বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
যোগ্য হয়েও হলো না চাকরি, শেষে দেবাশীস মণ্ডলের আত্মহত্যা
প্রকাশ: ০৫:২২ pm ১৬-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:২২ pm ১৬-০৫-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে লেকচারার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। তার মৌখিক পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। চাকরি পাওয়ার শর্তে কর্তৃপক্ষের ঘুষের আবদার পূরণে ১৫ লাখ টাকা জোগাড়ও করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষের দিকে অদৃশ্য সুতার টানে সব আটকে যায়। চাকরি না হওয়ার কথা জানতে পেরে রাগে-ক্ষোভে-অভিমানে দেবাশীস মণ্ডল নামের এই মেধাবী ছাত্র আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। 

এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাকে শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেবাশীস মণ্ডলের ছোটভাই আশিস কুমার বলেন, ভাই পরীক্ষা দিয়ে এসে বাড়িতে ফোন দিয়ে ১০ লাখ টাকা চান। বাকি ৫ লাখ তিনি নিজে দেবেন বলেও আমাদের জানান। আমরা ১০ লাখ টাকা জোগাড়ও করে ফেলেছিলাম, কিন্তু এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে গেল। ভাই জানতে পারেন, কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইজির চাকরি নিশ্চিত হয়েছে। এ চাপ তিনি মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে আমার ভাই।

এর আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর নানা ধাপ পেরিয়ে ১২ মে দেবাশীস ভাইভায় অংশ নেন। এর দুই দিন পরেই তিনি আত্মহত্যা করেন।

জানা গেছে, পবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২৪ এপ্রিল। এতে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার পদে চাকরি প্রার্থী হিসেবে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ দেন ৬ জন। এর মধ্যে দেবাশীস মণ্ডল সব যোগ্যতায় এগিয়ে ছিলেন। তার মৌখিক পরীক্ষাও ভালো হয়েছিল।

দেবাশীসের সহকর্মী একই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, স্যার তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইভা দিয়ে কুষ্টিয়ায় এসে খুব চিন্তিত ছিলেন। ঘটনার দিন সকাল থেকে ফোনে কারও সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছিলেন। এ সময় তাকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আমরা বারবার তাকে জিজ্ঞাস করেও কোনো উত্তর পাইনি। দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে তিনি অফিস ত্যাগ করে বাসায় ফেরেন। কিছুক্ষণ পর আমি ও অন্য আরেক রুমমেটও বাসায় যাই। গিয়ে দেখি ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেতর থেকে আটকানো। অনেক ধাক্কাধাক্কি করে কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা বাড়িওয়ালাকে খবর দিই। পাশের বাসার ৩য় তলার সানশেড থেকে উঁকি দিয়ে তাকে বসা দেখতে পেয়ে দরজা খুলতে অনুরোধ করি। তিনি খুলবেন বললেও আর খুলেননি। একপর্যায়ে আমরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

দেবাশীষের বাবা পরিমল মণ্ডল জানান, চাকরি না দিয়ে আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলল। টাকা ১০ লাখতো ব্যাংকেই ছিল। আমার ছেলেটা ফার্স্ট হয়েও শিক্ষক হতে পারলো না।

এদিকে দেবাশীসের লাশ ময়নাতদন্তের পর তার নিজ বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সৎকার করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পবিপ্রবির বর্তমান ও সাবেক ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) পড়াশোনা করেছেন দেবাশীস মণ্ডল। মৃত্তিকাবিজ্ঞানের ওই ছাত্রের স্বপ্ন ছিল পবিপ্রবির শিক্ষক হবেন। সেভাবেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। অনার্স ও মাস্টার্সে তিনি ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। মাঝখানে কিছুদিনের জন্য তিনি কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। 


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71