শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
যুবতীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলো দুর্বৃত্তরা
প্রকাশ: ০১:২৫ pm ২৬-১০-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:২৫ pm ২৬-১০-২০১৭
 
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
 
 
 
 


এবার চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হলো হবিগঞ্জের এক তরুণী। ধর্ষণের পর চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় লম্পটরা। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। রবিবার রাতে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে তার মেডিকেল চেকআপ করেন ডাক্তাররা। এতে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কোনো মামলাও করা হয়নি। 

এদিকে ন্যক্কারজনক এ গণধর্ষণের ঘটনায় ফুঁসে উঠছে হবিগঞ্জের বিভিন্ন মানবাধিকার ও মহিলাবিষয়ক সংস্থাগুলো। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শিগগিরই বিচারের দাবিতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। নির্যাতিতা মেয়েটির বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামে। বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছিল দুই বোন ও মাসহ ৩ সদস্যের পরিবার। উপায়ান্তর না পেয়ে হবিগঞ্জের অলিপুরে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি নেন মেয়েটি। যা বেতন পান তা দিয়ে কোনোভাবে কাটছিল অভাবের সংসার। 

প্রতিদিনের মতো রবিবার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাত ৮টায় কোম্পানির কাজ শেষে বাড়িতে যেতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় তার পরিচিত চুনারুঘাট উপজেলার বড়কুটা গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র ট্যাক্সিচালক লিটন তাকে দেখতে পেয়ে তার ট্যাক্সিতে উঠতে বলে। এ সময় গাড়ির পেছনে অপরিচিত দুই যুবকও ছিল। ট্যাক্সিচালক লিটন গাড়িটি শায়েস্তাগঞ্জের দিকে না নিয়ে শাহজীবাজার রাবার বাগানে নিয়ে যায়। তখন মেয়েটি লিটনকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে আরো দুজন যাত্রী আনতে যাচ্ছি।
 
বাগানে নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গম রাস্তায় চলন্ত গাড়িতে অপরিচিত ওই দুই যুবক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সে চিৎকার শুরু করলে লম্পটরা ওই যুবতীর মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে বাগানে ফেলে দিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ওই যুবতীকে উদ্ধার করে সোমবার ভোরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়ায় ওই যুবতীর একটি পা ভেঙে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে লোমহর্ষক এ গণধর্ষণের ফুঁসে উঠেছে হবিগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। 

বুধবার সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা মেয়েটিকে দেখতে যান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। হবিগঞ্জ পারিবারিক নির্যাতন জোট, হবিগঞ্জ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের মানবাধিকারকর্মী রুমা মোদক জানান, এটি হবিগঞ্জের তথা সারা দেশের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি; যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যাতে এ ঘটনায় জড়িত সব লম্পটকে গ্রেপ্তার করা হয়। তা না হলে আমরা তীব্র আন্দোলনে যাবো।
 
পারিবারিক নির্যাতন জোট হবিগঞ্জের সভাপতি কবি তাহমিনা বেগম গিনি জানান, যতই নারী স্বাধীনতার কথা বলা হোক এখনও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তিনি জানান, নিন্দা জানাবার ভাষা আমার নেই। আমরা চাই ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মণীষ চাকমা বলেন, স্থানীয় পত্রিকার সুবাদে ঘটনাটি আমি জেনেছি। মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বজলুর রহমান জানান, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এখন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে তার একটি পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে সার্জারি ডাক্তার তার পায়ের চিকিৎসা করছেন। 

এম/আরডি/


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71