শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রাউধাকে হত্যার প্রমাণ পায়নি মালদ্বীপ পুলিশ
প্রকাশ: ১০:১৬ pm ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:১৬ pm ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


রাজশাহী : রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাউধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির তদন্ত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে।

মামলা দুটির দুই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে মালদ্বীপ পুলিশ ঘটনা তদন্তে রাজশাহীতে এসেও রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি উল্লেখ করে সে দেশের একটি পত্রিকা বুধবার খবর প্রকাশ করেছে।

অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের রাজশাহী মহানগর শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, আমার তদন্ত প্রায় শেষ। শুধু রাউধার ল্যাপটপ ও মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। সেগুলো পেলেই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে। তদন্তে তিনি আত্মহত্যা ছাড়া কিছু পাননি বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর শাহমখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহীন জানিয়েছেন, বুধবার থেকে তিনি মামলাটির তদন্ত শুরু করেছেন। এ দিন তিনি নগরীর নওদাপাড়ায় রাউধার কলেজে গিয়ে লাশ উদ্ধারের কক্ষটি পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না মডেল রাউধা আতিফ। গত ২৯ মার্চ রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়ায় কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহমখদুম থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।

ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাউধার লাশ রাজশাহীতে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে ঘটনা তদন্ত করে যান। পরে গত ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে রাউধার লাশ উদ্ধারের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি বুধবার কলেজ অধ্যক্ষর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। এতেও বলা হয়েছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। কলেজ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

তবে রাউধা হত্যা মামলায় সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মিরে। নিহত রাউধার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল খুব বেশি। মামলার পর সিরাতকে গ্রেফতারের কোনো চেষ্টা চলছে কী না, এমন প্রশ্নে শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে ইংরেজিতে লেখা রাউধা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাউধার ঘরে একটি চেয়ার ছিল, সে ঘরে কোনো টেবিল ছিল না। ওই চেয়ারে উঠে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার একটি মেয়ে কোনোভাবেই সিলিংফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারবে না। তাছাড়া রাউধার ঘাড়ে ও গলায় আঙ্গুলের ছাপ দেখা গেছে।

এজাহারে বলা হয়, সহপাঠী সিরাত পুলিশকে বলেছেন, বদ্ধ ঘরে তিনিই প্রথম রাউধাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। কিন্তু রাউধাকে কে নামিয়েছেন, তা কেউ স্বীকার করেননি। দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকার কথা বলা হলেও দরজার ছিটকিনি ভাঙার কোনো আলামতও দেখা যায়নি। আবার সিরাত ঘটনার কয়েকদিন আগে রাউধাকে এক গ্লাস জুস দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে একটি ট্যাবলেট পাওয়ার কথা রাউধা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রহস্যজনককারণে রাউধার মৃত্যুর পর সিরাত রাউধার ইনস্ট্রাগ্রাম থেকে নিজেকে আনফলো করে নেয়। আবার মৃত্যুর পর রাউধার ইনস্ট্রাগ্রাম আইডি বন্ধও করে দেয়া হয়। ঘটনার রাতের সিসি ক্যামেরার কোনো ফুটেজও নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে। রাউধার বাবা মনে করেন, তার মেয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিচ্ছেন।

যদিও মালদ্বীপের পুলিশ ঘটনা তদন্ত করতে এসে রাউধাকে হত্যার মতো কোনো আলামত পায়নি বলে জানিয়েছে সে দেশের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম মিহারু। মালদ্বীপ পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে মিহারুর অনলাইন সংস্করণে বুধবার বলা হয়েছে, মালদ্বীপ পুলিশ এখনও কোনো আলামত পাননি যেখান থেকে ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলা যায়।

তবে ইনকান্দার কোশিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মালদ্বীপ পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, রাউধার মৃত্যুর পর থেকেই এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার একটি প্রচেষ্টার ব্যাপারে তারা অবগত। সে কারণে এখনও অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে না পেলেও তারা ঘটনার আরো বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবেন। কারণ, রাউধার মৃত্যুর দিনে তার কক্ষের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি, যা সন্দেহের উদ্রেক ঘটিয়েছে।

তবে মালদ্বীপ পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কিংবা রাউধার লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে কিছু ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী তুহীন।

তিনি বলেন, অপমৃত্যুর ধরে যে তদন্ত চলছে, সেদিকে আমি তাকাচ্ছি না। মালদ্বীপ পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়েও কিছু জানি না। আমি একটি হত্যা মামলার তদন্ত করছি এবং সেভাবেই এগোচ্ছি। তদন্ত যা পাওয়া যাবে সেভাবেই অভিযোগপত্র হবে।

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71