বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রহস্যময় বাক্স: লোভে পা দিয়ে নিঃস্ব একাধিক ব্যবসায়ী 
প্রকাশ: ০৫:৫১ pm ২৭-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:৫১ pm ২৭-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সোনালি রঙের একটি ছোট্ট বাক্স। এর গায়ে খোদাই করে লেখা ইউরেনিয়াম। ২ পাউন্ড ওজনের বাক্সটি খোলা ও বন্ধ করতে রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম। তবে বাক্সের ভেতরের জিনিস আসলে কী তা নিয়ে রয়েছে রহস্য।

এ বাক্স ও এর সঙ্গে থাকা লেদারের ব্লেজার, অ্যালুমিনিয়াম রঙের এক জোড়া গামবুট ও চকলেট রঙের থার্মোমিটার, একটি গ্যাস মাস্ক ও এনালগ ঘিরে পাঁচ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

জানা যায়, কোনো কিছু না বুঝেই একটি প্রতারক চক্রের শতকোটি টাকার বাণিজ্যের লোভে ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী। প্রতারিত এমনই এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটকে। তদন্তে নেমে ক্রেতা সেজে ঢাকা ও আশপাশ জেলায় অভিযান চালান ডিবির কর্মকর্তারা। মাসব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গত ১২ মার্চ কামরাঙ্গীচর এলাকার একটি ফার্মেসি দোকান থেকে সরঞ্জমাদিসহ রহস্যময় ইউরেনিয়াম বাক্সটি উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। গ্রেফতার করা হয় চক্রের আট সদস্যকে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ময়মনসিংহের কথিত মেজর জিন্নাহ ইউরেনিয়াম কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা। তিনি শতকোটি টাকার লোভ দেখিয়ে একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, ইউরেনিয়াম সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এমন লোকজনকে টাকার লোভ দেখিয়ে কথিত এক মেজর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রতারণার শিকার এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতারক চক্রের দাবি অনুযায়ী বাক্সে দুই পাউন্ডের মতো ইউরেনিয়াম রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা। তবে বাক্সতে আসলে ইউরেনিয়াম রয়েছে কিনা- তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য বাক্সটি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মতিঝিলের ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রতারক চক্রের সদস্য নেছার উদ্দিনের। নেছার ওই ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে সখ্য গড়ে তোলে। একপর্যায়ে তাকে মূল্যবান ইউরেনিয়াম কিনে তা শতকোটি টাকায় রাশিয়া, জাপান ও চীনে বিক্রির করা যাবে বলে লোভ দেখায়।

চক্রের সদস্যরা বলে পারমাণবিক শক্তিধর দেশে ইউরেনিয়ামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে সেই টাকায় পাওয়া ইউরেনিয়াম শতকোটি টাকা বিক্রি করা যাবে। ওই কথায় বিশ্বাস করে দুই কোটি টাকা দিয়ে ইউরেনিয়ামসহ সরঞ্জামাদি কিনে নেয় আলমগীর।

শুধু আলমগীরের কাছ থেকে নয়, একই বাক্স ও সরঞ্জামাদি একাধিক ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ কোটি টাকায় বিক্রি করে চক্রটি। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে ইউরেনিয়াম কেনেন ডিবির কর্মকর্তারা।

ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে শতকোটি টাকা বাণিজ্যের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে। যদিও তাদের সরাঞ্জামাদি, ক্যাটালগ আসল। তবে ওই রিমোট কন্ট্রোল বাক্সের মধ্যে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা- সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘চক্রটি বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতারণা করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। আর কেউ যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সে জন্য ক্রেতা সেজে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেফতার হয় চক্রের আট সদস্য।’

গ্রেফতারকৃতরা হল- নেছার উদ্দিন (৪৩), সাহাবুদ্দিন (৫৫), দেলোয়ার হোসেন (৫০), আবদুল হাই (৫৭), শেখ মো. ফেরদৌস (৪৭), সিকান্দার হোসেন চিশতিয়া (৫৯), রুবেল (৩২) ও রাসেল।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, চক্রের সদস্য নেছার উদ্দিন আমার ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থা জেনে আমার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। শতকোটি টাকা বাণিজ্যের কথা বলে আমাকে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে বলে।

সরল বিশ্বাস ও লোভে পড়ে আমি তাদের কথিত ইউরেনিয়াম ক্রয় করি। এরপর ইউরেনিয়াম হস্তান্তর না করে ঘুরাতে থাকে। পরে জানতে পারি আরও একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি বুঝতে পেরে ডিবিতে অভিযোগ করি।’

তিনি আরও বলেন, চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার না হলে আরও অনেক ব্যবসায়ী তাদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হতেন। চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মূলহোতা জিন্নাহকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।সূএ: যুগান্তর

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71