শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
স্বামী নাসির উদ্দিন পলাতক
যৌতুকের দাবিতে টাঙ্গাইলে হত্যার অভিযোগ
প্রকাশ: ১২:১২ pm ১৭-১১-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:১২ pm ১৭-১১-২০১৫
 
 
 


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : যৌতুকের দাবিতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঘড়িয়া গ্রামের পারুল আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নাসির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে । পারুলের পিতা কদ্দুছ মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন । অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে । কিন্তু মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষ । মামলা সূত্রে জানা যায় কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নাসির উদ্দিন বাবু ( ২৪ ) ও একই এলাকার কদ্দুছ মিয়ার দশম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে পারুল আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে । পারিবারিকভাবে অসম্মতি জানালে তারা দুইজনে ২০১২ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন । পারুলকে না পেয়ে তার পিতা কদ্দুছ মিয়া ২০১২ সালের ৩১ মে কালিহাতী থানায় একটি জিডি ( ১১৮৭ নং ) দায়ের করেন । পরবর্তীতে পারুলের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন নববিবাহিতরা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন । কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরথেকেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় চরম কলহ । নাসির উদ্দিন যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত পারুলে উপর চালাতে থাকে নিষ্ঠুর, নির্মম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার । অত্যাচার সহ্য করতে নাপেরে পারুল গ্রামে চলে আসেন । নাসির গ্রামে এসে তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে চাইলে পারুল অস্বীকৃতি জানায় । পরবর্তীতে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশে অত্যাচার না করার শর্তে  মীমাংশা করে পারুলকে নাসিরের নিকট তুলে দেয়া হয় । কিছুদিন পর পারুলকে দেখার জন্যে কদ্দুছ মিয়া আশুলিয়ায় গেলে তার মেয়েকে না পেয়ে ফিরে আসেন । তিনি আবার ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ভাড়া বাসায় গিয়ে নাসির উদ্দিনকে পারুলের কথা জিজ্ঞাস করলে সে জানায় পারুল বাসায় নেই । কোথায় গেছে, কবে গেছে এসব প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় কদ্দুছ মিয়া আশেপাশে বিভিন্নস্থানে পারুলের খোজখবর নেন । কিন্তু পারুলের কোন হদিস না পেয়ে কদ্দুছ মিয়া ২০১৫ সালের ৪ আগষ্ট টাঙ্গাইল কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন । মামলায় পারুলের স্বামী নাসির উদ্দিন বাবুকে (১), শাশুড়ী অজুফা খাতুনকে (২) এবং আব্দুল হাকিমকে (৩) নং আসামী করা হয় । মামলা করার পর থেকেই নাসির উদ্দিন পলাতক রয়েছে । পারুলের বাবা কদ্দুছ মিয়া বলেন ওরা আমার ম্যায়াডারে মাইরা ফালাইছে । আবার হত্যাকারীরা বাঁচার জন্য আশুলিয়া থানায় একটি নিখোজ জিডি করেছে । এদিকে মামালার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার তৎকালীন এসআই ছলিম উদ্দিন প্রতিবেদনে পারুল নিখোঁজ হয়েছে তথ্য প্রদান করলে বাদী না রাজি আবেদন করেন ।  অভিযোগ আছে এসআই ছলিম বাদীর নিকট মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেছিলেন । এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব আদালত ডিবির নিকট হস্তান্তর করলে ডিবির এসআই আমিনুল ইসলাম একই ধরনের প্রতিবেদন প্রদান করেন । ফলে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকা করছেন বাদী পক্ষরা । সরেজমিনে কালিহাতীর ঘড়িয়া গ্রামে গেলে নাসির উদ্দিনের প্রতিবেশি শিক্ষিকা নাসিমা বেগম বলেন পারুলের স্বামী, শাশুড়ি ও বোনেরা একেসাথে মিলেমিশে বাড়ির গেট বন্ধ করে পারুলের উপর নির্মম মারপিট করত । আমরা প্রতিবেশিরা বাড়ির বাইরে থেকে কান্না, চিৎকারের শব্দ শুনতে পেতাম । কিন্তু খারাপ লাগলেও ভেতরে যেতে পারতাম না । এছাড়া পারুলকে ২-৩ দিন পর্যন্ত খাবার দেয়া হতোনা । গ্রামের মাতাব্বর মোহাম্মদ আলী মেম্বার ও শহর আলী জানান যৌতুকের দাবিতে পারুলকে অত্যাচার করায় তারা একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ করেছেন । নাসির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি । নাসিরের মা আসামী অজুফা খাতুন হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন পারুল নিখোজ হয়েছে । আমার ছেলে কোথায় থাকে আমি জানি না । তিনি আরো বলেন পারুল পূর্বেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল । তবে প্রতিবেশীরা জানান  নাসির রাতে  বাড়িতে আসে এবং দ্রুত বিদেশে যাবার জন্য চেষ্টা করছে । পারুলের মা মরিয়ম বেগম বিলাপ করে বলেন যৌতুকের জন্য অরা আমার ম্যায়ারে না খাওয়াইয়া মারতে মারতে মাইরা ফালাইছে । আমরা গরিব মানুষ তাই কি বিচার পামু না । খুনিদের ফাঁসি হইলে আমি শান্তি পামু । উল্লেখ্য নাসির উদ্দিন পাশের বাড়ির কলেজ পড়ুয়া আরেকটি মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে । বিয়ের দাবিতে মেয়েটি নাসির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে উঠলে বিয়ে করতে  অস্বীকৃতি জানিয়ে মেয়েটিতে তাড়িতে দেয়।  ঔ মেয়ে অপমান সইতে নাপেরে ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি গোপনে ধামাচাপা দেয়া হয় । গ্রামবাসি লম্পট খুনি নাসির উদ্দিনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন ।

এইবেলা/কাজল আর্য/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71