রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
যশোরের কেশবপুরে খলিল বাহিনীর বর্বরতার শিকার এক অসহায় পরিবার
প্রকাশ: ০২:২৩ pm ০৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:২৩ pm ০৬-০৬-২০১৭
 
 
 


বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বেলোকাটি গ্রামের মেম্বার খলিল বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে একটি অসহায় পরিবার গত ১৫ দিন ধরে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জমি নিয়ে বিরোধে ওই মেম্বার চাঁদার টাকা না পেয়ে পরিবারটির ওপর একের পর এক হামলা, মামলা, ভাঙচুরসহ তাদের জমি প্রতিপক্ষের দখলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে।ফলে ভয়ে ওই পরিবারের ছেলে মেয়েরা বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের স্কুল যাওয়া।  বর্তমান পরিবারটি উচ্ছেদ আতঙ্কে ন্যায় বিচারের আশায় সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছে। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে গত ২৯ মে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মমতাজ বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ বছর আগে উপজেলার বেলোকাটি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ বিশ্বাসগং একই গ্রামের খোকন সরদারের কাছ থেকে ৫ শতক জমি কিনে তার ওপর বসত ভিটা নির্মাণসহ ভোগ দখল করে আসছেন। গত এক বছর ধরে ওই জমির ভেতর থেকে ৩ শতক জমি একই গ্রামের বিলায়েত মোড়লের মেয়ে সেলিনা খাতুন দাবি করলে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ বিরোধ নিরসনে গত ২০/২২ দিন আগে সংশি¬¬ষ্ট এলাকার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক সালিসি বৈঠক বসে। 
সালিস শেষে চেয়ারম্যান ওই গ্রামের মেম্বার খলিলুর রহমান, কওছার আলী, এক নং ওয়ার্ড মেম্বার হাবিবুর রহমান ও অলিয়ার রহমানকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিরসনের দায়িত্ব দিয়ে চলে আসেন।

শিক্ষক আব্দুল আজিজের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, বিষয়টি নিরসনে এলাকার মেম্বার খলিলুর রহমান তার পবিরারের কাছে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারকে ফাঁসাতে নানারকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যার কারণে সালিসের ২ দিন অতিবাহিত হতে না হতেই ওই মেম্বার সেলিনা খাতুনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে গত ১৫ মে বেলা ১১ টার সময় আমার পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী তান্ডব চালায়। এ সময় মেম্বার খলিলুর রহমান ও কওছার আলীর নেতৃত্বে ২০/৩০ জন যুবক লাঠিসোটা, সাবল নিয়ে তার শ্বশুরের বসতভিটায় প্রবেশ করে পাকা গোয়াল ঘর ভাঙচুর করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ২ টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।বাধা দিতে গেলে মমতাজ বেগমসহ তার বৃদ্ধ শাশুড়ি খতেজান বিবি ও জা নুরুন্নাহার বেগমকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে।

এলাকাবাসির সহযোগিতায় তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর ওই মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের পাকা গোয়াল ঘর ভাঙচুর করে ৩ শতক জমি বাঁশের কুঞ্চির বেড়া দিয়ে ঘিরে সেলিনা খাতুনের দখলে দিয়ে আসে।এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ না করে থানা থেকে বের করে দিয়ে উল্টো আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেই থেকে বাড়িটি পুরুষ শূন্য রয়েছে। ভয়ে তার পরিবার আদালতে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না।

এলাকাবাসি জানায়, শিক্ষক আব্দুল আজিজের পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিলে গত ১৫ দিন ধরে ওই পরিবারের ১২ জন সদস্য অবরদ্ধ জীবন যাপন করছে। বর্তমান তারা দুর্র্ধষ খলিল বাহিনীর ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। প্রথমে পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ না করলেও পরে অন্য মাধ্যমে মামলা নেয়। কিন্তু একজন আসামীকেও পুলিশ আটক না করায় তারা রয়েছেন বহাল তবিয়াতে। বর্তমান পরিবারটি একেরপর এক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে। নির্যাতনের শিকার পরিবারটি অবরুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছে।

মেম্বার খলিলুর রহমান চাঁদাদাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, সেলিনার জমি সেলিনাই দখল করেছে। এখানে আমার কোন হাত নেই। তবে আমি বেড়া তুলে দেয়ার চেষ্টা করছি। যাতে তারা চলাচল করতে পারে।পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তাকে বিষয়টি নিরসনের জন্য বলেছেন। খুব তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে যাতে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।

সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ কবীর হোসেন বলেন, তারা আমার কাছে অভিযোগ দিতে এসেছিল। কিন্তু বিষয়টি বহুদূর গড়িয়ে গেছে। এখন আমার করার কিছুই নেই। তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এলাকার চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিরসনের জন্য বলা হয়েছে।কেশবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে  থানায় কেই কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এইবেলাডটকম/মহসিন/এবি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71