বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
যবিপ্রবি’র ১০ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
প্রকাশ: ০১:১৭ pm ২৮-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:১৭ pm ২৮-০৩-২০১৫
 
 
 


যশোর প্রতিনিধি॥
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) -এর কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব ভঙ্গ করে শনিবার সকালে ছাত্রলীগের নামে ক্যাম্পাসে একদল ছাত্র মিছিল-সমাবেশ এবং কয়েক দফা দাবি উত্থাপন করে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শেখ আবুল হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার এখন ক্যাম্পাসে নেই। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মিটিংয়ে আছেন।
তবে যোগাযোগ করা হলেও বহিষ্কৃত ছাত্রদের তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, ছাত্রলীগের সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারকে অপসারণ, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাছে একটি বোমাও বিস্ফোরিত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।কোতোয়ালী থানার ওসি শিকদার আক্কাস আলী বলেন, ‘৪-৫টা দাবি আদায়ের জন্য ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করেছে।’ তবে বোমা বিস্ফোরণের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মনে হয় বাসের টায়ার ব্লাস্ট হয়েছে।’
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ভিসিকে অপসারণ, দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধসহ বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
প্রসঙ্গত, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত। ছাত্রসংগঠনের প্রচারপত্র, বই-পুস্তক পাওয়ায় এ যাবৎ বেশ কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস হলেও গত বছরের ১৬ মে সুব্রত বিশ্বাসকে সভাপতি ও এসএম শামিম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা করে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি যবিপ্রবি কমিটিকে অনুমোদন দেয়। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন হওয়ায় তখন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই বছরের ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ছাত্রলীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ।
রিয়াদ খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করে। নিহত রিয়াদের মামা বাদী হয়ে যে হত্যা মামলা করেন, তাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ওই দুই নেতাসহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলকে আসামি করা হয়েছে। গত বছর ১৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসে গেলে নিহত রিয়াদের সহপাঠীরা সুব্রতকে ধরে পুলিশে দেয়। আর শামীম চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জামিনে মুক্তিলাভের পর ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে যবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71