শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
নারী দিবসের অনুপ্রেরণা
রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তা
প্রকাশ: ০৯:৪৮ pm ০৮-০৩-২০১৬ হালনাগাদ: ০৯:৫৬ pm ০৮-০৩-২০১৬
 
 
 


এইবেলা ডেস্ক: বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দিন দিন বাড়ছেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও রয়েছে নারীর গৌরবোজ্জ্বল পদচারণা। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি পদক পেয়েছেন তিন জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন মুক্তা ধর, মাকসুদা আক্তার খানম ও শাহনাজ পারভীন। গত ২৬ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁদেরকে প্রদান করা হয় এই সম্মানজনক ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম-সেবা)। 

মুক্তা ধর, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ।


রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত অন্যতম কৃতী পুলিশ কর্মকর্তা হলেন মুক্ত ধর। ঢাকা মহানগর পুলিশের ৪৯টি থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত মামলা উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে হস্তান্তর করা হয়। এই মামলার তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তা ধর। 

এ প্রসঙ্গে মুক্তা ধর বলেন, আমার সঠিক তদারকি ও নির্দেশে তিন শতাধিক নারী-শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন ও রহস্য উন্মোচন হয়। এটা সম্ভব হয়েছে আমি একজন নারী বলে। কারণ ধর্ষণ, অপহরণ, ধর্ষণ-অপহরণের পর হত্যা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ইত্যাদি মামলা একজন পুরুষ তদন্ত করলে ভিকটিম তাদের কাছে সহজ হতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুর সমস্যাগুলো একজন নারী তদন্ত কর্মকর্তা এমনভাবে তদন্ত করেন যে, দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হয়। কারণ একজন নারীর কাছে আরেকজন নারী সহজভাবে ঘটনার বিবরণ দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। এ ছাড়া কাজের প্রতি একজন নারীর দায়িত্ববোধ থেকে সত্য উদঘাটনে সফল হন। এর ফলে সঠিক রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়।

এভাবে অসহায়, বিপদগ্রস্ত নারীদের পাশে থেকে কাজ করছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক নারী স্বামী দ্বারা নির্যাতনের কথা ফোনের মাধ্যমেও জানায়। তাদের প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করি মামলা না করেও সংসার কিভাবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। কারণ একটু ভুলের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে সন্তানেরা বাবা-মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়।

দিনাজপুরের মেয়ে মুক্তা ধর ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। জোনাল এসিএফএ ট্রাফিক সবুজবাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর জোনে তিনি সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সারদা পুলিশ একাডেমির সমাপনী কুচকাওয়াজে কনটিনজেন্টের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে বিজয় দিবস এবং ২০১১ সালের পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে নারী কনটিনজেন্টের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সেরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে পেয়েছেন আইজিপি (গুড সার্ভিস ব্যাজ) পুরস্কার।

বাবা বিনয় ভূষণ ধর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে বাবাকে হারান তিনি। মা জ্যোৎস্না রানী ধর তার সঙ্গেই থাকেন। তাদের একমাত্র সন্তান চার বছরের দিব্যকে নিয়েই সময় কাটে তার মায়ের। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মুক্তা বোনদের মধ্যে সবার ছোট।  


মাকসুদা আক্তার খানম, সিনিয়র এএসপি, মিডিয়া অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিসার্চ উইং, স্পেশাল ব্রাঞ্চ

২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন মাকসুদা আক্তার খানম। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। 

মাকসুদা আক্তার খানম ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের আইনশৃংখলা অবস্থা সমুন্নত রাখতে, দেশের ক্ষয়ক্ষতি ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কর্তব্যনিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মেয়ে মাকসুদা আক্তার খানম। বাবা নূর মোহাম্মদ খান বাংলাদেশ জুট মিলের অবসরপ্রাপ্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। মা পিয়ারা নূর বেগম গৃহিণী। স্বামী ড. খান আসাদুজ্জামান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সফেন’ এর নির্বাহী পরিচালক। তার দুই মেয়ে ঐশ্বর্য এবং ঐশিকা পঞ্চম ও শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিন বোনের মধ্যে তিনি বড়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স পাস করে ২০০৪ সালে একটি বেসরকারি কলেজে যোগদান করেন। কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি ২০০৫ সালে এমএ করেন। এরপর ২০০৭-০৮ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন। তার তিন বোনই বিসিএস ক্যাডার। সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১০ সালের জুলাই মাসে মাকসুদা আক্তার খানম এএসপি পদে স্পেশাল ব্রাঞ্চে যোগদান করেন। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পুলিশ সায়েন্সের ওপর এক বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ডিআর কঙ্গোতে ২০১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউএন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করেন।


শাহনাজ পারভীন, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বরিশাল মহানগর পুলিশ

মানুষের সেবা করাই আমার জীবনের মূল লক্ষ্য। তাই বলে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এত তাড়াতাড়ি পুরস্কার পাব আশা করিনি। পুরস্কারপ্রাপ্তি সত্যি আনন্দের।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পাওয়ার অনুভূতি এভাবেই ব্যক্ত করেন বরিশাল মহানগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহনাজ পারভীন।

বরিশালের গৌরনদীর মেয়ে শাহনাজ পারভীন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে ২০০৯ সালে অনার্স এবং ২০১০ সালে মাস্টার্স করেন। বাবা এমএ রশিদ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। মা সাফিয়া বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০১২ সালে ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছর প্রশিক্ষণ শেষে মাদারীপুর জেলা পুলিশে শিক্ষানবিস পুলিশ হিসেবে ছয় মাস কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদান করেন।

শাহনাজ পারভীন নির্যাতনের শিকার ৯৫ জন নারী ও শিশুকে সেবা প্রদান করেন। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এর পাশাপাশি সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুকে আইনি সেবা প্রদান করেন। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের কাছ থেকে কতটুকু সহযোগিতা পাচ্ছেন জানতে চাইলে শাহনাজ পারভীন এইবেলাকে বলেন, বাবা-মা, ভাই-স্বামী-মেয়ে এবং কর্মক্ষেত্রে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সবার সহযোগিতা পাওয়ার কারণেই আজ আমার এই সফলতা। আমার স্বামী মো. মনিরুজ্জামান সহকারী অধ্যাপক হিসেবে একটি কলেজে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় আট বছর বয়সী মেয়ে মাইশা মেহ্রীনকে নিয়েই আমাদের ছোট্ট পরিবার। বর্তমানে আমি সাভার লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণরত রয়েছি। 


এইবেলাডটকম/এমআর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71