শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রমনার বটমূলে বৈশাখের সেই ভয়াল দিন
প্রকাশ: ০৮:৫৫ pm ১১-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫৫ pm ১১-০৪-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : সবকিছু ঠিকই ছিল।  রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। মঞ্চে বাজছিলো গান। চারদিকে মানুষের আড্ডা। হঠাৎ বিস্ফোরণ। সবাই ছুঁটছে দিগ্বিদিক।

এমনই চিত্র ছিল রমনার বটমূলে বৈশাখের ভয়াল সেই দিনে। ২০০১ সালের পয়লা বৈশাখে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে বর্ষবরণের মঞ্চের সামনে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় শক্তিশালী বোমা। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি এবং ১০-১৫ মিনিট পর আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো ২০-২৫ জন। পরে তাদের মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

মামলা
নৃশংস এ ঘটনায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হত্যাজনিত অপরটি বোমা হামলা। অর্থাৎ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দায়ের করা মামলা।

বিচারিক অবস্থা
ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হলেও সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনে করা অপর মামলাটি। দফায় দফায় সমন জারির পরও সাক্ষী হাজির করতে পারেনি পুলিশ। ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিনের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন।

মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউর আব্দুল্লাহ আবু জানান, দুটি মামলার মধ্যে একটির রায় হলেও অপর মামলায় সাক্ষীরা আসতে অবহেলা করছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত সমনও দিচ্ছেন।

হত্যা মামলার রায়
প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় হয়। রায়ে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা
মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ওরফে মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলালউদ্দিন, মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হাই।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা
শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

পলাতক
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর।

স্বীকারোক্তি
২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাকও আদালতের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন।

নিহত হয়েছিলেন যারা
চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার দুবলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩৫), বরগুনা জেলার বামনা থানার বাইজোরা গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে এনায়েত হোসেনের ছেলে জসিম (২৩), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার বিরামকান্দি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এমরান (৩২), পটুয়াখালীর সদর থানার ছোট বিমাই গ্রামের মৃত অবণী ভূষণ সরকারের ছেলে অসীম চন্দ্র সরকার (২৫), পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কাজীপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম গাজীর ছেলে মামুন (২৫), একই গ্রামের সামছুল হক কাজীর ছেলে রিয়াজ (২৫), একই এলাকার আবুল হাশেম গাজীর মেয়ে শিল্পী (২০), নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার রথি রুহিত রামপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ইসমাইল হোসেন স্বপন (২৭), ঢাকার দোহার থানার চরনটসোলা গ্রামের মৃত আয়নাল খাঁর ছেলে আফসার (৩৫) এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।

 

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71