সোমবার, ২৭ মে ২০১৯
সোমবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
যে কারণে যুধিষ্ঠির নরক দর্শন করেছিলেন
প্রকাশ: ১০:০২ pm ১২-০৬-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০২ pm ১২-০৬-২০১৮
 
সন্তোষ চন্দ্র নাথ 
 
 
 
 


একটি প্রবাদ আছে সত্যবাদী যুধিষ্ঠির- পবিত্র মহাগ্রন্থ ‘মহাভারত’-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র। যুধিষ্ঠিরের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল সত্যবাদিতা। যুধিষ্ঠির হচ্ছেন ধর্মপুত্র তাই কোনো প্রকার মিথ্যাবাদিতা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে যায় না । 

‘মিথ্যা বলা মহা পাপ’ এই বেদ বাক্যটি তিনি তাঁর জীবদ্বশায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে কোনো প্রকার কার্পণ্য করেন নি। কিন্তু এই সত্যবাদী ব্যক্তিত্বটি জীবনে শুধুমাত্র একবার সত্যকে আড়াল করার সহযোগিতা করার কারণে তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য নরক দর্শন করতে হয়েছিল। কুরুক্ষেত্রে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের যুদ্ধের এক বিশেষ মুহূর্তে কৌরব বংশের ধর্মগুরু দ্রোণাচার্যকে বিভ্রান্ত করার জন্য পান্ডব বংশ একটি ছলনার আশ্রয় গ্রহণ করে।  যুদ্ধ বিশারদ দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যু সংবাদই হতে পারে তাঁকে দুর্বল করার একমাত্র কৌশল এবং তিনি যুধিষ্ঠিরের কথা ছাড়া আর কারো কথা বিশ্বাস করবেন না।  কিন্তু ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরকে দিয়ে কোনোক্রমে এই প্রকার একটি মিথ্যা বলানো যাবে না। কাকতালীয় ভাবে অশ্বত্থামা নামের একটি হাতি তখন মারা গেছে সে মুহূর্তে।
 
যুদ্ধের ময়দানে বিশেষ অনুরোধে যুধিষ্ঠির বলেছেন ‘অশ্বত্থামা হত ইতি গজ’, যার অর্থ হলো অশ্বত্থামা হাতি মারা গেছে। যুধিষ্ঠির উচ্চৈস্বরে বলেন ‘অশ্বত্থামা হত’ আর খুবই মৃদুস্বরে উচ্চারণ করেন ‘ইতি গজ’। যুধিষ্ঠিরের এই কথা শুনে দুর্দমনীয় অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য মানসিক ভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তিনি অস্ত্র ফেলে দিলে তাঁকে হত্যা করা হয়। সত্যবাদী যুধিষ্ঠির কোনো মিথ্যা বলেন নি শুধুমাত্র একটি লাইনের উচ্চস্বর ও নিম্নস্বরের কারণে তাঁর চরিত্রে মিথ্যার কালিমা লেপন হয়েছিল এবং এই পাপে তাঁকে একবার নরক দর্শনের মতো সাজা পেতে হয়েছিল।

আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত যে মিথ্যার ভরপুরতা, মিথ্যা যেন আমাদের নিত্যদিনের পরম সঙ্গী, আমরা কারণে অকারণে কত মিথ্যার আশ্রয় নেই সারাদিনে কত মিথ্যা বলি, একবারও কি ভাবি ‘মিথ্যা বলা মহা পাপ’।

লেখক-আজীবন সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71