। মোবাইল ফোনে কথাও হতো। পরে গত ২২ অক্টোবর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে গাজীপুর সালনা থেকে নিয়ে আসে হালুয়াঘাটের স্বদেশী গ্রামে।

তিনি আরও জানায়, ছালামের মামার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতভর নির্যাতন করে। সকাল বেলা কাজী ডেকে বিয়ে করবে এমন আশ্বাস দিয়ে মেয়েকে ফেলে পালিয়ে যায় বখাটে ছালাম। সকালে খবর পেয়ে এলাকার লোকজনকে নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। 

এ বিষয়ে ছালামের পিতা আব্দুল হামিদ বলেন, আমি বাড়ীতে ছিলাম না। জামাতের সাথে চিল্লায় গিয়েছিলাম। ঘটনার পরে আমি বাড়িতে এসে লোকমুখে তা শুনেছি। আমার ছেলে নেশা করে। আমার কথাও শুনেনা বাবা। একাধিক বিয়ে করেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিয়ে করেছে ঠিকই কিন্তু কোন বউকেই বাড়ীতে আনতে দেইনি। 

স্থানীয় ধারা ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বিপ্লব বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই শুনিনি। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছেই শুনেছি। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে স্থানীয়ভাবে তা আপোস মীমাংসা করার কোন সুযোগ নেই। মেয়েটি আইনের আশ্রয় নিবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বিষয়টি তিনি তলিয়ে দেখবেন বলে জানান চেয়ারম্যান। 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নুরে আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিবার কোন সুযোগ নেই। তিনি ওসি সাহেবকে আইনগত ব্যাবস্থা নিতে বলে দিবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। 

হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া থানার সার্কেল আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনে ওসি সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে থানায় নিয়ে আসতে। ভিকটিমের কথা শুনে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। 

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সকালে পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিমকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাটি জেনে  বিষয়টি দেখবো। অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে।

আর/আরডি/
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71