শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রবীন্দ্রনাথ-সত্যজিৎ মেলবন্ধন
প্রকাশ: ১০:৪০ pm ২৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৪০ pm ২৩-০৪-২০১৭
 
 
 


বিনোদন ডেস্ক : দুজনের জন্ম মে মাসে।রবীন্দ্রনাথের ৭ তারিখ আর সত্যজিতের ৫ তারিখে।

রবীন্দ্রনাথের পর বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের কেউই বিশ্বের দরবারে এতোখানি সম্মান পাননি, যতখানি পেয়েছেন সত্যজিৎ রায়। রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ৬০, সত্যজিতের তখন জন্ম।

সত্যজিতের যখন ১০ বছর বয়স, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায়। সত্যজিতের মা সুপ্রভা রায় ১০ বছর বয়েসি পুত্র সত্যজিৎকে নিয়ে গিয়েছিলেন গুরুর আশীর্বাদ নেবার জন্য।

সত্যজিৎ রবি ঠাকুরের সামনে একটা অটোগ্রাফের খাতা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ খাতার উপর তাৎক্ষণিক সই না করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িতে। পরদিন সকালবেলা সত্যজিত্ রবীন্দ্রনাথের উত্তরায়ণে গিয়ে হাজির হলে ফেরত পান খাতা।

সে খাতার ভেতর লেখা ছিল—‘বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।/ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশির বিন্দু।।’

রবীন্দ্রনাথ-সত্যজিতের সম্পর্ক এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। বরং শুরুটা এখান থেকেই। ১৯৩৭ সালে সত্যজিতের মা রবীন্দ্রনাথের সাহচর্যে নিজ পুত্রকে বড় করতে ভর্তি করেন শান্তিনিকেতনে। সত্যজিতের বয়স তখন ১৬।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু অবধি তিনি শান্তি নিকেতনেই কবিগুরুর স্ব-স্নেহে বেড়ে ওঠেন এবং রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর অনেক পরে সত্যজিৎ যখন চলচ্চিত্রকার হিসেবে আবির্ভূত হন, তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য একে একে বেছে নেন রবীন্দ্রনাথের গল্প উপন্যাস।

সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু গানও ব্যবহার করা হয়েছিল। তার মধ্যে ‘কথাচিত্রে রবীন্দ্রনাথ’, ‘পোস্টমাস্টার’, ‘মণিহারা’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘ঘরে-বাইরে’,‘দেবী’, ‘কাঞ্চনজংঘা’, ‘মহানগর’, ‘অপুর সংসার’, ‘চারুলতা’, ‘কাপুরুষ’, ‘অশনি সংকেত’, ‘শাখা প্রশাখা’, ‘জন-অরণ্যে’, ‘আগন্তুক’ ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গান ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৪৫ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের চলচ্চিত্র-রূপ লেখেন সত্যজিৎ। কিন্তু তখন ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণে তখন তার কাঁচা হাত। এর প্রায় ৪০ বছর পর তিনি নতুন করে চলচ্চিত্ররূপ লিখে ছবিটি তৈরি করেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষে তিনি কবিগুরুর তিনটি ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরি করেন চলচ্চিত্র ‘তিন কন্যা’।

একই বছর তিনি নির্মাণ করেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’। ১৯৬৪ সালে তিনি রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি করেন ‘চারুলতা’। তবে এই ছবি তৈরি করতে গিয়ে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যও বজায় রাখেন।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গভীর মানবতাবাদী। তাঁর প্রতিটি লেখায় প্রকাশ পেয়েছে মানবপ্রেম।সত্যজিৎও তাই। তিনি ছিলেন গভীর মানবদরদী। তাঁর এই দরদ ছিল ভালবাসায় সিক্ত।

শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর যে বিশেষ দুজনের স্নেহ সত্যজিৎ সারা জীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতেন তাঁরা হচ্ছেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু এবং বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়। সত্যজিৎ প্রায়ই বলতেন,শান্তি নিকেতন তাঁকে দুটি বিষয় শিখিয়েছে- ছবি দেখা এবং প্রকৃতিকে চেনা।

রবীন্দ্রনাথের প্রতি সত্যজিতের ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ। এই শ্রদ্ধার প্রমাণ পাওয়া যায় সত্যজিৎ নির্মিত তথ্যচিত্র ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’-এর প্রারম্ভিক মন্তব্যে ‘১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট তারিখে কলকাতা শহরে একজন মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল। তাঁর মরদেহ ভস্মীভূত হয়েছে কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকার কোন আগুনে পুড়বে না। সে উত্তরাধিকার শব্দের,সঙ্গীতের,কবিতার,মননের,আদর্শের।তাঁর শক্তি আমাদের বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে অভিভূত করবে, অনুপ্রাণিত করবে।আমরা তাঁর কাছে বহু ঋণে ঋণী। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রণাম জানাই।’

এইবেলাডটকম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71