বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রামায়ণ ও মহাভারতে কারা নীরব থেকেছেন
প্রকাশ: ০১:২৬ pm ১২-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:২৬ pm ১২-০৯-২০১৭
 
 
 


‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’-এ বেশিরভাগ চরিত্রই কথার তুবড়ি— এমন একটা মন্তব্য করলে আজকে ব্যাস-বল্মিকীর রেগে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। কার্যত, দুই মহাকাব্য জুড়ে কথাই শেষকথা। কথা থেকে কথায় গড়িয়ে যাওয়া এই দুই আখ্যানের প্রায় প্রতিটা চরিত্র বাঙ্ময়, অতিমাত্রায় বাঙ্ময়। এই বিপুল সংলাপ, স্বগতকথন, উপদেশ ইত্যাদির মধ্যে আশ্চর্য রকম ভাবে নীরব থেকেছেন কেউ কেউ। দুই মহাকাব্যেই তাঁদের দেখা গিয়েছে। একটিতে হয়তো তাঁরা সরব, অন্যটিতে নীরব। কিন্তু হিসেব করে দেখতে গেলে তাঁরা দুটিতেই বেশ মিতবাক। দেখা যাক তেমন কিছু চরিত্রকে।

• বিভীষণ— রামায়ণের খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সময় বিশেষে সরবও।কিন্তু তিনি মহাভারত-এও উপস্থিত। যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন। যুধিষ্ঠিরকে প্রভূত উপঢৌকনও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও কোনও বক্তব্য রাখেননি।

• কুবের— রামায়ণ-এ কুবেরের উল্লেখ রাবণের ভ্রাতা হিসেবে। তিনি স্বর্ণলঙ্কার স্রষ্টা। কিন্তু তিনি রাবণের দ্বারা বিতাড়িত হন। মহাভারত-এ কুবের উপস্থিত রয়েচেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসার পরে যুধিষ্ঠির এক ভয়াবহ খরা এবং খাদ্যাভাবের সম্মুখীন হন। তিনি ভীমকে কুবেরের কাছে পাঠান শস্য প্রেরণের ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে। কুবের এখানে একেবারেই পশ্চাদপটে বিদ্যমান।

• পরশুরাম— রাম-সীতার বিবাহ মণ্ডপে সহসাই আগমন ঘটেছিল এই উগ্রস্বভাব বীরের। হরধনুভঙ্গের খবরে পরশুরাম বিস্মিত ছিলেন। মাহাভারত-এ পরশুরাম উল্লিখিত। তিনি ভীষ্মের গুরুদেব। পরে অম্বার অপহরণ বিষয়ে পরশুরাম রুষ্ট হন এবং ভীষ্মের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয়। দুই মহাকাব্যেই পরশুরাম মিতবাক। 

• ময় দানব— দানব বংশীয় ময় এক আশ্চর্য স্থপতি। রামায়ণ-এ তিনি রাবণের শ্বশুর। তাঁর সম্মতি ব্যতিরেকেই মন্দোদরী রাবণকে বিবাহ করেন।মহাভারতে খাণ্ডব দাহনের কালে কৃষ্ণ এবং অর্জুন ময়ের প্রাণরক্ষা করেন। পরে ময়কে দিয়ে পাণ্ডবরা হস্তিনাপুরে এক বিশালাকার প্রাসাদ নির্মাণ করান। ময় সেই প্রাসাদে স্থাপত্যমায়ার অসামান্য নিদর্শন রাখেন। কিন্তু ময়ের সংলাপ বলে তেমন কিছু দুই গ্রন্থেই পাওয়া যায় না।

• পবনদেব— রামায়ণ-এ পবনদেব হনুমানের পিতা। হনুমানের মা অঞ্জনা পুত্রলাভের উদ্দেশ্যে তপস্যা করছিলেন। পবন তাঁর সামনে আবির্ভূত হন এবং শিবের প্রসাদ দান করেন। সেই প্রসাদের মাহাত্ম্যেই অঞ্জনা হনুমানকে পুত্র হিসেবে লাভ করেন। মহাভারতে প্রায় একই ভূমিকায় দেখা যায় পবনদেবকে। পাণ্ডুর সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতাহেতু কুন্তি পাঁচ দেবতাকে আহ্বান করেন। পবন আবির্ভুত হয়ে ভীমের জন্ম দেন। কিন্তু দুই কাব্যেই তিনি অসম্ভব নীরব।

• জাম্ববান— রামায়ণ-এ জাম্ববান রামের লঙ্কা অভিযানের অন্যতম সঙ্গী। রাবণকে পারহত করতে তাঁর সাহায্য ছিল অপরিসীম। কিন্তু তিনি বেশ নীরব চরিত্র। মহাভারত-এ জাম্ববান কৃষ্ণের দ্বারা পরাস্ত হন। কৃষ্ণকে স্যমন্তক মণি প্রদান করেন এবং কন্যা জাম্ববতীর সঙ্গে কৃষ্ণের বিবাহও দেন। এখানেও তিনি কথা কমই বলেছেন। 

আরডি/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71